Untitled Document
ফাল্গুন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
মডেল পুক
অজন্তার উঠানের কথা লিখেছি একবার। ও আমার মণিপুরী বন্ধু। সিলেটের শিবগঞ্জে কয়েক প্রজন্মের বাস ওদের। মণিপুরীদের জমিজমা দখল হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ওদেরও হয়েছে। অজন্তাদের জমি দখল করে বাড়ি তুলেছে এক বাঙালি। সেখানে ভাড়াটে হয়ে এসেছে এক নেপালী পরিবার। সিলেটে নেপালীরা থাকেন আমার জানা ছিল না। অজন্তার কথাতেই জানতে পারলাম কিছু নেপালী ব্যবসায়ী নাকি মেঘালয়-সিলেট সীমান্তে ব্যবসা করতে এসে সিলেটে বাস করেন, তাঁদের কেউ কেউ এখানে বিয়েশাদীও করে ফেলেন। অজন্তার প্রতিবেশী ভদ্রলোকও এরকম একজন। জমি দখল করেছে বাড়ির মালিক, ভাড়াটের তো দোষ নেই। তাই অজন্তাদের সঙ্গে তাদের ভাব আছে। গত বছর নভেম্বরে আমি যখন ওখানে কয়েকদিন কাটিয়ে এলাম তখন সে পরিবারের ছোট্ট ছেলেটির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব জমে গেল। ওর নাম প্রিন্স, প্রিন্স প্রধান। সাত-আট বছরের গম্ভীর চুপচাপ ছেলেটা সকাল-বিকাল আমাকে টেনে নিয়ে যেত ওর সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য। এরকমই হাঁটাহাঁটির সময় একবার ওদের সবুজ গেটটার তলা থেকে সাদা ফুলটার ঝোপ বেরিয়ে থাকতে দেখলাম। কালচে সবুজ রঙের পাতা, ডালের ওপরের দিকে অনেকটা অংশ জুড়ে সবুজ বৃতির ওপর ফুলগুলো। বৃতির গায়ে সবুজ সবুজ রোঁয়া ফুলগুলোকে আলাদা মাধুর্য্য দিয়েছে। গাছের নাম বলতে পারে না কেউ। এ ফুল এর আগেও কোনো কোনো বাগানে দেখেছি। ক্যামেরায় চোখ লাগানোর পর কমলাটে মাকড়সাটা নজরে এল। এত ছোট্ট, ওটা যে মাকড়সা একেবারে কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না। ফুলগুলোর চারপাশে সূক্ষ্ম জাল তৈরী করে ঠিক মাঝখানে কী সুন্দর বসে আছে। ছবিগুলো যখন অজন্তার আরেক প্রতিবেশী রাজুকে দেখালাম ও অবাক হয়ে বলল, “পুকটা আপনারে মডেল দিছে নি?” রাজু সুন্দর প্রাণবন্ত তরুণ, সারাদিন মটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়ায়। সাজগোজের দিকে বিশেষ ঝোঁক আছে সেটা ওকে দেখলেই বোঝা যায়। ওকে ছেড়ে সামান্য একটা “পুক”কে মডেল করায় ওর সেদিন গোস্সা হয়েছিল বোধহয়। পাঠক, দেখুন আমার মিষ্টি মডেলটিকে।
 

ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ



        আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
 
Untitled Document

মডেল পুক
Total Visitor: 708378
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :