Untitled Document
ফাল্গুন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
 



ফুলবাড়ীর প্রবহমান জীবন ও সংগ্রাম

ছবি – ১
আল-আমীনের মা, ২০০৭। আল-আমীন ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গুলীতে মারা যায়। আল-আমীনের তখন বয়স ছিল ১৩ বছর। ফুলবাড়ীতে অবস্থিত এশিয়া এনার্জির অফিস ঘেরাও করা ছিল সেদিনের কর্মসূচি। আল-আমীন তাদের গ্রামের আর সকল পুরুষ সদস্যদের সাথে সেদিন গিয়েছিল তাদের এলাকায় উন্মুক্ত কয়লা খনি করার প্রকল্প বাতিলের দাবী নিয়ে। আল-আমীনের মা ছেলেকে স্বরণ করেন তার ছেলের হাতের বোনা গাছ, পোষা মুরগী দেখে আর চোখের পানি ফেলে।

ছবি -২
বাবলু রায় ও সন্ধ্যা রানীর পরিবার, ২০০৭। ২০০৬ এর ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জি অফিস ঘেরাও কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ কালে রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর গুলী মেরুদন্ডে লাগে বাবলু রায়ের। সেই সময়ে তিনি ছিলেন ফুলবাড়ীর ২৬ বছর বয়সী এক তরুন ভ্যানরিক্সা চালক। এক বছর পর বিভিন্ন হাসপাতালে সবোর্চ্চ চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।

ছবি -৩
নুরুন্নাহার এবং তার কণ্যা, ২০০৭। ২০০৬ এর ২৬ আগস্ট রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সহিংস আক্রমনে উন্মুক্ত খনি বিরোধী মিছিলের ৩ জন নিহত ও ২০০ জনের বেশী আহত হওয়ার পরের দিন নুরুন্নাহার আর তার গ্রামের মেয়েরা নিয়েছিল সাহসী ভূমিকা। সে সময়ে নুরুন্নাহার ছিল ২ মাসের অন্তস্বত্তা। উন্মুক্ত কয়লা খনি বিরোধী পুরুষদের মিছিল বের করতে বাধা দিতে পুলিশ, বিডিআর, ড়্যাব নুরুন্নাহারদের গ্রামে ঢুকতে শুরু করলে মেয়েরা সংগবদ্ধ হয়ে মিছিল বের করে। সেদিন বাঁশ হাতে নুরুন্নাহার ছিল সবার সামনে। ৩০ আগস্ট “ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তি” স্বাক্ষর করে সরকার আর নুরুন্নাহারেরও এক লড়াই শেষ হয়।

ছবি -৪    
দেয়াল লিখন, ২০০৭। ২০০৫ এ আন্দোলন শুরু হবার পর থেকে উন্মুক্ত খনি বিরোধীতা প্রকাশে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে ফুলবাড়ীর “বড়রা” শ্লোগান লিখছে। চুলার কয়লা দিয়ে কালি বানিয়ে পাড়ার শিশূ কিশোররাও তাদের দেয়াল সাজাতে পিছিয়ে ছিল না। সেরকম একটি সাধারণ আর ভুল বানানে লেখা একটি শ্লোগান।

ছবি – ৫
রেনু, ২০০৭। ফুলবাড়ীর আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতই রেনু সংসার দেখাশোনা করে তার দায় দায়িত্ব পালন করে। “বড় বড়” বিষয় তার বোঝার কথা নয়। বোঝার কথা নয় “১% জিডিপি বৃদ্ধি”, শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নয়া সাম্রাজ্যবাদ কিংবা বহুজাতিক তেল কোম্পানীর সাথে দেশীয় শাসক শ্রেণীর বন্ধন। কিন্তু ফুলবাড়ির অভিজ্ঞতা তাকে সবকিছুই বুঝতে বাধ্য করেছে। আসলেই সে বুঝেছে বাংলাদেশের জন্য কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। সে বুঝেছে উন্মুক্ত কয়লা খনি করা চুক্তি একটি “নোংরা চুক্তি”।

ছবি -৬
সালাম ফুলবাড়ীর শহীদেরা। এই পেইন্টিংটি ফুলবাড়ীর একজন পেশাদার সাইন বোর্ড আঁকিয়ে সাইফুল ইসলামের। ২৬ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি তাকে এই ছবি আঁকতে বাধ্য করে।

ছবি -৭
সায়েমা, ২০০৭। তিনি ফুলবাড়ীর একজন দোকানদার। তার দোকানে বিক্রি হয় চা, বিস্কুট আর পান। ২৭ আগস্টের মিছিলে তিনিও ছিলেন অগ্রভাগে।

ছবি-৮
শহীদ মিনার, ২০০৭। ২৬ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতির তাড়নায় আঁকা সাইফুল ইসলামের আরেকটি পেইন্টিং। ছোট যমুনার পাড়ে তার কল্পনার শহীদ মিনার।

ছবি -৯
ফুলবাড়ী উপজেলা শহরের আরেকটি সাধারণ রাস্তা আর তার শ্লোগান, ২০০৭।

Untitled Document

মডেল পুক
Total Visitor: 680293
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :