Untitled Document
চৈত্র সংখ্যা ১৪১৭
আমাদের ১লা বৈশাখ (১৪১৮) বাংলার আপামর কৃষি সমাজের সাথে ১৫ এপ্রিল
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বসলে ১৬ দাঁড়ালে ২২
- এস এম নাজমুল হক ইমন


অদ্ভূত ঘটনাগুলো কেমন জানি অদ্ভূতই হয়। আর এই অদ্ভূতের পিছু পিছু ছুটতে ছুটতে আমরা কেমন জানি আলাদা স্বাদের এক মজার সন্ধান পেয়ে যাই। এছাড়া অদ্ভূতগুলো তাড়া করতে গিয়ে চোখে সামনে কখনও আপনাআপনি এসে দাঁড়া অদ্ভূত কিছু। এরই আরো একটি উদাহারন পাওয়া গেছে বগুড়াতে।
এ পৃথিবীর আনাচে কানাচে অদ্ভুতরা ঘুরে বেড়ায়। যেটির এবার সন্ধান পাওয়া গেছে তিনি হলেন ক্ষুদ্রাকৃতি মানুষ তবে পেশায় তিনি একজন ভিক্ষুক। নাম তার সাইদুল ইসলাম। বয়স ৩৬ বছরের কাছাকাছি। আর তার উচ্চতা প্রায় ২২ ইঞ্চি। এতো ক্ষুদ্রাকৃতির মানুষ হয়তো পৃথিবীতেও নেই। কেননা নওগাঁর আব্দুল হাকিমই পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মানুষ বলে ধারনা করা হচ্ছিল। হামিকের উচ্চতা ছিলো ২৩ ইঞ্চি আর তার চেয়ে এবার আরোও ১ ইঞ্চি কম উচ্চতা সম্পন্ন মানুষের সন্ধান মিলল। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পীরব ইউনিয়নের শিহালী উত্তরপাড়া গ্রামে।
সাইদুল ইসলামের পিতা মৃত জসিম উদ্দিন সরকার। বাবা মা সুস্থ স্বাভাবিক হলেও জানা যায়, সাইদুলের ছোট বোন শাহিনূর বেগমের অবস্থা একই। তার বয়স ২৮ বছর। আর উচ্চতা ২৭ ইঞ্চি। বাবা-মা স্বাভাবিক হলেও তাদের দুই সন্তান সাইদুল ও শাহিনূর বেগম কেন ক্ষুদ্রকার হয়েছে তা জানা যায় নি। তবে হরমন জনিত কারণে এমনটি হতে পারে বলে তাদের ধারনা। কিন্তু এই ধারনার কাছে তা পারাজিত কারন সাইদুলের বাবা মার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের কারনে কোনোদিন ডাক্তারের কাছে যেতে পারেনি। ফলে অল্প উচ্চতাসম্পন্ন শরীরের গঠনকে নিয়তি মেনে নিয়ে ৩৫ বছর পার করেছে সাইদুল। অতএব আমরা এই ধারনা করতে পারি ভাই-বোন হিসাবে এক সাথে সাইদুল ও শাহিনূরই দেশের সবচেয়ে খর্বাকৃতির মানুষ হিসাবে স্বীকৃতির দাবিদার।
সাইদুল ইসলামের বয়স তিন যুগের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বাড়েনি তার দৈহিক উচ্চতা। আর তাই তার সহকারী হিসাবে একজন কাজ করেন। তার নাম আবু বক্কর। যেখানে সাইদুল ভিক্ষা করতে যায় সেখানে আবু বক্কর তার সাথে সাথে যায়। সহকারী আবু বক্করকে সাইদুলের সহকর্মীও বলা যায়। তবে সাইদুলের আয় রোজগার খারাপ নয়। মানুষ তাকে দেখে ভালোবেসে, দয়া করে ২ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে যায়। আর এই ভাবে সংগ্রহকৃত টাকার পরিমান দিন শেষে হিসাব করে দেখা যায় ৬০০/৭০০ টাকার মতো। সাইদুলের সহকারী আবু বক্কর জানান, জনবহুল কোনো মেলা, ওরস মাহফিল, মাজার এলাকা এবং ইজতেমায় সাইদুলের উপার্জন সবচেয়ে বেশি হয়। আর তার এই উপার্জনের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে সাইদুলের পরিবারের তিনজন। অবশ্য তার সহকারী আবু বক্ককেও দিতে হয় টাকা বেশ কিছু অংশ কেননা এই টাকার উপর আবু বক্করেরও পরিবারের ৬ জন নির্ভরশীল।
সাইদুলকে বগুড়ার প্রায় রাস্তায় দেখা যায় বগুড়ার জেলার নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করেন। তবে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা না থাকায় কোনো জনবহুল এলাকার রাস্তার ধারে বসে থাকতে হয় তাকে আর অন্য দিকে সব সময় সাইদুলের উপর লক্ষ্য থাকে আবু বক্করের। এতে তাদের উপার্জন কম হয় না। কেননা ক্ষুদ্রাকার হওয়ায় উৎসুক পথচারী কিছুক্ষনের জন্য হলেও তার সামনে এসে দাঁড়ায়। আর দাড়াঁনোর মুহুর্তেই সাইদুল তার স্বভাব সুলভ আচরণের কারণে সবাইকে আকৃষ্ট করে ফেলে। দুহাত বাড়িয়ে দেয় তার কাছে আসা জনতার উদ্দ্যেশে। এছাড়া নিজের ক্ষুদ্রাকার শরীরের গঠন দেখিয়ে নিমিষেই পথচারীর হাত চেপে ধরে। সবাই তাকে সাধ্যমতো সাহায্য।
ভিক্ষুক হিসাবে রাস্তায় বসে ভিক্ষা করার পরও তার কিন্তু বেশভূষায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। কথা বলার এক পর্যায় জানা যায়, সাইদুলের চলাফেরা, ভিক্ষা পেশার আয় সহ সামগ্রিক কাজে তাকে সহায়তা করেন আবু বক্কর। আর এ কাজ করতে গিয়ে আবু বক্করের মোটেও বিড়ম্বনায় পারতে হয় না। বরং একজন প্রতিবন্ধীকে সার্বক্ষনিক সহায়তা করতে পেরে তিনি গর্ববোধ করেন।
তবে সাইদুলের গ্রামের চেয়ারম্যান মনে করেন, ২২ ইঞ্চি উচ্চতা সম্পন্ন সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকার ব্যক্তি হিসেবে দেশে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। সাইদুলের প্রতিবেশী মাহফুজ জানান, সাইদুল স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে পারে না। গ্রামের লোকজন মিলে একদিন সাইদুলের উচ্চতা মাপার উদ্যোগ নেয়। এতে দেখা যায়, বসা অবস্থায় সাইদুলের উচ্চতা ১৬ ইঞ্চি এবং ক্ষুদ্রাকার পা দিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় তার উচ্চতা ২২ ইঞ্চি।
     
Untitled Document

চাম্পারাইয়ে থার্টি
Total Visitor: 708586
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :