Untitled Document
মাঘ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
এ্যালবাম
 


 

সলিল চৌধুরী

১৯২২ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগণার গাজিপুরে সলিল চৌধুরী’র জম। মায়ের নাম বিভাবতী দেবী। বাবা জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরী। তার শৈশবের বড় একটা অংশ কেটেছে আসামের চা বাগানে। তার বাবা সেখানে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। শৈশব থেকেই তার বাবার  সংগ্রহ থেকে পাশ্চাত্যের ধ্রুপদী সংগীত এবং বাংলা ও আসামের লোকসংগীত শোনার মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন। জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরী চা বাগানের কুলি-মজুরদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। মজুরদের শোষণ-বঞ্চণা উপলব্ধি করে ব্রিটিশ বিরোধী অবস্থান গড়ে উঠেছিলো পিতা-পুত্রের মধ্যে। চা বাগানের এক ব্রিটিশ ম্যানেজার তাকে গালি দেয়ায় সলিল চৌধুরীর বাবা কষে এক চড় মেরেছিলেন এবং সামনের তিনটি দাঁত ফেলে দিয়েছিলেন। সুরের জগত নিয়ে বড় হয়েছেন এবং সুর দিয়ে ভালোবাসা আর প্রতিবাদের ভাষা ব্যক্ত করেছেন সলিল। তিনি বাঁশি, এস্রাজ, ভায়োলিন এবং পিয়ানো বাজাতেন অসাধারণ।







শিল্পীঃ সলিল চৌধুরী
Download These Files





 
 

গত শতকের চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশক জুড়ে সলিল চৌধিরী একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে ছিলেন। কবিতা, গান, সুর দেয়া- সব ক্ষেত্রেই তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিটোভেন-এর সিম্ফনি, মোৎসার্টের জি-মাইনর ফর্টিএথ সিম্ফনি, ই-মাইনর, জি-মাইনর কর্ডের প্রতি তার অনুরাগ থেকেই বাংলা ও হিন্দি ভাষায় উপহার দিয়েছেন অনেক ভালোলাগার গান ও সুর।
গত শতকের পঞ্চাশের দশকে তিনি গঠন করেন ‘বোম্বে ইউথ কয়্যার’। তার মধ্যে ছিলেন মুকেশ, অনিল বিশ্বাস,মান্না দে, লতা মঙ্গেশকর, প্রেম ধাওয়ান, নৌশাদ, রুমা গুহঠাকুরতা প্রমূখ। তবে তার রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশের গোড়া থেকেই সাধারন মানুষের কথা ভাবতেন। তেভাগা আন্দোলন শুরুর বেশ আগেই ১৯৩৯ সালে তিনি কৃষক আন্দোলনের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। নদীর বানে কৃষকের দুরবস্থায় তিনি গান লিখলেন,‘দেশ ভেসেছে বানের জলে ধান গিয়েছে মরে, ‘কৃষক সেনাদের মুষ্টি তোলে আকাশে’।’ পঞ্চাশের মণ্বন্তরে তিনি লিখে যান একের পর এক গান, “তোমার বুকে খুনের চিহ্ন খুঁজি এই আঁধারের রাতে”,“পৌষালি বাতাসে পাকা ধানের
বাসে”,“আয় বৃষ্টি ঝেঁপে ধান দেব মেপে”। তার লেখা গণসংগীত অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ছাত্র-মজুর-কৃষক সহ সকল অধিকার বঞ্চিতদের।
তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হারাণের নাতজামাই’ গল্প নিয়ে সলিল চৌধুরী চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কার্তিক পাইক। সেখানে তিনি নিজেই সঙ্গীত পরিচালনা করেন। তেভাগা ও কৃষক জীবন নিয়ে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল ‘ছিন্নমূল’, ‘দো বিঘা জমিন’ (কাহিনীকার সলিল চৌধুরী), ‘রিকসাওয়ালা’ ও ‘ছোটবকুলপুরের যাত্রী’।
১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

-আকবর হোসেন

Untitled Document
 
Total Visitor : 698424
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard