Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
গল্পহীন
-মনামী আফরিন 
 
 
আমার কোনো গল্প নাই। আমার জানালাহীন ঘরে গাঢ় হয়ে ঝুলে থাকে অন্ধকারের ঝুল। ঘামভেজা বিছানায় ছেঁড়া স্বপ্নের আবাদ করি। শহরের রাতের জাগতিক কোলাহল থিতিয়ে এলে প্যাঁচাটা ডেকে ওঠে আর আমি টের পাই আমার কোনো গল্প নাই। 

 ডানাজোড়া রাখা ছিল সিন্দুকে - মৃত পূর্বপুরুষদের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ -প্রত্যঙ্গের সঙ্গে। হাত দিয়েই কিছুটা ঝেড়ে নিলাম বিস্মৃতির ধুলা। জীর্ণ হয়ে গেছে সত্যি, ভেঙ্গেও গেছে অনেক জায়গায়, তবে কাজ চালানো যাবে। মেফিস্টোফিলিস একটা বিড়ি ধরিয়েছিল সময় কাটাতে কিংবা ও চেইনস্মোকার বলে। আমি বের হতেই ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’ বলে মুখের ওপর ধোঁয়া ছাড়লো, আমি বললাম ‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে’, যদিও আমার ডানা ছিল ভাঙ্গা। 

মেফিস্টোফিলিস বললো, ‘মাঙ্গের পো! বড় বড় কতা কওয়া অহনও বন্দ করো নাই! আলাউদ্দীন আসে না, অয় অর জাদুর গালিচা বান্ধা দিয়ে গ্যাসে, ডানা নো নিড।’ আমি হিন্দি সিরিয়ালের মত তিনবার বললাম কিউ? কিউ? কিউ? মেফিস্টোফিলিস ব্রিটনি স্পিয়ার্স ভঙ্গিতে বললো, হোয়াটেভার।  

গালিচা টেক অফ করার পর আমার ক্রমাগত খোঁচাখুচিতে বিরক্ত হয়ে মেফিস্টোফিলিস যা বললো তা হলো এই, অগ্নিকান্ডে আলাদীনের ঘর, বউ, দুই বাচ্চা, চেরাগ, চেরাগের জ্বীন সব পুড়ে শেষ। গালিচা নিয়ে আলাদীন গিয়েছিল ফ্যান্টাসি কিংডমে খেলা দেখাতে - তাই জানটা বেঁচে গেছে। মেফিস্টোফিলিসের সমবায় সমিতি থেকে ড্রেসিং টেবিল কেনার জন্য যে টাকাটা ধার নিয়েছিল সেটা শোধ করার জন্যই হয়তো খোদাতালা ওকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। সারি সারি পোড়া লাশের পাশে পড়ে থাকা সম্বিত হারানো আলাদীনের হাত থেকে গালিচাটা টেনে হিঁচড়ে ছাড়িয়ে এনেছে মেফিস্টোফিলিসের লোকেরা। আর এই শুওরের পাছায় অহন তেল ডলন লাগবো আমার।  

মেফু, ভাইডি, আই নিড হেল্প। আমার কোনো গল্প নাই। 

চিল ডুড! এই মেফুর কাছে সব রোগেরই ওষুধ আছে, মাগার মালপানি কিছু ছাড়ো মাম্মা!

ক্যান? তুমার তো বান্ধা হিসাব, আত্মা রাইখা দিবা!  

ও নো ম্যান! কাট দিস আত্মা ক্র্যাপ! তুমি না লেখক? আমারে সুশীল সমাজে জায়গা কইরা দেওনের দায়িত্ব তোমার। আই নিড পাবলিসিটি!   আমি মাথা নাড়ি। সেই মুহূর্তে আমার মুখ থেকে বেরিয়ে এল একটা শুয়োপোকা আর ঠোঁটদুটো সেলাই হয়ে গেল আপনা থেকেই।  

পৃথিবীর যাবতীয় গল্প হত্যা, সংঘর্ষ এবং বিভাজনের গল্প। ভাতৃঘাতি কাবিল এই গল্পের সূচনা ঘটিয়েছে। সভ্যতা হলো মৃত্যুচুড়ায় যে পতাকা ওড়ে তার কাহিনী। তোমারও তাই হবে।  

আমার চোখদুটো টেলিভিশনের স্ক্রিন হয়ে যায়। সেখানে পুরো পৃথিবীটাই একটা ডিম্বাকৃতি লাশঘর। গুলিখাওয়া, বোমায় উড়ে যাওয়া, গ্যাস বিস্ফোরণে বিকৃত, পরমাণু রশ্মিতে কদর্য, বেয়োনেটের খোঁচায় ক্ষত-বিক্ষত। হাবিলের লাশ কাঁধে বয়ে মাটি খুঁজে মরে কাবিল। একটু মাটি কি মিলবেনা? ওহ শিট ম্যান! তোমার তো কোনো মাটি নাই! তোমার আছে খালি একখান ক্রেডিট কার্ড। সরি চান্দু! 

ফুটপাতে শুয়ে থাকা হাড়ের খাঁচাগুলোকে হিংসা করে ফিরে আসি আমার জানালাবিহীন ঘরে। অন্ধকারের ঝুল বেয়ে মাকড়শার আটপায়ে হেঁটে যাওয়া দেখি আর ছেঁড়া স্বপ্নের আবাদ করি। আমার কোনো গল্প নাই।   ---





Untitled Document
Total Visitor : 709959
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :