Untitled Document
চৈত্র সংখ্যা ১৪১৭
আমাদের ১লা বৈশাখ (১৪১৮) বাংলার আপামর কৃষি সমাজের সাথে ১৫ এপ্রিল
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বুদ্ধদেব
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


(পুর্ব প্রকাশের পর)

ব্রহ্মবিহার
ব্রহ্মবিহারে এই সাধনার পথে বুদ্ধদেব মানুষকে প্রবতিত করবার জন্যে বিশেষরূপে উপদেশ দিয়েছেন। তিনি জানতেন কোনো পাবার যোগ্য জিনিস ফাঁকি দিয়ে পাওয়া যায় না, সেই জন্যে তিনি বেশি কথা না বলে একেবারে ভিত খোঁড়া থেকে কাজ আরম্ভ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন শীল গ্রহণ করাই মুক্তিপথের পাথেয় গ্রহণ করা। চরিত্র শব্দের অর্থই এই যাতে করে চলা যায়। শীলের দ্বারা সেই চরিত্র গ’ড়ে ওঠে; শীল আমাদের চলবার সম্বল।
পাণং ন হানেঃ প্রাণীকে হত্যা করবে না-এই কথাটি শীল। ন চাদিন্নমাদিয়েঃ যা তোমাকে দেওয়া হয় নি তা নেবে না- এই একটি শীল। মুসা ন ভাসেঃ মিথ্যা কথা বলবে না-এই একটি শীল। ন চ মজ্জপো সিয়াঃ মদ খাবে না- এই একটি শীল। এমনি করে যথাসাধ্য একটি একটি করে শীল সঞ্চয় করতে হবে।
আর্যশ্রাবকেরা প্রতিদিন নিজেদের এই শীলকে স্মরণ করেনঃ
ইধ অরিয়সাবকো অত্তনো সীলানি অনুসসরতি।
শীলসকলকে কী বলে অনুসরণ করেন?
অখণ্ডানি, অচ্ছিদ্দানি, অসবলানি, অকস্মাসানি, ভুজিসসানি, বিঞঞপপসত্থানি, অপরামটঠানি, সমাধিসংবত্তনিকানি।
অর্থাৎ, আমার এই শীল খন্ডিত হয় নি, এতে ছিদ্র হয় নি, আমার এই শীল জোর করে রক্ষিত হয় নি, অর্থাৎ ইচ্ছা করেই রাখছি, এই শীলে পাপ স্পর্শ করে নি, এই শীল ধন মান প্রভৃতি কোনো স্বার্থসাধনের জন্য আচরিত নয়, ইএ শীল বিজ্ঞজনের অনুমোদিত, এই শীল বিদলিত হয় নি এবং এই শীল মুক্তি প্রবর্তন করবে। এই বলে আর্যশ্রাবকগণ নিজ নিজ শীলের গুণ বারম্বার স্মরণ করেন।
এই শীলগুলিই হচ্ছে মঙ্গল। মঙ্গললাভই প্রেম ও মুক্তিলাভের সোপান। বুদ্ধদেব কাকে যে মঙ্গল বলেছেন তা মঙ্গলসুত্তে কথিত আছে। সেটি অনুবাদ করে দেই-
বহূ দেবা মনুসসা চ মঙ্গলানি অচিন্তয়ুং
আকঙ্খমানা সোত্থানং ব্রূহি মঙ্গলমুত্তমং।
বুদ্ধকে প্রশ্ন করা হচ্ছে যে, ‘বহু দেবতা বহু মানুষ যাঁরা শুভ আকাঙ্ক্ষা করেন তাঁরা মঙ্গলের চিন্তা করে এসেছেন, সেই মঙ্গলটি কি বলো’।
বুদ্ধ উত্তর দিচ্ছেন-

অসেবনা চ বালানং পন্ডিতানঞ্চ সেবনা
পূজা চ পূজনেয়্যানং এতং মঙ্গলমুত্তমং।
অসৎগণের সেবা না করা, সজ্জনের সেবা করা, পূজনীয়কে পূজা করা-এই হচ্ছে উত্তম মঙ্গল।

পতিরূপদেসবাসো পুব্বে চ কতপুঞঞতা
অত্তসম্মাপণিধি চ এতং মঙ্গলমুত্তমং।
যে দেশে ধর্মসাধন বাধা পায় না সেই দেশে বাস, পূর্বকৃত পুণ্যকে বর্ধিত করা, আপনাকে সৎকর্মে প্রণিধান করা- এই উত্তম মঙ্গল।

বহুসত্থঞ্চ সিপপঞ্চ বিনয়ো চ সুসিকখিতো
সুভাসিতা চ যা এতং মঙ্গলমুত্তমং।
বহু-শাস্ত্র-অধ্যয়ন, বহু-শিল্প-শিক্ষা, বিনয়ে সুশিক্ষিত হওয়া এবং সুভাষিত বাক্য বলা- এই উত্তম মঙ্গল।

মাতাপিতু-উপটঠানং পুত্তদারসস সংগহো
অনবজ্জানি কম্মানি এতং মঙ্গলমুত্তমং।
দান, ধর্মচর্যা, জ্ঞাতিবর্গের উপকার, অনিন্দনীয় কর্ম- এই উত্তম মঙ্গল।

আরতী বিরতি পাপা মজ্জপানা চ সঞঞমো
অপপমাদো চ ধম্মেসু এতং মঙ্গলমুত্তমং।
পাপে অনাসক্তি এবং বিরতি, মদ্যপানে বিতৃষ্ণা, ধর্মকর্মে অপ্রমাদ-এই উত্তম মঙ্গল।

গারবো চ নিবাতো চ সন্তটঠী চ কতঞঞুতা
কালেন ধম্মসবনং এতং মঙ্গলমুত্তমং।
গৌরব অথচ নম্রতা, সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা, যথাকালে ধর্মকথা শ্রবণ-এই উত্তম মঙ্গল।

খন্তী চ সোবচসসতা সমণানঞ্চ দসসনং
কালেন ধম্মসাকচ্ছা এতং মঙ্গলমুত্তমং।
ক্ষমা, প্রিয়বাদিতা, সাধুগণকে দর্শন, যথাকালে ধর্মালোচনা -এই উত্তম মঙ্গল।

(চলবে)


 

 

ভগবান বুদ্ধের সার্ধদ্বিসাহস্রিক পরিনির্বাণ- জয়ন্তী- উপলক্ষে

প্রথম প্রকাশঃ বৈশাখী পূর্ণিমা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৬৩
পূণমুর্দ্রণঃ ভাদ্র, ১৩৬৭, মাঘ ১৩৭৯
বৈশাখ ১৩৯২: ১৯০৭ শক

পরিবেশনায়
ন্যাশনাল বুদ্ধিষ্ট ইয়ুথ ফেডারেশন-
বাংলাদেশ।
৫/এ, মগবাজার এপার্টমেন্ট
১২৬, বড় মগ বাজার, ঢাকা।
ফোনঃ ৮৩৬৮৮৭
     
Untitled Document

চাম্পারাইয়ে থার্টি
Total Visitor: 709027
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :