Untitled Document
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী



Video: Dreamcatcher

বিদেশী রূপকথা : বেড়ালছানা
কমিকস্ : টিনটিন
চিকচিক ও রাজহাঁসদাদু
নবনীতা দেবসেন

নভেম্বর মাস হতে না হতেই ওরা এসে পড়ে। সেই উলান-বাটোর থেকে উড়তে উড়তে উড়তে উড়তে আসে আলিপুর চিড়িয়াখানার এই পুকুরে। চিক্-চিক্-পুক্-পিক্ টুং-টুং লুং-পুং সব্বাই সব্বাই.... তাদের বাবা-মা খুড়ো জেঠা মামামাসী মেসোপিসে দাদুঠাকুদ্দা সক্কলে মিলে.... উড়ে যায়-তাদের শীতকালে দক্ষিণে বাতাস চেঞ্জে যাবার সময় হয়েছে। মঙ্গোলিয়া থেকে সাইবেরিয়ার বরফ পার হয়ে চীন-তারপর মাঞ্চুরিয়া পেরিয়ে, সোবিয়েৎ রুশিয়ার ওপর দিয়ে জর্জিয়া, তাজিকীস্তান, উজবেকিস্তান সমস্ত পেরিয়ে ওরা উড়ে আসে, কাবুলের মেওয়া ক্ষেতের উপর দিয়ে, তিব্বতের লামাদের মঠের ওপর দিয়ে, ওরা উড়ে আসে। এমন কি ওই যে একবছরী খুকু খুক্-খিক্, সেও এসেছে। চিক্-চিক্ও এসেছিল একবছর বয়সে। এখন তার দু’বছর। এর মধ্যেই সে তিনবার এভারেস্টের মাথার ওপর দিয়ে এপার-ওপার ডিঙিয়েছে। লক্ষ লক্ষ পাখির কলরবে আলিপুর চিড়িয়াখানার দীঘির বাতাসে যেন সেতার বাজছে। জলটল প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। ক্ষুদে ক্ষুদে বিদেশী পাখিতে পাখিতে দীঘির রূপোলী গাটা ভর্তি হয়ে গেছে, ঠিক যেন একটা হাজারবুটি শাদা টাঙ্গাইল শাড়ি। চিক্-চিকদের পাড়াশুদ্ধ, গাঁশুদ্ধুই কেবল নয়, ওদ্বের দেশশুদ্ধু-মানে উলান বাটোরের উত্তরে যে জলাটায় ওরা থাকে, সেই জঙ্গলের সব ক’টা পাখি এখন এই দীঘিতে। অন্তত একশো বছর ধরেই ওরা উড়ে আসছে এইখানে। একবারও পথ ভোলে না। যেমন আসে তেমনি আবার ফিরে ঠিক- লক্ষ লক্ষ যোজন পথ পেরিয়ে, নিজেদের জলে, নিজেদের জঙ্গলে।

চিক্-চিক্ দেখলে একটা সুন্দর মতন পোকা তিড়িং করে জলের ওপর লাফালে, তারপরই জলের মধ্যে দিলে ডুব! চিক্-চিক্ ও ড্রাইভ দিয়েছে, আর সঙ্গে সঙ্গে- উ-হু-হু-হু-হু!! গেছি!! গেছি!! চিক্-চিকের মাথাটা কার মাথার সঙ্গে জানি ঠুকে গেল! অমনি চিক্-চিক্ শুনতে পেলে ভারী গলায় কে যেন বললেন- ‘আহা-হা! ষাট! ষাট! লাগলো বুঝি? আমি দেখতে পাইনি বাছা।’

চিক্-চিক্ মুখ তুলে চেয়ে দ্যাখে ইয়া লম্বা চওড়া বিশাল-বপু শালপ্রাংশ মহাগ্রীবা এক রাজহাঁস। রেশমের মত কুচকুচে কালো তাঁর গায়ের রং, টুকটুকে লাল তাঁর ঠোঁট। ঐ পোকাটার জন্য ডুব দিয়েছিলেন রাজহাঁসও।

রাজহাঁস বললেন-‘তোমার মাথায় কি খুব বেশী লেগেছে?’

চিক্-চিক্ বললে- ‘না-না’।

রাজহাঁস তখন তাকে একটি রস টুসটুসে কচি পোকা খেতে দিলেন। - ‘না-না’ বলতে বলতে চিক্-চিক্ সেটা খেয়ে ফেললে। এমনি করে দুজনে বেশ ভাব হয়ে গেল।

রাজহাঁস ওর ঘরবাড়ির কথা শুনতে চাইলেন,- ওর নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন।

চিক্-চিকের বয়েস মাত্র দু’বছর, এরই মধ্যে যে এত এত দেশ-বিদেশের নতুন নতুন আকাশ চষে বেড়িয়েছে, কত কী আশ্চর্য সব জিনিস দেখেছে, শুনতে শুনতে রাজহাঁসের চোখ উদাস হয়ে যায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন-‘আঙ্গুর ক্ষেতের ওপর দিয়ে কখনো তুমি উড়ে এসেছ?’

চিক্-চিক্ বলে- ‘হ্যাঁ.....’।

‘এভারেস্টের চূড়ো ডিঙিয়ে তোমরা উড়ে এসেছ!’

চিক্-চিক্ ঘাড় দুলিয়ে বললে -‘হ্যাঁ’.....।

এবার রাজহাঁস দাদুর চোখদুটো ছলছল করে উঠল। তিনি বললেন, ‘জানো চিক্-চিক্ , আমার বয়েস সাত অথচ আমি এই আলিপুর চিড়িয়াখানার দেওয়ালের বাইরে কিছু দেখিনি।’- ‘গঙ্গানদীও দ্যাখোনি?’- ‘নাঃ।’- ‘হাওড়ার ব্রীজও নয়?’

চিক্-চিক্ অবাক হয়ে যায়। - ‘সে কি? এসব ত ঠিক পাশেই, একদম কাছে। আমি তোমাকে এক্ষুনি দেখিয়ে আনতে পারি!’

রাজহাঁস দাদু বললেনÑ ‘কী করে দেখব? আমি জন্মেছি ত এইখানে, এই চিড়িয়াখানাতে! আমার বাবা-মা কিন্তু অন্য দেশ দেখেছেন। তাঁরা জন্মেছিলেন সাত সাগরের ওপারে জেনিভা বলে একটা শহরে, লাক লেমান বলে একটা মস্ত নীল হ্রদের মধ্যে। তার নীল কাচের মতন জলে চারপাশের শাদা শাদা বরফ-ঢাকা পাহাড়ের ছায়া কাঁপে- সে জল এরকম গরম নয়, বরফগলা নদীরা এসে তাকে ঠান্ডা করে রাখে। আর তার নিচে সবুজ সবুজ শ্যাওলার ঝোপঝাড়, দামের বন- তাতেও কত রঙ-বেরঙের ফুল ফোটে, যেন মুণিমুক্তোর গয়না! ঝলমল করে তোলে জলের নিচের রাজ্যটাকে। আমার মা-বাবা দাদু-দিদিমা সবাই মিলে সেই হ্রদে বাস করতেন। একবার সেই দেশের সরকার কলকাতার বাচ্চাদের জন্য উপহার পাঠালেন আমার বাবা আর মাকে। তোমাদের মত নিজের খুশিতে উড়ে উড়ে নয়, বাবা-মা এসেছিলেন খাঁচার মধ্যে, এরোপ্লেনে চড়ে। সেই থেকে আমাদের আর অন্য দেশ দেখা হয় নি।

মন দিয়ে চিক্-চিক্ সব শুনছিলো। শুনেটুনে সে বললে- ‘লাক লেমান ত আমি চিনি না তবে তোমাকে ঠিক ওইরকম আরেকটা লেকে নিয়ে যেতে পারি। তার নাম মানস সরোবর। সেখানেও অনেক রাজহাঁসেদের বাস। আমি দেখেছি। তারও নীল জলে শাদা বরফে ঢাকা পাহাড়ের ছায়া পড়েছে, তারও গভীরে মণিমাণিক্যের মত দামের ফুল ফুটে জল আলো করে আছে। তুমি যাবে দাদু? আমি পথ চিনি। তোমাকে নিয়ে যাব।’

রাজহাঁসের চোখদুটো এবার ঝকঝক করে উঠলো, যেন হীরের কুচি থেকে আলো ঠিকরে পড়ছে। -‘নিয়ে যাবি ভাই? নিয়ে যাবি তোর সঙ্গে? আমি যাব।’

‘বেশ ত, মার্চ মাসে আমরা যখন বাড়ি ফিরবো, তখন তোমাকে পৌঁছে দিয়ে যাব। মানস সরোবর ত বেশি দূরে নয়। উলান বাটোরের মত নয়। তৈরি থেকো। তোমার ডানাটায় জং ধরে যায়নি ত? একটু ওড়াটা প্র্যাকটিস করে রেখো দাদু।’

মার্চ মাসে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি অতিথি পাখির ঝাঁক ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আবার বাড়ির পথ ধরতে শুরু করলো। চিড়িয়াখানার দীঘির বুক যখন খালি হয়ে আসছে তখন একদিন অবাক হয়ে চিড়িয়াখানার বাসিন্দা জন্তুরা আর বেড়াতে আসা সব মানুষেরা দেখতো পেলো, ক্ষুদে ক্ষুদে পাখির ঝাঁকের সঙ্গে, দু’খানি বিশাল কালো ডানা মেলে আকাশে উড়ে গেলো একটা মস্ত কালো রাজহাঁস। রাজার মতনই সেই ওড়া-ব্ল্যাক সোয়ান না ত, ব্ল্যাক প্রিন্স যেন।

চিড়িয়াখানার কর্তাব্যক্তিরা হাঁ হাঁ করে ছুটে এলেন। এ কী অলুক্ষণে কান্ড? রাজহাঁস আবার মাইগ্রেটারি বার্ডদের সঙ্গে ওড়ে নাকি? একজাতের পাখিরা দলবেঁধে একসঙ্গে ওড়ে- প্রকৃতির এই নিয়ম। তারা জীবনেও বেজাতের পাখিদের দলে নেয় না। জীব জগতে  তো অনিয়ম বলে কিছু নেই? এ তবে কী কান্ড? যাযাবর পাখিদের ডানায় কত জোর, তাদের বুকে কত সাহস, তাদের দেহ কত হালকা-তারা মেঘ ছাড়িয়ে উড়ে যায়, তারা একটানা লক্ষ লক্ষ যোজন পথ পার হয়ে দূর বিদেশের গন্তব্যে পৌছতে পারে। আর রাজহাঁস? চিড়িয়াখানায় যার জন্ম, সে বড়জোর হাপুস হুপুস করে একটু আধটু উড়তে পারে- তার পক্ষে কখনো সম্ভব না অত উঁচুতে ওড়া? ও যে হাঁপ ধরলেই পড়ে যাবে? ওকে যে জন্তজানোয়ারের কিংবা লোভী মানুষে ধরে খেয়ে ফেলবে। বোকা রাজহাঁসটা কি নিজেকে যাযাবর পাখি ভেবেছে? পাখিদেরও কি মাথার গোলমাল হয়? সবাই হায়-হায় করতে লাগলো-মাথা চাপড়াতে লাগলো।

রাজহাঁস দাদু এদিকে উড়তে উড়তে নিজেই বুঝতে পারলেন- এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওড়া তাঁর কম্মো নয়। তিনি বললেন, ‘বাছা চিক্-চিক্, আমি ত বুড়ো হয়েছি, আমার শরীরও অনেক ভারী তোমাদের চেয়ে, তাছাড়া আমার অনেক দিন ওড়া অভ্যোস নেই, ডানায় জং ধরেছে, আমি বোধহয় পারলুম না ভাই! আমার বুক ধড়ফড় করছে, হার্টের কষ্ট হচ্ছে, ব্লাড প্রেশারটাও যেন বড্ড হাই হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে, আমি আর পারছিনে ভাই, এ-জন্মে আমার আর মানস সরোবরে যাওয়া হল না। আমি বরং ফিরে যাই, তোমার সঙ্গে সামনের বছর দেখা হবে।’
চিক্-চিকের মনে খুব কষ্ট হল, কিন্তু সেও বুঝতে পারছিল যে এটা সম্ভব নয়। দাদুকে আলিপুরে ছেড়ে দিয়ে আসাই ভাল। ততক্ষনে নিচে, খিদিরপুরে সোনালী রঙ্গের গঙ্গা নদী ঝলমল করে উঠেছে প্রথম সূর্যের আলোয়।

চিক্-চিক্ বললে- ‘দাদু, ওই দেখে নাও নিচেই গঙ্গা নদী-একটা তবু ত নতুন জিনিস দেখা হল তোমার?’

রাজহাঁস খুব খুশি হয়ে উঠলেন, বাঃ এই তবে গঙ্গা? আরেকটু উড়ে গেলেই সমুদ্দুর?’-কিন্তু না, ফেরাই ভাল।

আরেকটু বাদে চিড়িয়াখানার লোকেরা দেখলে মস্ত ডানা ছড়িয়ে কালো রাজহাঁস আবার ফিরে আসছে, তার সঙ্গে সঙ্গে আসছে ছোট্ট একটি যাযাবর পাখি, বড় জাহাজকে যেমন সমুদ্র থেকে পথ দেখিয়ে নদীতে নিয়ে আসে ক্ষুদে পাইলট নৌকো-গবর্নরের গাড়ীর সামনে যেমন যায় এডিসির ক্ষুদে মোটরবাইক।

রাজহাঁসদাদুকে দীঘির কাছে পৌঁছে দিয়ে ডানা নেড়ে নেড়ে টা-টা বাই-বাই বলতে বলতে চিক্-টিক্ ফিরে গেল তার দলের কাছে।


আর রাজহাঁস? ক্লান্ত, অতিক্লান্ত হয়ে জলের এক কোণে নেমে, ডানার মধ্যে ঘাড় গলা ঠোঁট গুঁজে ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলেন-নীল জলের এক হ্রদ, তাতে শাদা ধবধবে পাহাড়ের ছায়া পড়েছে, জলের মধ্যে চুণীপান্নার তৈরি ফুল ফুটে আছে, সেখানে ঝাঁক ঝাঁক কালো আর শাদা রাজহাঁস খেলা করছে।

পরের বছর নভেম্বর মাসে চিক্-চিক্রা আবার যখন আলিপুরে এল, চিক্-চিক্ রাজহাঁসদাদুকে খুঁজতে লাগলো, কিন্তু দীঘিতে কোথাও তাঁকে দেখা গেল না। অনেক বয়েস হয়েছিল, কি জানি, হয়ত বা স্বর্গেই গেছেন- ভেবে চিক্-চিকের মন খারাপ হয়ে গেল। এমন সময় দেখে হেলতে দুলতে হেলতে দুলতে ডাঙা দিয়ে হেঁটে হেঁটে রাজহাঁসদাদু আসছেন। দেখে চিক্-চিকের প্রাণে বেজায় উল্লাস হল।-‘কোথায় গেছলে দাদু, আমি যে তোমাকে খুঁজেই পাই না।’ বলেই টুক্ করে একটা পেন্নাম করলে চিক্-চিক্ ।

দাদু বললেন, ‘থাক-থাক! আমি গিয়েছিলুম ওদিকের পুকুরে আমার নাতিটাকে দেখতে!’

হৈ হৈ করে চিক্-চিক্ বললে, ‘চল চল, তোমার নাতি দেখে আসি। সে কি উড়তে শিখেছে?’

রাজহাঁসদাদু বললেন, ‘এই ত সবে ডানায় পালক গজিয়েছে, এবার শেখালেই শিখবে। তবে ওকে এখানে শেখাবে কে? ওর বাবা-মা ত উড়তে জানেই না- আমি তবু একটু একটু জানতুম।
চিক্-চিক্ বললে, ‘কুছ পরোয়া নেই দাদু, আমি ওকে উড়তে শেখাবো। এখন ত ছোটো আছে, এখন থেকে শিখলে ওর ঠিক আমার মতন ডানার জোর হবে। ওকে তুমি দেখো দাদু, আমি ঠিক মানস সরোবরে নিয়ে যাবো!’

চিক্-চিকের কথা শুনতে শুনতে হঠাৎ রাজহাঁসদাদুর চোখ থেকে টুপ করে একফোঁটা জল পড়লো দীঘির জলে।-‘চিক্-চিক্, তুমি খুব ভালো ছেলে, ভগবান তোমার মঙ্গল করবেন।’ বলে তিনি ডানা তুলে আশীর্বাদ করলেন।

সেদিন থেকেই শুরু হল তালিম দেওয়া। চিক্-চিকের সঙ্গে রাজহাঁসদাদুর কালো কুচ্ছিত নাতিটা রোজ ওড়াউড়ি প্র্যাকটিস করে। রোজ একটু একটু করে ওপর দিকে ওড়ে। আস্তে আস্তে সে বড় হল,- সুন্দর, তেজী, গরগরে-চকচকে একটা রাজহংস হয়ে উঠল সেও। চিক্-চিকের চেয়ে তিনগুন বড় বটে তার শরীর কিন্তু খুব মন দিয়ে সে চিক্-চিকের কাছে ওড়া শেখে। চিড়িয়াখানাতে যারা বেড়াতে আসে তারা অবাক হয়ে দ্যাখে একটা কচি রাজহাঁস আর একটা ক্ষুদে যাযাবর পাখিতে খুব ভাব-সবসময়ে তারা একসঙ্গে ওড়ে।

একদিন রাজহাঁসের নাতি মেঘ ছাড়িয়ে উড়ে গেল। রাজহাঁস দাদু জলে বসে বসে দেখতে পেলেন নাতিকে আর দেখা যাচ্ছে না। অনেক-অনেকক্ষন পরে নাতি যখন সন্ধ্যাবেলা ফিরলো, দাদুর কাছে কত গল্প করলো। সে অনেক দূরে, পূব-দেশে গিয়েছিলো-পদ্মানদীর চর দেখেছে, জয়ন্তীয়া পাহাড় দেখেছে, মণিপুরের সোনার বরণ আনারস বন দেখেছে। রাজহাঁসদাদুর মনে ফুর্তি আর ধরে না। তিনি চিক্-চিক্ কে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করলেন। -হবে, এবার হয়ত হবে। তাঁর যা হয় নি নাতিবাববুর তাই হবে।

সেবার মার্চ মাসে যাযাবর পাখিরা যখন উড়ে গেল-আবার একটা কালো রাজহাঁস বিশাল ডানা মেলে তাদের সঙ্গে আকাশে উড়লো। চিড়িয়াখানার কর্তারা এবারে আর উদ্বেগ করলেন না। ও আবার ঠিক ফিরে আসবে’খন। কত দূরেই বা যাবে? গতবারের মতন ফিরে আসবে এক্ষুনি।

উড়তে উড়তে যাযাবর পাখির ঝাঁক দূরে আকাশে মিলিয়ে গেল। অনেকক্ষন পর্যন্ত একটি কালো বিন্দু দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু সেটিও আর দেখা গেলা।-এবার কিন্তু রাজহাঁসটি আর ফিরে এল না। চিড়িয়াখানার লোকেরা ভেবে ভেবে অস্থির। তারা ধরেই নিল রাজহাঁসটা কোথাও ঝুপ করে পড়ে গিয়েছে। কিন্তু রাজহাঁসদাদু সে ভয় করল না। ঝুপ করে কখনো পড়বে না তাঁর নাতি। দু’দিন তিনদিন  চারদিন রাজহাঁসদাদু দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করলেন। তারপর নিশ্চিন্ত হলেন। তিনি মনে মনে জানলেন-চিক্-চিক্ তার কথা রেখেছে। তাঁর নাতি এখন মানস সরোবরের ঘন নীল জলে, মাণিকের ফুল, মুক্তোর পাতায় বরফ-ঢাকা চূড়োর আলো-ছায়াতে গা ভাসিয়ে নীলপদ্মের মধু খাচ্ছে।

Untitled Document
Total Visitor : 708291
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard