Untitled Document
ফাল্গুন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
হাওয়াই রোদন
- আফরোজা সোমা



(উৎসর্গ: ঋত্বিক কুমার ঘটক এবং ৪৭ এ ভারত ভাগের পর স্বদেশ হারানো- বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের প্রতি)

একেকজন দাঁড়িয়ে আছে একেক ভঙ্গিমায়
বিভঙ্গের ভাঁজে ভাঁজে লীলা-
লীলা-মায়ায় মুগ্ধ বালক
কিনে নেয় মাটির পুতুল;
পরনে লাল শাড়ি
কাঁখে কলস, কপালে লাল টিপ
সিঁথিতে সিঁদুর- সব কিছু
রং দিয়ে আঁকা।
তবু যেনো মিছে নয়-
এ লীলা, এ ভ্রম-
বালকের কাছে সত্য মনে হয়।

আরো কিছু ’সত্য’-
যেনো সত্য নয়;
যেনো ভ্রম, মায়া-ঘোর
যেনো রং দিয়ে আঁকা;
মুছে যাবে খানিকবাদেই।

অথচ মুছে না;
এক অলঙ্ঘনিয় সত্য
সীমানা-চাবুকে ফালা ফালা করে
বালকের মন। সে বালক-
জন্মগ্রাম ছেড়ে, চেনা আলপথ ছেড়ে
জ্বরগ্রস্থ হয়; মা মরে গেলে যেমন
অসুস্থ হয় কোলের শিশু-
তেমনি, এক দূরারোগ্য ব্যাধিতে-
জ্বরের ঘোরে, ঘুমের মধ্যে
স্বপ্নের মধ্যে, জাগরনের মধ্যে
সে দেখে হারানো স্বদেশ।

যে গাঁয়ে আছে শৈশব
সেখানে প্রবেশাধিকার নেই;
শৈশব প্রবাসে রেখে
একা একা বড়ো কাঁদে
আমাদের বুড়ো খোকা- ঋত্বিক ঘটক।


রাজনীতি এ কান্নার সঙ্গী নয়
সঙ্গী নয় বিভক্ত মানচিত্র।


শুধু একা- মা মা বলে
লুকিয়ে কাঁদে লাখো ঋত্বিক;
আঙুল তোলে নিজেকেই দেখায়-
ওপারে, ও...ই যে দূরে বাতি জ্বলছে
ঐ আমার দেশ,
আমাদের গ্রাম,
আমাদের বাড়ি...

দেখা যায়, যাওয়া যায় না
গন্ধ আসে, ছোঁয়া যায় না;
এই পাওয়া না পাওয়ার কালে
কাঁদে শেকড় কাটা সোনামণির দল;
সে কান্না কোমল স্বরে
গানের রোদন হয়ে ঘুরে....

সেই রোদন, এখানে-
ব্যস্ত ঢাকার পথের পাশে
উপচে উঠে অন্য কারো ভরাট গলায়;
না হোক সে গায়ক বিরাট,
তবুও কী পেলব মেখে আপন মনে গায়-
‘‘আমের তলায় ঝামুর ঝুমুর
কলা তলা দিয়া
আইলেন গো সুন্দরীর জামাই
মুটুক মাথায় দিয়া।’’

মুকুট মাথায়-
রাজাধিরাজ আসেন শুধু
‘মুটুক’ মাথায়-
এলো না কেউ ভূ-ভারতে,
আসবে না আর কোনো দিন
‘মুটুক’ মাথায়- সাঁকো হয়ে;

সাঁকোহীন মানুষ শুধু
কেঁদে যায় হাওয়ার সুরে।

(গানের কথাগুলো ঋত্বিক কুমারের কোমল গান্ধার সিনেমা থেকে নেয়া।)
     
Untitled Document

মডেল পুক
Total Visitor: 708371
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :