Untitled Document
চৈত্র সংখ্যা ১৪১৭
আমাদের ১লা বৈশাখ (১৪১৮) বাংলার আপামর কৃষি সমাজের সাথে ১৫ এপ্রিল
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
গ্লাউবের রউসা: নোভো চলচ্চিত্রের প্রাণ পুরুষ
- ধ্রুপদী থেকে (মুহম্মদ খসরু সম্পাদিত পত্রিকা)



(পুর্ব প্রকাশের পর)

গ্লাউবের রউসা: নোভো চলচ্চিত্রের প্রাণ পুরুষ
চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন সম্ভবনার দ্বার উন্মোচন করেন ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্রের প্রাণ পুরুষ, প্রতিবাদী চলচ্চিত্রের রূপকার গ্লাউবের রউসা। ব্রাজিলের চলচ্চিত্র এবং আরও ব্যাপকার্থে দেশীয় সংস্কৃতির নবজন্ম প্রচেষ্টায় তিনি সূচনা করেন নোভো চলচ্চিত্র আন্দোলন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে সমগ্র লাতিন আমেরিকা জুড়ে দানা বেঁধে ওঠে এক নতুন ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলন। নোভো চলচ্চিত্র আন্দোলন ওই নতুন ধারারই প্রতিধ্বনি। রউসা ও তাঁর সঙ্গীরা এ আন্দোলনের মাধ্যমেই নির্ধারণ করেন তাঁদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপন্থা। আন্দোলনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন-“ব্রাজিলীয়রা জাতি হিসেবে নবাগত, সুতরাং এর সমস্যাও নতুন এবং চলচ্চিত্র-শিল্পও নতুন। আমাদের নতুন বংশধরগণ রচনা করছে ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্রের পূর্ব-ইতিহাস”।
রউসা এ আন্দোলন সম্পর্কে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা ক্ষুদ্র পরিসরে আবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র লাতিন আমেরিকায়। তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশে হলিউড মার্কা শিল্পবিবর্জিত ছবির অর্থনৈতিক শোষণ ও ফায়দা লোটার বিরুদ্ধে রউসা হয়ে ওঠেন প্রচন্ড প্রতিবাদী। তাঁর চলচ্চিত্র ও তাত্ত্বিক-জ্ঞান প্রয়োগে এক ‘নতুন নন্দনতাত্ত্বিক ক্ষুধা’ জাগ্রত করার প্রয়াসে ব্যাপৃত হন তিনি। ইঙ্গিত দেন নতুন চলচ্চিত্র ভাষা সৃজনের। বস্তুগতভাবে নিঃস্ব হলেও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ জনগণের মধ্যেই নিহিত চলচ্চিত্রের মূল উপাদান। তাই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের উন্নত কলা-কৌশল প্রয়োগে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন জনগণের জন্য। জনগণই তার ছবির প্রেরণা। তাঁর ধারণা- “আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে অনুন্নত নয়।সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মতো চলচ্চিত্র-শিল্পের ক্ষেত্রে একজন চলচ্চিত্রকারকেও পালন করতে হবে বিপ্লবী ভূমিকা”।
গ্লাউবের রউসা-র চলচ্চিত্রসমূহ নানা অনুষঙ্গের বর্ণিল বিন্যাসে বিন্যস্ত। নব্য বাস্তবতার আলোকে স্বচ্ছ জীবনবোধের পরিচয়বহ মুহূর্তের অনুভূতিকে তিনি প্রাণবন্তভাবে মূর্ত করেন সেলুলয়েডে।
রউসা চলচ্চিত্রায়িত প্রথম ছবি ‘বরাভেনতো’ (১৯৬২)। বাহায়া মৎস্যজীবী গ্রামের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে আফ্রিকা বংশদ্ভূত ‘ক্যানডেম্বল’ সম্প্রদায়ের প্রথাসিদ্ধ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং ওই গ্রামের একজন অধিবাসীকে কেন্দ্র করে যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়, তা এই ছবিটির প্রতিপাদ্য।
নোভো চলচ্চিত্র আন্দোলনের প্রথম দিকে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের শুষ্ক পশ্চাৎভূমি ‘সারতো’ অঞ্চলের দারিদ্র্যক্লিষ্ট হতাশ জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগ এবং দস্যুদের উৎপাত ইত্যাদি রউসার সত্ত্বায় নাড়া দিয়েছিল প্রবলভাবে। তাঁর প্রথম দিকের প্রায় সকল লেখায়ও প্রতিফলিত হয়েছে ওই অঞ্চলের কথা। এই প্রেক্ষাপটে রউসার শিল্পসুষমামন্ডিত দ্বিতীয় ছবি ‘ব্লাক গড হোয়াইট ডেভিল’ (১৯৬৪) তাঁর অসামান্য সৃষ্টি। ফোর্ড, আইজেনস্টাইন ও বুনুয়েলের চলচ্চিত্রকর্মের সঙ্গে ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্রকার রউসার এ ছবিটি সমন্বয় সাধনে সক্ষম হয়েছে।
১৯৬৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পরে, নোভো চলচ্চিত্র আন্দোলন ‘সারতো’ ও ‘ফেভলা’ অঞ্চল থেকে এসে সংস্কারবাদী রাজনীতি ও এলিটদের দুর্নীতিগ্রস্ত ‘পলিটিক্যাল কালচারে’র উৎস সন্ধানে নিয়োজিত তাঁদের কর্মকান্ড। রউসার ‘ল্যান্ড ইন এঙ্গুয়িশ’ (১৯৬৬) ছবিটি মূলতঃ সংস্কারবাদীদের ওই ব্যর্থতা ও এলিটদের ভন্ডামীর চলচ্চিত্রায়ন। এর পেছনে রয়েছে রউসার দুরূহ মননশীলতা। এই ছবিতে একজন ভাবী বিপ্লবী কবির অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে- প্রাচ্য রহস্যবাদ ও কমিউনিষ্ট পার্টির বামঘেঁষা সুসংগঠিত রাজনীতি উপস্থাপনের মাধ্যমে। এছবির ‘মিউজিক্যাল সাউন্ডট্রাকে’র ব্যবহার মনে রাখার মতো, যা রউসার সব চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিক সৌকর্যের পরিচায়ক।
সামরিক শাসকের দমননীতি ও নিষ্পেষণের ফলে তাঁকে নির্বাসিত হতে হয় স্বদেশ থেকে। পালটে যায় তার পূর্বের ধ্যান-ধারণা। এ সময় তিনি নির্মাণ করেন-‘এন্তনী দেস মার্তেস’ (১৯৬৯)। এ ছবিতে রূপকের মাধ্যমে তিনি ডাক দন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য। পাদরি, বুদ্ধজীবী ও কৃষক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে ভূস্বামীদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরূদ্ধে গড়ে তোলে জঙ্গী প্রতিরোধ।
(চলবে)
     
Untitled Document

চাম্পারাইয়ে থার্টি
Total Visitor: 709215
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :