Untitled Document
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী

Download These Files
সুরের জন্ম-মৃত্যু : দ্বিতীয় পর্ব
-কফিল আহমেদ

পূর্ব প্রকাশের পর...

প্রায়ই দেখি ফুল ফুটে আছে। গ্রামের গোপাটে ঘন ঘাসের কাঁথা ভরে ছোটো ছোটো সাদা সাদা ফুল আর ফুল। এমন সুন্দর যে চোখভরে মমতার জল চলে আসে। অজান্তেই পিষ্ট হয়। এমন ভয় যে, সন্ধ্যায় মনে হয়েছিলো আগামীকাল সকালের সূর্যের দেখা পাবে তো? ফলে গোপনে প্রতিজ্ঞা জন্মে। কিংবা সেই আমভর্তি একটা গাছ। হাসছিলো। একদিন দেখি, অনেকে পাতাসুদ্ধ সব আমই নাই হয়ে গেছে। তখন তাকে মনে হয়েছিলো সব সন্তানছিন্ন মায়েদের মতো। ফাঁকা। ফলে বেদনার জন্ম। যেখানেই যাই, গিয়েছি- চোখভরে তাকাই। তাকিয়েছি। শুনেছি এসব জীবন কিংবা প্রকৃতির বিধান। সব নাকি খণ্ডন করা যায় না। কিন্তু প্রতিজ্ঞা আরো ঘন আরো নিবিড় হয়ে নিজের মনেই ঘুরতে থাকে। আপন পরিবেশে কখনো তা কথা হয়ে সুর হয়ে বেরিয়ে এসেছে। প্রথমে কথা তারপর সুর- আমার বেলায় কখনোই তা ঘটে নাই। একই সাথে জন্মেছে। আর গাইতে গাইতে ঢোল-তবলার বোল শুনে মন বলেছে-হায়! এযে আমাদেরই চেনাজানা গরুমোষের হাড়মাংস খুলে নেবার পর তারই চামড়া জড়ানো আরেক হালচাষ। তাই কখনো কথাটা এমন হলো- তোমার মাথার খুলি করোটি ও হাড়ে বানিয়েছি ডুগডুগি বাজাও বাজাও। ওসব আমার কখনোই লিখে রাখা হয়নি। কিছু কিছু নিজের মনে ছিলো, আর বেশিরভাগই যাদের সঙ্গে বসেছি গেয়েছি তারাই মনে রেখেছে, মনে করিয়ে দিয়েছে। কথা হচ্ছে বিস্ময়ের অপরদিকে খুব লুকানো আটসাঁট বিপন্নতা- তাও বেজে ওঠে!

কেবল মরণে জীবনের আলিঙ্গন স্পষ্ট হবার নয়। যেকোনো সমাধির সাথে পৃথিবীর বুকের দিকটার ব্যবধান বেড়ে তা আরো নিরেট হয়ে যায়? কিন্তু সামনে এমন মরণ যেনো আর নাই হয়, এই আশায় আরো প্রতিজ্ঞা রাখি। জেনেছি তা অনেকটা মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতোই। রক্তগোলাপের উন্মুখ কলির মতোই। ঠিক অনেকটা শঙ্খের মতোই। আর গাণে প্রাণের প্রকাশে সে তো খুব জরুরি। ওখানে অসুখ হলে কি খুব বিপদ?

না প্রকৃতি যদি অন্ধ করে দেয় তবে সুরে সুরেই দেখতে হয়। সাথে সে যদি বধির করে তবে তাকে ছুঁয়ে দেখতে হয়। আর সে যদি স্পর্শের বাইরে থাকে তবে তাকে শ্বাসে-নিঃশ্বাসে জানতে হয়। আর শ্বাসে-নিঃশ্বাসে কষ্ট হয় তখনই মুখ আরো বোবা হতে থাকে।

একদম চুপ তখন সুরের আচরণ। সেখানেও অ-সুরের ক্রন্দন! কোথাও কিছু একটা নাই হয়ে গেছে? অনেক অনেক দূরের হয়ে গেছে? জীবনটা যেনো বনের অগোচরে রয়েল বেঙ্গল কেবল শূন্য ছবি। সময়ের মুখোমুখি বন্দীদশাটা যেনো- আজ বাঘের চারদিকে লোহাগড়া ঝড়। কিছু করতে না পারার যন্ত্রণায়- উড়তে পারছে না পায়রানদী চিলঘূর্ণি ঝড়ে!

কোথাও শ্রমিকের পাওনা আদায়ের সরাসরি ঘটনায়, একদিন তো শিলাবৃষ্টিতেই, অন্যদিন বোমাগুলির সশব্দ রমনা ঘেরাওয়ের মুখে সেই চট্টগ্রামে মঞ্চের আলো নিভিয়ে দিলেও অন্ধকার থেকে গিয়েছি- আমি চাষ করি চাষ করব/ আমি ঢালি জল ঢালি শ্মশানে। সেবার ইরাক আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদের সভায় গরম বাতাস আর আকাশ লাল করা এবং আগুনের ফুলকির ঘূর্ণিঝড়ে চারদিক নিমেষে ঘুরছিলো। উড়ছিলো। আমার মনে আছে তখনো গাইছিলাম- তুমি শোনো বাঁজি বাজে হাহাকার....। পরে শুনলাম ওদিকে তখন করিমগঞ্জে বন্দরের একেবারে কাছেই নাগচিনি নদীতে লঞ্চ ডুবেছে। দেখলাম নদীর পাড়ে ধানক্ষেতে লাশের সারি। গোল হয়ে মানুষ তা দেখছে। মেয়েরা একটু দূরে। মেয়েদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে একটু উঁকি দিয়ে লাশের সারি দেখ যাচ্ছে। অনেকগুলি মরা লোকের মাঝে একটি মরা শিশু। শিশুটির পেট একটু বেশি ফোলা। তা দেখে মেয়েদের একজনকে বলতে শুনলাম, না জানি কার ছেরা, পানি খায়া খায়া পেটটা ফুইল্লা গেছে। আমিও দেখছিলাম। অনেকগুলি মরা লোকের মাঝে একটি মরা শিশু। মেয়েটির কথা শুনে ভাবছিলাম, তাহলে একনদী পানি খেয়ে খেয়ে বাচ্চাটা বাঁচার চেষ্টা করেছিলো! এখন সে মরা। পেট ফোলা। মুখোমুখি গান গাইবার কথা বলতেই পেট ফোলা মরা শিশুটার কথাটাও এসে গেলো। পৃথিবীতে এসে একটা পরিস্থিতির মুখে কোনো কিছু না জেনে না বুঝে শিশুটা যদি পানি খেয়ে পেট ফুলে মরে গিয়েও থাকে, তারপরও কিন্তু তার বাঁচারই সংগ্রামের একান্ত সরাসরি ঘটনা। আর ব্যর্থতা ঝড়ের, নাকি মিথের সেই আজরাইলের? জানি এই মরণে মানুষ নিরুত্তর। প্রশ্নহীন! এসবের উত্তর জানতে ‘আজরাইলের মিথ’ এমনকি প্রয়োজনে কখনো আকাশের ঝঞ্ঝাকেও ভাঙতে হতে পারে!
পাখা ঝাপটায়ে পাখা ঝাপটায়ে ভাঙা তো যায় না খাঁচাটা! এমন দশায় উড়বার ঘুরবার ডাকবার শক্তিটা, ভাঙবার প্রয়োজনটা আরো জরুরী। তা যতো কঠিন আর দুঃসহ হোক না কেনো, জীবনে ডাকবার এই সংগ্রামটুকুও অবশ্যই সহজ। সহজ করে নেবার। সামনের সবদিক খোলা আবার একদম বন্ধ। খোলামেলা দিকগুলিও স্তরে-স্তরে আটক, আবার একদম বন্ধ দিকগুলি একে-একে খুলে যেতে পারে। যেমন সব অসম্ভবের সামনাসামনি উপস্থিত পৃথিবীসত্তা, আবার সব সম্ভবের জন্মভূমি, বাস্তবিক মনোভূমি এই ব্রহ্মাণ্ড। তবে কে কোথায় কেনো কি করবো সে দায়বোধ কখনো আরো স্পষ্ট, আরো সোচ্চার, আরো যথাযথ হয়ে উঠতে পারে। এতোসব ভেবে চিন্তে যেমন গান করিনি, জীবন যাপনও করিনি। তবু লড়াইটা জীবনেরই স্তরে স্তরে- পাখা ঝাপটায়ে ডাকি লাল মোরগের ডাকটা.... মাথা নত না করা।

অস্তিত্বের বাস্তবিক জায়গাটা কখনো এমনই যেনো সেই আলোছায়া বনের ভাঙা ডালে ছোট ফুলের জীবনী। কতো একা! তা চোখে পড়ে। স্বপ্নের কোন বাস্তবতায় তার মুক্তি? তাও ভাবতে হয়।

মাসানোুফুকোওকা, সেই কৃষক, যে কিনা চাষবাসে কোনো আগাছা পর্যন্ত পরিষ্কার করেন না, কীটনাশকও দেন না। তার ধারণা আগাছাগুলি তো এমনিতেই ফসলের প্রয়োজনে ‘সারে’ পরিণত হবে। চাষবাসের এই পথপদ্ধতির সামনে আমাদের প্রশ্ন থাকে- তারপর মাসানোবুফুকোওকা কি করবেন? আমরা বলি এবং চাই ফসলের থেকে এই কৃষক শুধু তার নিজে বাঁচবার জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই আনবেন। বাকিটা থাকবে প্রকৃতিরই অন্যসব সত্তার জন্য। সাথে ভাবতে হয়, যদি ফসলের জন্য আগাছার জীবন, তবে আগাছার জন্যে কি? তার জীবনদোলার জন্য ধারণার ‘আগাছা’ শব্দটিকেও বদলাতে হবে।

ওদিকে আদর করে তো গরু জোড়ারো নাম রাখা হয়েছিলো কালু-ধলু। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ওদের ক্লান্তিটা বহুযুগ ধুকধুক জ্বলছে নিভছে। টের পাই ভাওয়াইয়ার ধীর গতিটার মাঝে ক্লান্ত গরু জোড়ার যে কষ্ট নিহিত, তা না চিনবার জন্যই গাড়িয়াল ভাইয়ের প্রেমের গানে জীবনের অনেক সত্যই এখনো আড়ালেই গোঙাতে থাকে। এই কথাটা এতোকাল ভাওয়াইয়ার বেদনার বাইরে থাকার কারণ অবশ্যই আমাদের বাংলা-জীবনের মনোলোকে এতোদিনকার আরেক আটক। সুরে এমন কান্না, তারপরও এই কান্নার বাইরে থেকেছে আরো কষ্টকর ক্লান্তির বোবাবোবা যন্ত্রণা। নিত্য বন্ধুর কাছে ঘাড়ের গামছা চেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে পুরবাসী কি ‘এমনই অন্ধ’ যে, জোয়াল কাঁধে ক্লান্ত পায়ের জীবনকে একবারও দেখে নাই!

মনোলোক। সেই ‘অন্তর্গত মনোলোক’। কার? অবশ্যই যে বিজড়িত-তার। যে শ্রোতাজন-তারো। সুরের আচরণ কেবল আদরযতœ নয়। শাসনও করে। এর শাসন গীর্জায় মন্দিরে মসজিদের আজানে এমনকি আমাদের ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালিরও মনোলোকে। মনোলোক অস্বচ্ছ হলে তা কখনো কবুতর বাচ্চারও গলাটা টানটান করে ওখানে সোর্ডব্লেড চালাতে যারে। মুণ্ডু শিকারীদের হাতপায়ের তাল-ছন্দটা একটু বদলে যেয়ে অন্য আবহে এখানে একটু বৈতাল। আর কথারো আজো সেই পুরাতন কোনো মুখস্থ সনাতন। আবহ নানান অজুহাতের। সুরে মন্ত্রেও নিরব মৃত্যুকাণ্ড ঘটছে প্রতিদিন। কোনটা প্রিমিটিভ রক-রক রক্তারক্তির আর কোন্টা প্রেমময় সর্বপ্রাণ মাতৃগীতির তা অবশ্য চিনে নিতে হবে। রামপ্রসাদ তো বলেছিলো, আমি মূল ধরে টান দেবো যখন থাকবে কেমন করে? তারপরও কিন্তু মাতৃরূপের সামনে এখনো এতো এতো প্রাণ বলিদান। রামপ্রসাদ কেঁদেছেন। কিন্তু আসল ক্ষতটা কোথায়, রক্তদশাটা কেনো- তা পরিষ্কার উদাম করে দেখা হয়নি বুঝি!

গান। সেই অপ্রকাশিত কান্নার টান। গানের এক আড্ডায় একদিন তা বলেছিলাম-প্রকৃতিতে-জীবনে-আচরণে-প্রকাশে-প্রকাশ্যে যে সুর ভাষা দৃশ্য আছে- সেই সুর-ভাষা-দৃশ্যের আবডালে আরো করুণ আরো বিষাদ আরো গভীর বেদনার আর্তি কিন্তু চাপা পড়েই থাকছে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম- একজন কসাই, যে কিনা ছাগল জবাই করে, জবাই করবার সময় সে ছাগলের গলাটাকে এমন টান টান করে যেনো ছুরিটা সহজেই চালানো যায়। সেইসাথে সে ছাগলের থুতনিটাও মাটিতে চেপে ধরে! তো থুতনিটিা মাটিতে চেপে ধরবার পিছনে কসাইয়ের মনের অবচেতনে আরেকটা বিষয় কিন্তু কাজ করে। সেটা হচ্ছে, যাকে জবাই করা হবে সে যেনো জোরেসোরে আর্তনাদটুকু করতে না পারে। মুখ চাপা দিয়ে সে জবাই করে। কিন্তু বাঁচবার লড়াইয়ে ছাগলটা তো আপ্রাণ লড়ে। ছটফট করে। সে জবাই হয়। পেরে ওঠে না। ফলে শব্দ যেটুকু বেরোয় তা একটা অস্ফুট গোঙানি। এই গোঙানিটা ঘরে-বাইরে-দোকানে-কারখানায়-রাষ্ট্রে প্রকৃতির সবখানে প্রতিটা অস্তিত্বে থাকছে। এই যে, বাঁচবার কালে, মরবার কালে সে গা-ছেড়ে আর্তনাদটুকু করে যেতে পারলো না, সেই আর্তনাদটুকু, ডাকবার ইচ্ছাটুকু কোথায় লুকালো? জীবনে, প্রকৃতিতে কতো কথা, কতো আর্তনাদই লুকিয়েছে, শুকিয়েছে। চাপা পড়ে আছে। অস্তিত্বগুলি কি একে একে অপ্রকাশের চাপটুকু চিরকালই বয়ে বেড়াবে নাকি?

ভাবতে হয়, কোথায় কোন কথাটা, কোন কষ্টটা আজো শোনা হলো না। তাই ধীরে বৈতালে কোনো ভাওয়াইয়ার হাওয়ায় বিজড়িত হয়ে যদি কোনো প্রেমিক নারী কখনো তার সামনের গরু জোড়ার বোবো চোখেমুখে তাকিয়ে কখনো ডাক দিয়ে বলে ফেলে- আর পারিনা/‘যদি বন্ধু যাইবার চাও,/আমার হাত ও পায়ের / ঘুমের ক্লান্তি সঙ্গে লইয়া যাও। তখন তো সুর আরো ব্যথিত, ব্যথা-বেদনায় ভেঙে ভেঙে আরো ধীর, কথারা আরো যথাযথ, না হয় ছন্দ উঠে দাঁড়াবার জন্য ইচ্ছামতো শক্তির হবে, প্রতিরোধের হবে, না হয় ক্লান্তিতে সে আরো ঘুমিয়ে পড়বে।

সময়ে জিরোতেও পারে। বেড়াতেও যেতে পারে। জীবনে দূরত্ব যতো বেশি যন্ত্রণা ততো নিকটে? কম্যুনিকেশন যতো নিকটে ভালোবাসা ততো হাসিখুশির? পারস্পরিক! বোঝাপড়াটা আরো প্রত্যেকের, সাথে অনেকের করে চেনা দরকার। পারস্পরিকতা বিষয়টি নিয় ভালো করে আর কিইবা বলবো! বনে বেড়াতে যেয়ে তো বলেছি- হরিণেরা কি জানে? ভালোবাসি তোমারে! যা দেখছি, যাকে দেখাচ্ছো, সে তো এখনো কত দূরের আর অচেনারই রয়ে গেলো। আমি তোমাকে ভালবাসি- একথা সে তো জানে না। কিংবা কেমন ভালোবাসি আসলে সে তা জানে বলেই ভয়ে ভয়ে এদিকে ওদিকে কোথায় কোন দিকে ছুটে পালাবে সে পথই খুঁজছিলো। কিন্তু কোথায় পালাবে! সর্বত্র ভয়? বিপদ! সবদিক থেকেই ঘেরাও হয়ে আছি। এ বিরোধ তো অনেক কালের। এ ভয় তো প্রতি মুহূর্তের। কেউ হয়তো বলে উঠতে পারে, যতোটা পড়েছি তা থেকে জেনেছি সুন্দরের মাথার ‘বুদ্ধাংক’টা অল্প- ওরা তা জানবে কেমন করে? যদি তাই হয়ে থাকে তবে সুন্দরের এই নির্বোধ’কে এভাবে বন্দী করে এমন তামাশা- সে তো আরো বর্বরতার, ধৃষ্টতা চতুরতার।

‘ভালোবেসে’ বন্দী করবার এই বন্দোবস্তটা, ধৃষ্টতাটা হাতে নাতে ভাঙা দরকার। কোনোকিছু ভেঙে ফেলা দরকার- কথাটা বলা যতোটা সহজ তা কিন্তু অতোটা সহজসাধ্য নয় মোটেও। কথাটা অনেকেরই ভেবে পৃথিবীর বিন্যাসের গানে, গণিতের সামনাসামনি বলতে হয়েছে.....হ্যাঁ, প্রতি পর্বে পর্বে ধ্রুপদের ধৈর্য্যরে সাথে বিদ্রোহের শক্তি নিয়েই এগোতে হয়।

Untitled Document
Total Visitor : 708588
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard