Untitled Document
মাঘ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
সুদহীন ঋন – নজরুল ইসলাম ওরফে ছানা তালুকদার
(গ্রামে গ্রামে ঘুরে গরিব মানুষের মধ্যে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ,আক্কেলপুর এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের অভাবী মানুষের সচ্ছলতার মুখ ।)
- এস এম নাজমুল হক ইমন

পৃথিবীতে কত ধরনের মানুষ আছে তা বলা সহজ কথা নয়। কারন একেক জন একেক কিছিমের মানুষ। নানা ঘটনা বা অবাক করা কিছু ঘটিয়ে বা দেখিয়ে সবাইকে যেমন তাক লাগালই তেমন তার নিজ এলাকায় হয়ে ওঠে এক আজব বা রহস্য মানুষ হিসাবে পরিচিত। তেমনি এক বিচিত্র মানুষ নজরুল ইসলাম। তার ডাকনাম ছানা তালুকদার। গ্রামের বিত্তশালী পরিবারে জন্ম। জন্মের ১০ বছর পর থেকে একটানা ৫০ বছরে একদিনের জন্যও গোসল করেননি। আরো মজার ব্যাপার লুঙ্গি ছাড়া অন্য কোনো বস্ত্রও গায়ে জড়াননি তিনি এই ৫০ বছরে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় দিন যাপন চলছে একই ধারায়। অবাক করার মতো একটি ঘটনা নায়ক নজরুল ইসলাম ওরফে ছানা তালুকদারের বসবাস জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মিনিগাড়ী গ্রামে। বাবা মৃত আব্দুল করিম তালুকদারের ছয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছানা তালুকদার পঞ্চম। বর্তমান বয়স ৬০ বছর। পারিবারিক সূত্র জানায়, অবিবাহিত ছানা তীব্র শীতে যখন মানুষ কাপড় পরেও থরথর করে কাঁপে, তখনো তিনি শুধু লুঙ্গি পরে খালি গায়েই থাকেন। বাড়ির অদূরে মাটির একটি বৈঠকখানায় কাঠের চৌকিতে ঘুমান। বড় ভাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান তালুকদার বলেন, 'ছোটবেলায় ছানার মৃগীরোগ ছিল। চিকিৎসার পর সচরাচর সেটি আর হয় না। তবে জীবনাচরণে অস্বাভাবিকতা আছে। জীবনে কোনো আত্মীয়ের বাড়ি যায়নি। কারো সঙ্গে কোনো দিন সে বিবাদেও লিপ্ত হয়নি।' তার ঘরে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার থাকে। যেগুলো তিনি প্রতিবেশীদের খাওয়ান। বড় ভাইয়ের বাড়িতে নিয়মিত ভাত খেলেও সারা দিন তিনি বাইরে কাটান। পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ২৫ বিঘা জমি ছানার রয়েছে এবং এর আয়-ব্যয়ও তিনি নিজেই নির্বাহ করে থাকেন।

গ্রামবাসীদের একজন জানান, বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর সময় তাঁর কাছে সব সময় লুঙ্গির গোছায় রক্ষিত বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে অনেকেই হাত বাড়ালে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত কর্জ হিসেবে সাহায্য করেন। আবার এক বছর পর হলেও তাঁর কাছ থেকে সে টাকা ফেরতও নেন। তবে কোনো সুদ বা উপঢৌকন গ্রহণ করেন না।
কাপড় না পরার কারণ জানতে চাইলে ছানা তালুকদার বলেন, 'কাপড় গায়ে দিয়ে কী হবে?' তার কাছে যখন জানতে চাওয়া হলো শীত লাগে কি না? এই প্রশ্নের কোন জবাব দেননি। ছানার সমবয়সী মোমিন আহমেদ জানান, অযত্নে সুদর্শন ছানা এখন ক্রমান্বয়ে রুগ্ন হয়ে পড়ছেন। ছানার বাল্যবন্ধু ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তালুকদার জানান, ছোট থেকেই তাঁর জীবন যাপনের রহস্য বন্ধু হয়েও জানতে পারেননি। স্থানীয় মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বকুল জানান, তাঁকে খালি গায়ে পথে চলতে-ফিরতে দেখেন, কথা বললে শুধু হাসেন, তবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ছানা বিনা সুদে ঋণ বিতরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। ছানার দেওয়া অর্থ সাহায্য নিয়ে নিজ গ্রামসহ পাশের আক্কেলপুর এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার  অন্তত ২০টি গ্রামের অভাবী মানুষ সচ্ছলতার মুখ দেখেছে। এদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে যাঁদের পরিচয় জানা গেছে তাঁরা হলেন মিনিগাড়ী গ্রামের পরিবহন শ্রমিক নুরুল ইসলাম, প্রতিবেশী গরিব কৃষক আবুল কাশেম, পার্শ্ববর্তী মামুদপুর গ্রামের বেলাল হোসেন, আক্কেলপুর উপজেলার খলিশ্বর বাঁকপাল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার ডিমশহর গ্রামের আসাদ আলী। নুরুল ইসলাম ছয় মাসের জন্য নিয়েছিলেন ১০ হাজার, কৃষক আবুল কাশেম পাঁচ হাজার টাকা এবং বেলাল নিয়েছিলেন ৪০ মণ ধান। এ ছাড়া দুজন দুটি রিকশাভ্যান কিনেছেন।

     
Untitled Document

ফুল
Total Visitor : 709336
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :