Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বর্ণ বিচিত্রা
-শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার
বেল
সংস্কৃত শব্দ বিল্ব থেকে বাংলায় ‘বেল’ শব্দটি এসেছে। ‘বিল’ শব্দের অর্থ ছিদ্র। বিল্ব মানে যে বস্তুতে ছিদ্র আছে অথবা যে বস্তু ছিদ্র তৈরি করে। হিন্দুস্তানীতে ‘বিল’ শব্দ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিল্বে ‘ল’ আদি ‘ল’ । তদ্ভব শব্দ ‘বেল’- এতেও স্বাভাবিক ভাবেই আদি ‘ল’ থাকা উচিত- বাংলা উচ্চারণে তাই আছেও। হিন্দুস্তানীতেও বেলের উচ্চারণ আদি ‘ল’। বেলের পর্য্যায়বাচক শব্দ ‘শ্রীফল’ পশ্চিম বিহারে উত্তর ভারতে কোন কোন স্থানে প্রচলিত। ভারতে ও বহির্ভারতে বেলের নানান শ্রেণীবিভাগ দেখা যায়। পাতলা খোলা কম বীজ, কম আঠা, স্বাদ ও গন্ধের বিচারে রংপুরী বেলই সর্বশ্রেষ্ঠ। পাকা বেল পুষ্টিকর খাদ্য। তবে ঔষধীয় গুণ বড় একটা নেই। বেলের সরবৎ স্নিগ্ধকারক ও গ্রীষ্মকালে শরীরকে সুসন্তুলিত রাখে। এই সরবতের কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ল, ‘শরবৎ’ শব্দটি ফারসী। এর খাঁটি বাংলা হচ্ছে পানা যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে যা পান করা হয়। আজকাল ‘পানা’ শব্দের পরিবর্তে ফারসী ‘শরবৎ’ শব্দটি বাংলা ভাষায় বেশী চলছে। কাঁচা বেল পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে বা মোরব্বা (আচারের মত এই ‘মোরব্বা’ শব্দটিও আমরা পর্তুগীজদের কাছ থেকে পেয়েছি) করে নানান ধরনের উদর রোগের ঔষধ রূপে ব্যবহৃত হয়। আমরা কয়েদবেলের যে বেল শব্দটি সংযুক্ত করি তার একমাত্র কারণ হচ্ছে যে কয়েদবেল দেখতে কিছুটা বেলের মত, যদিও আকারে ছোট; কিন্তু কয়েদবেল আসলে বেল বর্গীয় ফল নয়। গাছও বেল বর্গীয় নয়। কয়েদবেলের পাতা ও বেলপাতার মধ্যে কোন সামঞ্জস্য নেই। তাছাড়া কয়েদবেলের গাছ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেলগাছের চেয়ে বেশী বড় ও ঝাঁকড়া হয়ে থাকে। কয়েদবেলের খাদ্য ও ঔষধগত গুণও অল্প। একমাত্র চাটনি হিসেবে খাদ্যের সঙ্গে ব্যবহার করলে এর কিছুটা গুণ পাওয়া যায় অর্থাৎ চাটনি বা আচার হিসেবে কয়েদবেল মুখে লালা আনিয়ে খাদ্যে রুচি উৎপাদনে ও পরিপাকের কাজে কিছুটা সাহায্য করে দেয়। বাসি আমপাতা, জামপাতা, বেলপাতা ও কয়েদবেলের পাতা সমপরিমাণে মিশিয়ে তাতে লোহা পুড়িয়ে গরম অবস্থায় ডুবিয়ে দিলে যখন ছ্যাঁ শব্দ হয় তখন লোহাটিকে সরিয়ে নিয়ে ঐ অক্সিডাইজড রস খাওয়ালে দীর্ঘকালের একটানা জ্বর রোগীর জ্বর সেরে যায়।
কারো কারো মতে কয়েদবেল বিদেশ থেকে এসেছে। কয়েদবেল যদি বিদেশ থেকে এসে থেকেও থাকে তাহলে তা এসেছে সুপ্রাচীনকালে। কারণ প্রাচীন সংস্কৃতে কয়েদবেলের নাম রয়েছে। কয়েদবেলের সংস্কৃত নাম ‘কপিত্থ’ বা ‘কপিত্থফলম’। লক্ষণীয় এই যে বাংলায় কয়েদবেল বলা হলেও সংস্কৃতে ‘কপিত্থবিল্ব’ বলা হচ্ছে না। কপিত্থ >কইত্থ >কইথা >কয়েথ/কয়েদ। উত্তর ভারতে ‘কইথা’ শব্দ প্রচলিত। পৃথিবীর আকার বর্ণনায় ভাস্করাচার্য বলেছেন- “কপিত্থফলবৎ বিশ্বং দক্ষিণোত্তরয়োঃ সমং”। কোপার্নিকাস পৃথিবীকে গোল বলে ঘোষণা করার আগেই ‘গোলধ্যায়’ এও এই কথা বলা হয়েছিল। শ্লোকটির মানে হচ্ছে পৃথিবীর আকার কয়েদবেলের মত। কেবল উত্তর আর দক্ষিণ দিকটা একটু চাপা। সংস্কৃত ভাষার নামকরা উক্তি “গজভুক্তঃ কপিত্থকঃ” অনেকেই জানেন।




Untitled Document
Total Visitor : 708658
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :