Untitled Document
চৈত্র সংখ্যা ১৪১৭
আমাদের ১লা বৈশাখ (১৪১৮) বাংলার আপামর কৃষি সমাজের সাথে ১৫ এপ্রিল
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
চন্দ্রাবতী
- মার্জিয়া লিপি


আরাধ্য শিবের ধ্যানে মগ্ন চন্দ্রাবতী। মন্দিরের পাশেই ফুটে থাকা সন্ধামালতির লাল রঙে জয়ানন্দ দরজায় লিখে চলেন জীবনের শেষ কাব্যঃ
“শৈশবের সঙ্গী তুমি যৈবন কালের সাথী,
......
বিদায়মাগী চন্দ্রাবতী জনমের মত।
ধ্যান শেষে শিবে নিমগ্ন চন্দ্রা মন্দির থেকে বের হতেই চোখে পড়লো দরজায় লেখা লাল অক্ষর-“বিদায় মাগি চন্দ্রাবতী জনমের মত”।
মন্দিরের পবিত্রতা আর জয়ানন্দের দুঃসহ স্মৃতিতে দগ্ধ চন্দ্রাবতী নদীতে যান জল আনতে, জয়ানন্দের লেখা অক্ষর মুছে ফেলতে উজান ধরা নদীর স্রোতে ভেসে আসে দেবতুল্য যুবকের লাশ। মনে পড়ে গতসন্ধায় অনুতপ্ত জয়ানন্দ ফিরে এসেছিলেন চন্দ্রাবতীর কাছে। শত করাঘাতে দরজা খুলতে ব্যর্থ হয় কমলার প্রণয়ে অনুতপ্ত জয়ানন্দ হৃদয়স্পর্শী শ্বাশত, বেদনাঘন সুন্দর।
লোক সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনবদ্য সৃষ্টি গীতিকা সাহিত্য- মৈমনসিংহ গীতিকায় অমর হয়ে আছেন অন্যতম কবি চন্দ্রাবতী। প্রায় সাড়ে চারশত বছর আগে, ১৫৫০ খ্রীষ্টাব্দে, কিশোরগঞ্জে জেলার মাইজকাপন ইউনিয়নের পাতুয়াইর গ্রামে। জেলা শহর হতে পাঁচ মেইল উত্তরে নীলগঞ্জ রেলগঞ্জ রেলষ্টেশন, ষ্টেশনের পূর্বপাশেই ফুলেশ্বরী নদী, নদীর পারেই ছায়াঢাকা, পাখি ডাকা ছোট্ট সবুজ গ্রাম পাতুয়াইর। মা সুলোচনা দেবী, পিতা দ্বিজবংশী দাস। ষোড়শ শতাব্দীর মনসামঙ্গলের কবি।
চন্দ্রাবতীর প্রেমিক জয়ানন্দর বাড়ি ছিল পাতুয়াইর গ্রামের কাছেই সুন্দ্যা গ্রামে পিতার সম্মতিতে ফাল্গুনের এক শুভ দিনে বিয়ের আয়োজন চলে। কিন্তু লগ্ন বয়ে যায়, জয়ানন্দ আর আসেনা। আসে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো এক দুঃসংবাদ। জয়ানন্দ মুসলমান মেয়ে কমলার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করে।
দ্বিজবংশী দাসের মনসার ভাসান গান চন্দ্রাবতীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার অমৃতলোকে। চন্দ্রা রচনা করেন পিতার সঙ্গে মনসার ভাসান গান। শৈশবে দ্বিজবংশী দাশের ভাসান গান চন্দ্রাবতীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার অমৃতলোকে। চন্দ্রা রচনা করেন পিতার সাথে একত্রে মনসার ভাসান পালা। ফুলেশ্বরী নদীর পাশে নৈসর্গিক নিরব সৌন্দর্যে বিল ঝিল আর শ্যামল ছায়ার সবুজ শান্ত পরিবেশ গড়ে ওঠা জীবন, প্রেম বিরহগাঁথা চন্দ্রাবতীর গীতিকা সাহিত্যের অন্যতম অনুসঙ্গ অজস্রলোকগীতি রচনা করেন চন্দ্রাবতী প্রায় সাড়ে চার’শ বছর আগে রচিত পালাগান আজো বিভিন্ন আসরে শুনা যায়। পুজা অর্চণায় পাঠ হয় রামায়ন পালা। মলুয়া। মহুয়া, দেওয়ান ভাবনা, কেনারাম দস্যু পালার পালা ময়মনসিংহ গীতিকার অনন্য গীতিকা।
নিজের জীবনের দুঃখময় পরিনতি কাব্য ও গীত রচনায় অকৃতিম, আন্তরিক করেছে। হৃদয়ে গভীরে ক্ষত, রাগ-অনুরাগ, প্রকৃতির নিস্তব্ধ সৌন্দর্য তাঁর সৃষ্টিকে করেছে কালোত্তীর্ণ কিশোরগঞ্জের ফুলেশ্বরী নদী এখন প্রায় মৃত। কিন্তু ভগ্ন প্রায় শিব মন্দির এখন ও চন্দ্রাবতীর স্মৃতিকে সিক্ত করে মমতায়।

     
Untitled Document

চাম্পারাইয়ে থার্টি
Total Visitor: 708423
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :