Untitled Document
চৈত্র সংখ্যা ১৪১৭
আমাদের ১লা বৈশাখ (১৪১৮) বাংলার আপামর কৃষি সমাজের সাথে ১৫ এপ্রিল
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
চাম্পারাইয়ে থার্টি
চাম্পারাই কমলগঞ্জের সীমান্তে ন্যাশনাল টি গার্ডেনের বাগান। গত বছর নভেম্বরের কথা বলছি। মণিপুরী বন্ধু ইবুংহাল শ্যামল সিংহের মটরসাইকেলে চড়ে সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বাজল দুপুর বারোটা। শ্যামলদা আরো সীমান্তে ত্রিপুরাদের গ্রাম দেখাতে নিয়ে চলেছেন আমাকে। সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। এদিকেও দু'একটা ত্রিপুরা গ্রাম থাকা স্বাভাবিক অথচ আমার মাথাতেই আসেনি তা। আমার ধারণা ছিল শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামেই আছেন ত্রিপুরা জাতি মানুষ। চাম্পারাই বাগানে গিয়ে শিপেন সাহার বাড়ীতে ঢুকলাম। ইনি চা জনগোষ্ঠীর মানুষ। বংশ পরম্পরায় এখানেই থাকেন। ত্রিশোর্ধ্ব শিপেন সাহাকে দেখে কিছুটা ডাকাবুকো মানুষ বলেই মনে হলো।

চা জনগোষ্ঠী অর্থাৎ ব্রিটিশরা চা বাগানে কাজ করার জন্য ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওড়িয়া, তেলেগু ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যে মানুষ এনেছিল। শ'দুই বছর পার হওয়ার পরও এসব জাতি দিব্যি নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি অনেকখানি বজায় রাখতে পেরেছে। দাবী আদায়ের সুবিধার্থে ভীষণভাবে শোষিত এসব মানুষ এখন এক হয়ে নাম নিয়েছেন চা জনগোষ্ঠী।

শিপেন সাহার বাড়ী দেখে মনে হলো তাঁদের অবস্থা তাঁদের সমাজের অন্যদের তুলনায় অনেকখানি সচ্ছল। তাঁদের বৈঠকখানায় বসে কথা হচ্ছিল। শ্যামলদা, শিপেন ছাড়াও আরো কয়েকজন ছিলেন। থার্টি পানের আয়োজন চলছিল। জানা গেল দর্শনার মদ্য কারখানা থেকে বাগানের শ্রমিকদের জন্য তুলনামূলক কম অ্যালকোহলযুক্ত সস্তা মদ্য সরবরাহ করা হয়। পানীয়টিতে ৩০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে বলে জানালেন তাঁরা, থার্টি নামটাও সেখান থেকেই পাওয়া। শিপেনের পরিবার বাগানে থার্টির পরিবেশক অর্থাৎ দর্শনা থেকে পানীয়টি কিনে এখানে বিক্রি করেন তাঁরা। শিপেনদের অপেক্ষাকৃত সচ্ছলতার সেটি এক কারণ হতে পারে। থার্টি যোগাড় হলে পরে আমরা রওনা দিলাম ত্রিপুরা গ্রাম তৈলংছড়ির উদ্দেশ্যে।

চা বাগান আর বনের এবড়ো-খেবড়ো রাস্তা ভেঙে প্রায় ঘণ্টাখানেক লাগল তৈলংছড়ি পৌঁছাতে। সেখানে এক বাড়ীতে বসলে শ্যামলদা আমাকে বললেন, "দিদি, আমরা বসছি, আপনি গ্রাম ঘুরে আসেন।" তাঁদের জলযাত্রায় রেখে আমি ক্যামেরা বগলে বেরিয়ে পড়ি।

হেমন্তের দুপুর বড় সুন্দর। আদিগন্ত ধানক্ষেত। আর মাঝে মাঝে টিলার ওপর বাঁশ আর ছনে ছাওয়া ঘর। ওগুলো ত্রিপুরাদের বাড়ি। যে বাড়ীতে বসেছিলাম তার মেয়ের সঙ্গে আলাপ হলো। ওর নাম লিপি। প্রাইমারি পাশ দিয়ে বসে আছে। কাছাকাছি ইস্কুল নেই। ওপরের ক্লাসে তাই ভর্তি হতে পারেনি। আরো কিছুটা হেঁটে গেলাম গ্রামের মোড়লের বাড়ি, নাম করুণা দেববর্মণ। তাঁর সঙ্গে মোটামুটি দীর্ঘ বাতচিৎ অন্য কোনো সময় লেখা যাবে।

সময় কম, আলো থাকতে থাকতেই চা বাগান আর বনের ভেতর দিয়ে আমাদের ফিরতে হবে আদমপুর, কমলগঞ্জের এক ইউনিয়ন যেখানে শ্যামলদা থাকেন। আমি তাঁর বাসাতেই উঠেছি। করুণার সঙ্গে কথা শেষ করেই দৌড় দিলাম লিপিদের বাড়ীর দিকে। যাওয়ার পথে চোখে পড়ে গেল ছোট ছোট হলুদ ফুলে ভরা গাছটার দিকে। ধানক্ষেতের আলের ঢালে হাঁটু সমান গাছটা দূর থেকে খুব সাধারণ, কাছে গিয়ে মুগ্ধ হলাম। ফুল সুন্দর, পাতাও সুন্দর। কী নাম গো তোমার, সোনাফুল? উত্তরে অগ্রহায়ণের মৃদু দুপুর মাথাটা দুলিয়ে দিল তার।
 

ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ



        আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
 
Untitled Document

চাম্পারাইয়ে থার্টি
Total Visitor: 708653
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :