Untitled Document
ফাল্গুন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
ধ্রুপদী থেকে (মুহম্মদ খসরু সম্পাদিত পত্রিকা) ক্ষুধার নন্দনতত্ত্ব
- গ্লাউবরে রউসা


(পূর্ব প্রকাশের পর)

ক্ষুধার সবচেয়ে মহৎ প্রকাশ ঘটাতে পারে প্রচণ্ড সহিংসতা।

ক্ষুধার্তের জন্যে যে সহিংসতাই স্বাভাবিক আচরণ, সেই সত্যাটি উন্মোচন করে ‘সিনেমা নোভো’। অভুক্ত জনের পক্ষে সহিংসতা আদিম মনোবৃত্তির পরিচায়ক নয় মোটেও। ঋধনরধহড় কি আদিম? ঈড়ৎরংপড় কি আদিম? চড়ৎঃড় ফধং ঈধরীধ - এর মহিলাটি কি আদিম? “সিনেমা নোভো” শেখায় যে সহিংসতায় নন্দনতত্ত্ব আদিম। বরং বৈপ্লবিক। সহিংসতার মুহুর্ত হচ্ছে সেটাই যখন উপনিবেশকারীরা উপনিবেশিতদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়। কেবল যখন তারা সহিংসতার মুখোমুখি হয় তখনই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে তারা বুঝতে পারে যে সংস্কৃতিকে সে প্রবঞ্চিত করেছে তার শক্তি কী রকম। অস্ত্রধারণ করবার পূর্ব পর্যন্ত উপনিবেশিত ব্যক্তি ক্রীতদাস থেকে যায়। ফরাসিরা আলজেরীয়দের সম্পর্কে সচেতন হবার পূর্বে প্রথম পুলিশকে নিহত হতে হয়েছিল।

নৈতিকতার বিচারে এই সহিংসতা ঘৃণায় পূর্ণ নয়। কিংবা পূর্বতন উপনিবেশিক মানবতাবাদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়। এই সহিংসতার সঙ্গে যে ভালবাসার উপাদান জড়িত রয়েছে তা হিংস্রতার মতোই নৃশংস, কারণ যে ভালবাসা উৎসারিত হয় সন্তুষ্টি কিংবা সুচিন্তিত বিবেচনা থেকে ওটা সে-রকম নয় বরং এর উৎস হল কর্ম ও পরিবর্তনশীলতার প্রতি অনুরাগ।

‘সিনেমা নোভো’ কে নিজের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি দেখাবার দিন গত হয়েছে। ‘সিনেমা নোভো’ এখন এমন একটি চলমান অনুসন্ধানী প্রক্রিয়া যা ক্ষুধার দৌর্বল্য সৃষ্টিকারী প্রাপ থেকে মুক্তি দিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনাকে করেছে স্বচ্ছতর। লাতিন আমেরিকা মহাদেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার প্রান্তিক অবস্থানে থেকে ‘সিনেমা নোভো’ কার্যকরভাবে উন্নতিলাভ করতে পারে না। কারণ নতুন চলচ্চিত্র ব্রাজিলের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধায়ী সত্তা নয়, বরং সর্বত্র সকল বিরোধিতা করে সত্যকে প্রকাশ করতে প্রস্তুত কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতা যেখানেই আছেন, সেখানেই ‘সিনেমা নোভো’র জীবন্ত মানস মনন ক্রিয়াশীল হবে।

বাণিজ্যিক মনোভাব, শোষণ, অশ্লীল চলচ্চিত্র এবং কলাকৌশলগত দৌরাত্মের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে প্রস্তুত চলচ্চিত্র নির্মাতা যেখানেই থাকবেন, সেখানেই বিকশিত হবে ‘সিনেমা নোভো’র প্রাণময় চেতনা। একজন চলচ্চিত্রকার যদি তার নির্মিত চলচ্চিত্র এবং তার পোশাকে সমকালীন মহৎ উদ্দেশ্যসমূহের সেবায় অর্পন করতে প্রস্তুত থাকেন তবে সেখানেই ‘সিনেমা নোভো’র পার্থক্যের এটিই হচ্ছে যথার্থ সংজ্ঞার্থ, কারণ বাণিজ্যিক চলিচ্চিত্র অসভ্য ও শোষণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতার ওপর নির্ভর করছে বাণিজ্যিক তথা পণ্যোপম চলচ্চিত্রের সঙ্গে ‘সিনেমা নোভো’র সমকক্ষতা লাভ। এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ‘সিনেমা নোভো’ এককভাবে নিজের নামে, অথবা তার অব্যবহিত নিকটবর্তী ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী সহযোগী (যাদের মধ্যে অজ্ঞ থেকে শুরু করে প্রতিভাবান, দুর্বলতম থেকে শুরু করে শক্তিমানতম রয়েছে) সকলের সঙ্গে একযোগে সম্ভাব্য সকল প্রকার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এটি এমন একটি নৈতিক প্রশ্ন যা আমাদের চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হবে, আমাদের চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কোনো মানবচরিত্র বা বাড়ি যাই হোক না কেন, কী ধরনের খুঁটিনাটি (ডিটেইলস্) চিত্রায়িত হচ্ছে তাও এ ক্ষেত্রে ততো গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি একটি কোনো নির্দিস্ট চলচ্চিত্র নয়, বরং ক্রমবিকাশমান জটিল এক চলচ্চিত্ররাশি যা অবশেষে জনসাধারণকে তাদের দুরবস্থা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

এই াকরণেই বিশ্ব চলচ্চিত্রের সঙ্গে আমাদের কারিগরী ও শৈল্পিক অংশগ্রহন ছাড়া প্রশস্ত কোনো বিষয়ে তেমন যোগসূত্র নেই।

‘সিনেমা নোভো’ হল এমন একটি প্রকল্প যার উদ্ভব ও সমৃদ্ধির মূলে রয়েছে ক্ষুধার রাজনীতি এবং এই কারণেই ঐ রাজনীতিসঞ্জাত সকল প্রকার অবশ্যাম্ভাবী দুর্বলতার শিকার ও হতে হচ্ছে ‘সিনেমা নোভো’ প্রকল্পকেই।

অনুবাদ : সৈয়দ তারিক

     
Untitled Document

মডেল পুক
Total Visitor: 708377
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :