Untitled Document
চৈত্র সংখ্যা ১৪১৭
আমাদের ১লা বৈশাখ (১৪১৮) বাংলার আপামর কৃষি সমাজের সাথে ১৫ এপ্রিল
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
জাপানের জন্য দুঃখ, অতঃপর
- শুভ কিবরিয়া



তিউনিশিয়া, মিসর, লিবিয়া, বাহরাইন, সৌদিআরব, ইরানজুড়ে বিদ্রোহ চলছে। তার রেশ কাটেনি এখনো। সরকার এবং জনবিদ্রোহ, দুই দামামার মাঝে কোন সংবাদটি সঠিক, কোনটি জনসংবাদ এসব খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। কেননা, মধ্যপ্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকাজুড়ে এসব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ধাক্কা দেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে। হাজার হাজার শ্রমিক এসব দেশ থেকে ফিরে এলে তার ধাক্কা কতটা সামলে দিতে পারবে বাংলাদেশ তাই নিয়ে একটা বড় দুর্ভাবনায় আছি, গত এক মাসজুড়ে। কেননা, বিদেশে কর্মরত শ্রমসঙ্কট, রেমিটেন্স খাতেই শুধু ধাক্কা নয়Ñমধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বড় প্রভাব রাখছে আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওপর। তেলের দাম বাড়লে সারা পৃথিবীর অর্থনীতির টালমাটাল শুরু হয়।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে রাজনীতি যখন টিমে তেতালা, তখন আরব দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধের দামামার (আরব-ইসরাইল যুদ্ধ) প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৭ ডলার থেকে বেড়ে ৩৫ ডলারে দাঁড়ায়। হু হু করে বাড়তে থাকে খাদ্যদ্রব্যের দাম। খাদ্য সংগ্রহ, পরিবহন সঙ্কট পুরো নাজুক করে দেয় বাংলাদেশের খাদ্য সঙ্কটকে। দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।
১৯৭৪ সালের সেই দুঃখ দিনের পুনরাবির্ভাব যেন না ঘটে এই ২০১১ তে। ভাবছিলাম সেটাই।

২.
সেই ভাবনা খুব একটা সুস্থিরতা না পেতেই দুঃখদিনের মতো হুড়মুড়িয়ে এলো জাপানের ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে দাঁড়াল তার মাত্রা ৮.৯ এ। এই মাত্রার ভূমিকম্পে পৃথিবীর যে কোনো দেশে বড় দুর্যোগ ঘটাতে সক্ষম। জাপান ভূমিকম্পের বিরুদ্ধে নিয়ত যুদ্ধ করা দেশ। ফলে দিনে দিনে ভূমিকম্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার শক্তি তারা অর্জন করেছে। ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টোকিওর উঁচু উঁচু বিল্ডিং দুলেছে ভয়াবহভাবে কিন্তু ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি। জাপান ভবন নির্মাণ প্রযুক্তিতে যে বড় সক্ষমতা অর্জন করেছে, এটা তার প্রমাণ। কিন্তু এই ভূমিকম্পের পরপর ৩০ ফুট উঁচু পানির তোড়, সুনামি ভাসিয়ে দেয় জাপানকে। ধসিয়ে দেয় তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘটায় অবিশ্বাস্য দুর্ঘটনা। ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয়তা। ভূমিকম্প, সুনামি, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনাÑ এ ত্রয়ী প্রভাব সঙ্কটে ফেলে জাপানকে। খুব বড় দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে জাপান। উপর্যুপরি ভূমিকম্পের নতুন সম্ভাবনা, তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার দুর্ভাবনা বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রচণ্ড শীত এক মানবিক দুর্যোগে ফেলেছে জাপানকে।
প্রাচ্যের বদলে যাওয়া প্রযুক্তি ও অর্থনীতির বড় শক্তি জাপান এখন এক ঘনঘোর দুর্যোগ ও দুঃখদিনের মুখোমুখি। পশ্চিমের বাজারতাড়িত জীবনের দিকে ধাবিত হওয়া জাপানের জন্য এ এক নতুন দুর্যোগ।
এশিয়ার জাপানবাসীর এই দুঃখদিনে আমরা তার সমব্যথী।

৩.
মধ্যপ্রাচ্যের দুর্যোগ যেমন বিপদে ফেলছে বাংলাদেশকে। জাপানের দুর্যোগেও বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। পারমাণবিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা যদি স্বদেশে ফেরায় কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিদের, তার বড় চাপ সইতে হবে বাংলাদেশকে।
জাপানের উঁচু অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়লে, বিশ্ব অর্থনীতির যে বেসামাল দশা দাঁড়াবে, তাও ক্ষতির মুখে ফেলবে এখানকার অর্থনীতিকে। বিশ্বায়ন যে মালা গেঁথেছে অর্থনীতির, সেই মালার জাপানি সুতো ছিঁড়ে গেলে, বাংলাদেশের অর্থনীতিও নতুন করে বিপদের মুখে পড়বে।
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে যারা সাহায্য দেয়, সহযোগিতা দেয়, অবকাঠামো উন্নয়নে হাত বাড়ায়, জাপান তাদের অন্যতম দেশ।
জাপানের দুর্দিন তাই বড় প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে।

৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতি থেকে শক্তি নিয়েছে জাপান। নতুন জাপান তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতির মাটি থেকে।
আমার ধারণা, বর্তমান প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত দুর্যোগ থেকে আবার নতুন এক জাপান দাঁড়াবে, অনেক ক্ষয়, ক্ষতি আর দুর্যোগ কাটিয়ে।
কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, জাপানের সেই দুঃখদিন আমাদের কতটা তাড়িত করে। দেখার বিষয় এখন সেটাই।
     
Untitled Document

চাম্পারাইয়ে থার্টি
Total Visitor: 709338
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :