Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ভূমি কক্সবাজারের সৌন্দর্যের সাথে যুক্ত হল
ভাস্কর্য “জ”
- আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

সম্প্রতি বাংলাদেশের পর্যটন নগরীর প্রাণভূমি কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার কলাতলীতে নির্মিত হয়েছে পরিবেশ বান্ধব এবং বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্রের পরিচিতিমূলক ভাস্কর্য “জ”।

বঙ্গোপসাগরের বিপন্নপ্রায় ৪ প্রজাতির ৪টি হাঙ্গরকে বিষয়বস্তু করে ভাস্কর্যটি বিন্যাস করা হয়েছে। পাশাপাশি সমূদ্রতলদেশের অসীম ভান্ডার বিভিন্ন প্রকৃতির প্রবাল সহ সামূদ্রিক অন্যান্য প্রাণী সুসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে এই ভাস্কর্যে স্থান পেয়েছে। জীব বিজ্ঞানী এবং ভাস্করদের সমন্বয়ে গঠিত “ভাস্কর্য” নামের একটি প্রতিষ্ঠান দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে শিল্পকর্মটি সম্পন্ন করেছে।
জানা যায় ২০০৭ সালে কক্সবাজারের বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহবানে বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী ও শিল্পী রাগিব উদ্দিন আহমেদ ভাস্কর্যটির পরিকল্পনা করেন। তিনি সহ, এই দলে ভাস্কর হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান শিল্পী মোঃ রবিউল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (UODA) এর ফাইন আর্টস ফ্যাকাল্টির প্রভাষক শিল্পী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং বিশিষ্ট ইন্টেরিয়র ডিজাইনার শিল্পী মোহাঃ নূরুল ইসলাম। সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন হুমায়ুন কবীর।

বিষয়ের দিক থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বাংলাদেশে নির্মিত ভাস্কর্যের একটা বড় অংশই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। ইদানিং অন্যান্য অনেক বিষয়কে কেন্দ্র করে ভাস্কর্য নির্মিত হচ্ছে যদিও পরিমাণে অপ্রতুল। সদ্য নির্মিত “জ” ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের ভাস্কর্য ভান্ডারে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে বলে শিল্পীদের ধারনা। ভাস্কর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন “শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কাজ করেছি। কক্সবাজারের প্রাকৃতিক এবং দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে মাথায় রেখে বিষয়বস্তুর সাথে মাধ্যমকে সংগতিপূর্ণ করে ফাইবার গ্লাসে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছি। আমার জানা মতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফাইবার গ্লাস মাধ্যমে উন্মুক্ত ভাস্কর্য হিসেবে এটাই এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ। জীব বৈচিত্র সম্পর্কে পর্যটকদের এবং স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে আমাদের ভাস্কর্যটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি”। ভাস্কর রবিউল ইসলাম এর মতে একই সাথে নান্দনিকতা এবং বিজ্ঞানকে মিশ্রিত করে শিল্পকর্ম উপস্থান করা অত্যন্ত দূরূহ ব্যাপার। জীব বিজ্ঞানী রাগিব উদ্দিন আহমদ বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রত্যেকটা স্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি হাঙ্গরের গতি-প্রকৃতি-আকৃতি-রঙ ও বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রেখে অত্যন্ত বাস্তবধর্মী এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই দুইয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে গিয়ে শিল্পমান যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে আমরা প্রত্যেকে সজাগ দৃষ্টি রেখেছি। ভাস্কর নূরুল ইসলাম বলেন কলাতলীর চার রাস্তার মোড়ে আটকোনা বেদীর মধ্যে নির্মিত হাঙ্গর-প্রবাল এবং সামদ্রিক বৈচিত্রময় প্রাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ ফোয়ারা ও আলো-আঁধারিময় আলোকসজ্জা ভাস্কর্যটিতে সমূদ্রের তলদেশের রহস্যময়তা সৃষ্টি করেছে। “তিনি আরো বলেন আমাদের এই কাজের পরিকল্পনাকারী রাগিব ভাই এর মতে হাঙ্গর বঙ্গোপসাগরের রক্ষক। হাঙ্গর বিলুপ্ত হলে বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিলুপ্ত হবে, তাই বিপন্নপ্রায় এই প্রাণীকে ভাস্কর্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করাতে জন সচেতনতা গড়ে উঠার পাশাপাশি একজন সাধারণ পর্যটকও অনায়াসে জীব বৈচিত্রের রহস্য এবং বিস্ময়কর জগৎ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবে।”

জানামতে এটাই কক্সবাজারে উন্মুক্ত ভাবে নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য। সামূদ্রিক জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার উপযুক্ত আটকোনা বেদীর উপর ফাইবার গ্লাসের মাধ্যমে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে। দৈর্ঘ্য ৩৩ প্রস্থ ৩৩ উচ্চতা ১৬ ফিট ভাস্কর্যটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ৫ (পাঁচ) মাস। আর এ মাসের শেষ সপ্তাহে ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হবে।





Untitled Document
Total Visitor : 709180
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :