Untitled Document
মাঘ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
মাতামহ ও কাননবালার গান
- ফেরদৌস নাহার
 


আমি জানি আমার সময় থেকে তার সময়
বিস্তর ব্যবধানের অভিধান খুলে বসে আছে,
কেবল আমার নানাজানের অভিজ্ঞ শ্রুতি
আজও উৎকীর্ণ শুনে যায় কাননবালার গান
চল্লিশ দশকের সুর ভেসে আসে আমার পৃথিবীতে।

উত্তরবঙ্গের লালমাটির ঘনধুলায় মিশে আছে প্রেম
কাটিয়ে আসা কত না প্রহর, লালমনির হাট কিংবা
বোনারপাড়া- যে কোনো স্টেশনে ফেলে আসা কাননের গান
আজও তাকে পিছু ডাকে, জীবনের বহু প্রতীক্ষা
বয়ে গেছে কাননের গানকে সঙ্গী করে। যদিও
সে-সব আমি চোখে দেখিনি, শোনা কথা। তবুও
মনে হয় সে-সময় আমিও ছিলাম।

বয়ঃসন্ধিকালের কোনো একদিন একটি পেপার কাটিং
সহসাই পেয়েছিলাম নানাজানের পুরানো কাঠের ড্রয়ারে
ঈষৎ হলদে বর্ণ ধারণেও অনেক জীবন্ত ছিল সে-ছবি
আর সেই থেকে কাননবালার মুখ আমার হৃদয়ে
একটুও যায়নি বুড়িয়ে, স্থির সে-বয়সেই আছেন।

কাননবালা সুদীর্ঘ বন্দরের নাম, জলরেখা ছোঁয়া
সেখানে দাঁড়িয়ে আছে অগণিত জাহাজ-মাস্তুল
এক দুই তিন করে সবকটা জাহাজ গুণে গেলেও
আমি তার প্রথম-লগ্নের স্পর্শ পাব না কখনো,
অনেক অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছে বাগানের সুর
জীবনের ফেলে আসা সোনালি সুদূর প্রিয়-ভোর।

পুরানো রেকোর্ডে বাঁধা বনফুল-কন্যার অনিন্দ্য গান
এখন এই পূর্ণযৌবনে এসেও আমাকে উদাস ডাকে
মাতামহের অনাদি প্রণয়প্রীতি উদ্ধারে আনমনা করে।
এডিসনের গ্রামোফোনে কাননের পুরানো রেকোর্ড
দুলে দুলে ঘুরে ঘুরে বাজে আর সে-দিকে তাকিয়ে
স্পষ্ট দেখতে পাই- নানাজান ধরছেন জড়িয়ে
প্রচণ্ড আবেগ আর পরোক্ষ প্রেমে কাননবালার গান। 
     
Untitled Document

ফুল
Total Visitor : 708660
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :