Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী

গায়ে মাখার হরলিক্স
-সুমেরু মুখোপাধ্যায়

সে একটা সময় ছিল যখন আমরা বোতলের ভেতর ঘুমিয়ে পড়তাম বোতলেরই মধু খেয়ে, চারপাশে মৃদু গান বাজত, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি। তখন দেশ মানে ম্যাগাজিন ভাবতাম না, ম্যাগাজিন মানেই এ.কে. সিরিজ। এই লাইন ওড়াচ্ছি তো এই প্লেন হাইজ্যাক। সাক্সেস মানেই বোতল, আরো বোতল। মাঝে মাঝে হিন্দী সিনেমার নায়িকা আনাতাম অর্ডার দিয়ে। দূর পাগল নিজের জন্য না। মিনিস্টার-ফিনিস্টার এলে লাগত। আমার ছিল কেবল বোতল। নায়িকাদেরও ঢুকিয়ে রাখতাম বোতলে। চরিত্র নিয়ে কোন কথা হবে না।


এই বোতলগুলো ছিল সব হরলিক্সের। আমার জন্যেই কোম্পানি স্পেশালি বানাত। নায়িকাদের গায়ে মাখা হরলিক্সের তখন কী ডিমান্ড! কত্ত রথী-মহারথী হুমড়ি খেয়ে পড়েছে এখানে। পোধান্মন্ত্রী-রাষ্ট্রপোতি-ডি এস পি-আই এস পি-কর্ণেল সেগুলো চেটে চেটে খেত, আমি সেগুলোর সব ছবি তুলে রাখতাম। কোন হিরোইন নেক্সট টাইম আসতে না চাইলেই ইউটিউব। কান টানলেই মাথা আসে। সব হাজির সুড়সুড় করে। সরোজ খানকেও এনেছি কোচ করে। সে সেখানে মেয়েদের ভোকাল টনিক দিত, বেটি দিল বোতলে রেখে আয়। এটা তো একটা গেম।


হিরোইনরা যখন হরলিক্সের বোতলে দিল-কলিজা রেখে রাঘব বোয়ালদের কাছে যেত আমরা তখন সেগুলো চুরি করতাম। আমার একটা মিউজিয়াম ছিল। সেখানে সার সার বোতল, দিল ভর্তি। সেগুলো ছিল সব হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি। তাই সেইসব বোতল উড়ে বেড়াত মহাশূণ্যে। নাদির শা অনেকবার চেষ্টা করেছে নাগাল পায়নি।


তোমরা যারা মহাকাশে যাও টাও তারা হয়ত দেখবে মহাকাশে বেশ কতগুলো বোতল ঝুলছে। তোমরা সেগুলোর কাছে যদি যাও দেখবে সেগুলোর ভেতরটা একেকটা ধাঁধার মত দেখাচ্ছে। ভুল্ভুলাইয়ার মত জটিল। ঠিক, সেগুলোই আমার বোতল। ঐশ্বর্য রাই, প্রিয়াঙ্কার বোতল। ঠিক বোতলের মুখ দিয়ে উঁকি মেরে তোমাদের পিঁয়াজের উপমাই মনে পড়বে। জটিলের ভেতর জটিল তার ভেতর আরো জটিল, প্রিয় হিরোইন্দের হৃদয় যেমন হয়।


তবে সেটাকে কঠিন কিছু ভাবার মানে নেই। সেখানে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা হচ্ছে কাছে একটা গ্লাস রাখা। বোতল থেকে একটু একটু করে ঢেলে সারাদিন ধরে খাও। আর মোঙ্গল বেস্পতি নেপচুন শুক্কুর কোন একটার উপর একটু গা এলিয়ে ঘুমিয়ে নাও। আসলি হিরোইনরা বাতাসে ঝুন ঝুন করে বাজবে তোমার ওপর, চারপাশে। যারা শরীরটা নিতে চায় নিক, সেটা হরলিক্সের বোতলএর মতই শক্ত আর নিরেট, তার চাইতে এসো আমরা গ্লাসে ঢেলে একটু একটু করে খাই।


তবে এটা ঠিক হরলিক্স জিনিটা খুব ভাল, লোকে চায়। তাই আমিও নিশ্চিন্তে ব্যবস্থা করেছি মেহফিলের, আমি ধিরে ধিরে খাই সারি সারি হরলিক্সে মাখান সবুজ হৃদয়। আর অদ্ভূত ব্যপার মধু খাবার পর সেই বোতল আর বোতল থাকে না পরিনত হয় টয়লেট পেপারে। আচ্ছা এই নায়িকারা কি সব কাগজের ফুল? যতক্ষণ মধু ততক্ষণ যাদু? কে জানে বাবা!





Untitled Document
Total Visitor : 709217
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :