Untitled Document
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী

   
নেড়ুদা ও বাগধারা
-রজত শুভ্র বন্দোপাধ্যায়

ছোটবেলায় যখন স্কুলে পড়তুম, বেশ ভাল লাগতো। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মজা করতে করতে দারুণ সময় কেটে যেত। মাঝে মাঝে অবশ্য পড়াশুনাও করতে হত, তবে ও কিছু নয়। তারপর এল বাগধারা! বাপ রে, সে কি গোলমেলে ব্যাপার! আমরা তখন ক্লাস এইটে উঠেছি, সবে বন্ধুদের থেকেও বান্ধবীদের বেশি পাত্তা দিতে শিখেছি, আহা, কি সুখের না সময়, হঠাৎ কোথা থেকে বাগধারা এসে সব মাটি করে দিল।

এবার আসি নেড়ুদার কথায়। আমরা যখন খুব ছোট ক্লাসে পড়ি, তখন নেড়ুদা আমাদের থেকে তিন-চার বছর সিনিয়র ছিল। ডানপিটে ছেলে হিসেবে তখনই স্কুলে বেশ সুনাম । তা ছাড়া শুনেছিলুম, সে নাকি পরীক্ষার খাতায় কবিতা লিখত। যাই হোক, আমরা ধীরে ধীরে ক্লাস ওয়ান, টু, ইত্যাদি বেয়ে বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে লাগলুম, নেড়ুদাও উঠতে লাগল, তবে তার ওঠার গতি সামান্য অল্প। ফলে ক্লাস এইটে উঠেই দেখি নেড়ুদা আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বেনচে বসে আছে।

প্রায় প্রথম দিন থেকেই নেড়ুদা আমাদের মানুষ করবার দিকে মন দিল। একদিন হঠাৎ টিফিনের সময় সে আমাদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে গোল করে বসিয়ে জিজ্ঞেস করল, “নে, বল এবার একে একে, কি কি গালাগালি শিখেছিস।” আমরা তো অবাক! যাই হোক, আমতা আমতা করে এক-আধ জন যা যা জানত, তাই বলল, নিচু গলায়। নেড়ুদা তা শুনে কি রকম যেন গম্ভীর হয়ে গেল। তখন গদাই হঠাৎ বলে উঠলো, “পাপী! ক্রোধী! কামী!” নেড়ুদা তাড়াতাড়ি তাকে থামিয়ে দিতেই হঠাৎ লাট্টু দু চোখ বন্ধ করে গড় গড় করে কি সব বলতে থাকল, ছি ছি, কি অসভ্য সব কথা, কিন্তু নেড়ুদা দেখি ভারী খুশি, লাট্টুর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল, “আরে, বাহ ওস্তাদ, বাহ! তোর হবে। শোন, আজ ছুটির পর বাইরে দাঁড়াবি, আমার সঙ্গে সিগারেট খেতে যাবি।” এই ভাবে আমাদের জীবন-শিক্ষা শুরু হল।

তারপর এল বাগধারা। আমাদের তখন গুড়্গুড়ি আন্টি বাংলা পড়াতেন, তিনি আচমকা বাগধারা পড়াতে শুরু করে দিলেন, আমরা কিচ্ছু বুঝতুম না। তারপর কি সর্বনাশ কান্ড, একদিন আন্টি এসেই খস খস করে ব্ল্যাকবোর্ডে কি সব সাংঘাতিক সাংঘাতিক শব্দের মালা লিখে দিয়ে বললেন, “প্রত্যেকে এগুলো দিয়ে বাক্য রচনা কর। আধ ঘন্টা সময়।” উফ্‌! আমরা তো সবে কোনও রকমে বাগধারাগুলো খাতায় টুকে এর ওর মুখ দেখছি, নেড়ুদা দেখি মাথা নিচু করে এক মনে কি সব লিখে চলেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্টির কাছে খাতা জমা দিয়ে নেড়ুদা “স্কুইস মি” বলে বেরিয়ে গেল। আমরা, বাকিরা, ঘামতে ঘামতে লড়াই চালিয়ে গেলুম, অবশেষে সময় শেষ হল, আন্টি সকলের খাতা নিয়ে চলে গেলেন।

টিফিনের সময় নেড়ুদাকে ধরা হল, গদাই বলল, “কি গো নেড়ুদা, অত তাড়াতাড়ি খাতা জমা দিয়ে দিলে, সব জানতে নাকি?”

নেড়ুদা বলল, “ধুস! এ তো কিছুই নয়! না জানার কি আছে? গ্রিক ল্যাটিন তো আর নয়, বাংলাই তো! জম্ম থেকে বলছি, একটু ভাবলেই হয়ে যায়। তোরা যে বোকা! অযথা ঘাবড়ে যাস!”

আমরাও আর কি বলি, নেড়ুদার বুদ্ধি দেখে গম্ভীর ভাবে মাথা নাড়তে নাড়তে ক্লাসে ফিরে গেলুম। পরের দিন বাংলা ক্লাসে গুড়্গুড়ি আন্টি এসেই খাতাগুলো বিলি করে দিলেন, লক্ষ্য করলুম, খাতা দেওয়ার সময় নেড়ুদার দিকে কিরকম যেন কট মট করে তাকালেন। আমরা যে যার খাতা খুলে দেখি কুড়ির মধ্যে কেউ পেয়েছে তিন, কেউ চার, এই রকম সব নম্বর। সমস্ত ক্লাসে তখন কেমন একটা থমথমে ভাব। নেড়ুদা দেখি এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে তার খাতার দিকে, জিজ্ঞেস করলুম, “কি নেড়ুদা, কত পেলে?” নেড়ুদা কিছুই বলল না, কপালের দু ধারে দুটো হাত রেখে বসে রইল।

ক্লাস শেষ হতেই আমরা নেড়ুদাকে ঘিরে ফেললুম। লাট্টু বলল, “দেখি তো নেড়ুদা, তোমার খাতাটা, কি এত লিখলে ফটাফট।” খাতা খুলে দেখি নেড়ুদা পেয়েছে …… হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন…… শূন্য! দীপু, ফ্যাক্‌ ফ্যাক্‌ করে হেসে ফেলল, আমরাও সবাই মুচকি মুচকি হাসছি, হঠাৎ নেড়ুদা লাফিয়ে উঠে খাতাটা লাট্টুর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বলল, “হাসছিস কেন, খ্যাঁক্‌শেয়ালের দল! কি বুঝিস তোরা? ওই গুড়গুড়ির ভীষণ রাগ আমার ওপর, সেই যেদিন থেকে মাথায় চকের গুঁড়ো দিয়েছিলাম, সেদিন থেকে। তাই জিরো দিয়েছে। নে, শোন তোরা, কি লিখেছিলাম, তারপর তোরাই বল, শূন্য পাওয়া উচিত ছিল কিনা!” বলে নেড়ুদা একে একে তার বাগধারা দিয়ে রচিত বাক্যগুলি পড়তে লাগল, আমরাও শুনলুম।

আপনারাও পড়ে দেখুন, সত্যিই কি নেড়ুদার শূন্য পাওয়া উচিত ছিল?



আদায় কাঁচকলা - সবাই দল বেঁধে পুজোর চাঁদা তুলতে বেরিয়েছিলাম, কেউ কিচ্ছু দিল না, ফলে আদায় কাঁচকলা।

আহ্লাদে আটখানা – প্রচণ্ড খিদে পেয়েছিল, তাই এক হাঁড়ি রসগোল্লা দেখে আহ্লাদে আটখানা খেয়ে ফেললাম।

উনিশ বিশ – আমরা ক্লাস ওয়ানে সতেরো আঠারো উনিশ বিশ পর্যন্ত গুণতে শিখেছিলাম।

সাবধানের মার নেই – সাবধানের বাবার মুখ ভর্তি দাড়ি গোঁফ আছে, কিন্তু সাবধানের মার নেই।

অরণ্যে রোদন – বাঘটা ছুটতে ছুটতে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে বেজায় আঘাত পেয়ে অরণ্যে রোদন করতে লাগল।

ভাঁড়ে মা ভবানী – গত বছর ভবানী পুজোর সময় ভবানীপুরের ভুবন সঙ্ঘ চার হাজার চায়ের ভাঁড়ে মা ভবানী বানিয়েছিল।

সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি – বিজয়ার পর সেয়ান কনেরি আর মৃণাল সেয়ানের দেখা হল, তখন সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি করল।

উলুবনে মুক্তো - উলুবনে মুক্তো ছড়ালে মালা বানাবে কি দিয়ে, ভাবতে ভাবতে দিন শেষ হয়ে যাবে।

উত্তম মধ্যম – সুপুড়ি দেবী কে নিয়ে উত্তম কুমার গাড়ি করে দমদম বেড়াতে গিয়েছিলেন, তারপর সুপুড়ি দেবীর অনুরোধে উত্তম মধ্যম গ্রাম গেলেন।

আলালের ঘরে দুলাল - আলালের ঘরে দুলাল গিয়ে বলল, “মাসীমা, আলাল আছে?”


Untitled Document
Total Visitor : 708321
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard