Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বাজেট রঙ্গ, অর্থমন্ত্রীর রাজনৈতিক চেহারা এবং একজন তাজউদ্দীন আহমদ
-শুভ কিবরিয়া
১৯৭২-৭৩ সাল থেকে ২০১০-১১ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৯টি বাজেট পেশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে দশজন ভিন্ন ভিন্ন মানুষ বাজেট পেশ করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী রাজনীতিবিদ তাজউদ্দীন আহমদকে দিয়ে এই বাজেট পেশ শুরু। এরপর সময়ে সময়ে বাজেট দিয়েছেন সামরিকজান্তা, অর্থনীতিবিদ, চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেট, সরকারি আমলা, প্রবাসী অর্থনীতিবিদ। বাজেট পেশের রেসে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেট সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান। সাবেক আমলাদের মধ্যে এম সায়েদুজ্জামান, এম এ মুহিত, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, মির্জা আজিজুল ইসলাম বাজেট পেশ করেছেন একাধিকবার। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান, মে. জে. (অব.) মুনিম এই দু’জন সামরিক কর্তা একাধিকবার বাজেট পেশ করেছেন। স্বৈরাচার সামরিক শাসক এরশাদের আমলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত দু’বার, এম সায়েদুজ্জামান চারবার, ড ওয়াহিদুল হক একবার বাজেট পেশ করেন। এ পর্যন্ত সামরিক শাসক জিয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১২ বার বাজেট পেশ করে রেকর্ডই গড়ে ফেলেছেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তার মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হলে, বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন ড. আজিজুর রহমান মল্লিক।

তাজউদ্দীন আহমদ
এখন প্রশ্ন বাজেট পেশের এই গল্প ফাঁদছি কেন?
উত্তরটা দেবার আগে বাজেট পেশকারীদের চেহারাটা সাল সমেত একবার চিনে নেই।
তাজউদ্দীন আহমদ (১৯৭২-৭৩ থেকে ১৯৭৪-৭৫)
ড. আজিজুর রহমান মল্লিক (১৯৭৫-৭৬)

মে. জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান (১৯৭৬-৭৭ থেকে ১৯৭৭-৭৮)
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (১৯৭৮-৭৯)
ড. এম এন হুদা (১৯৭৯-৮০)
এম. সাইফুর রহমান (১৯৮০-৮১ থেকে ১৯৮১-৮২)
এম এ মুহিত (১৯৮২-৮৩ থেকে ১৯৮৩-৮৪)
এম সায়েদুজ্জামান (১৯৮৪-৮৫ থেকে ১৯৮৭-৮৮)
মে. জেনারেল (অব.) মুনিম (১৯৮৮-৮৯)
ড. ওয়াহিদুল হক (১৯৮৯-৯০)
মে. জেনারেল (অব.) মুনিম (১৯৯০-৯১)
এম সাইফুর রহমান (১৯৯১-৯২ থেকে ১৯৯৫-৯৬)
শাহ এ এম এস কিবরিয়া (১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০০১-২০০২)
এম সাইফুর রহমান (২০০২-২০০৩ থেকে ২০০৬-০৭)
মির্জা আজিজুল ইসলাম (২০০৭-০৮ থেকে ২০০৮-০৯)
এম এ মুহিত (২০০৯-১০ থেকে ২০১০-১১)

২.
এই বাজেট প্রণেতাদের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক মানুষ ছিলেন মাত্র একজন। বাকিরা নানা পেশায় সময় কাটিয়েছেন। কেউ কেউ শেষ বয়সে রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়ে অর্থমন্ত্রী বনেছেন। এম এ মুহিত, শাহ কিবরিয়া, এম সাইফুর রহমান তাদের অন্যতম। অন্যান্য টেকনোক্র্যাট, বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের হিসাবে ধরলে এই ৩৯টি বাজেট প্রণেতাদের মধ্যে পূর্ণ রাজনীতির একমাত্র এবং একক মানুষ ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭২-৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু শাসনামলের সাড়ে তিন বছর বাদ দিলে, ১৯৯০-২০০৬ এই সময়ে গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও আর কোনো রাজনীতিবিদের কাঁধে এই দায়িত্ব বর্তায়নি।
কি বেগম জিয়ার শাসনামলে, কি শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের কালে কোনো পূর্ণ-রাজনীতিবিদকে এই অর্থমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে দেখা যায়নি।
কিন্তু কেন?
কেন গণতান্ত্রিক দেশেও এই গুরুত্বত্বপূর্ণ পদে বসেছেন সাবেক আমলা বা টেকনোক্র্যাটরা। যাদের পেশাগত জীবন কেটেছে বিশ্বব্যাংক বা জাতিসংঘের নানা পদে লোভনীয় বড় বেতনের চাকরিতে।
অথবা কেটেছে সরকারি উচ্চ পদের সচিবের চাকরিতে।
এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই নিহিত আছে বর্তমান বাংলাদেশের এই পরমুখাপেক্ষী-বিদেশনির্ভর, মুষ্টিমেয় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং চেতনামুখর অর্থনীতি ও রাজনীতির।

৩.
বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা লাভের সময়ে গোটা পৃথিবী মূলত দুই পরাশক্তি আমেরিকা এবং সেভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং বিভক্ত ছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার তার অনুপস্থিতিতে তাজউদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে যখন স্বাধীনতাযুদ্ধেরত তখন বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার উন্মেষকালে পাকিস্তানি শত্র“শিবিরের বড় মিত্র হয় আমেরিকা ও চীন। জাতিসংঘে চীন পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিঘিœত করতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি চীনÑআমেরিকার শর্তাধীন মার্কিন সাহায্য নেয়ার ব্যাপারে কট্টর বিরোধী ছিলেন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি অনুভব করেছিলেন মার্কিনিদের ষড়যন্ত্র রুখতে হলে তাদের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। তাই স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের  প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ক্রমশ পরিচিত হয়ে ওঠেন মার্কিনবিরোধী হিসেবে। অন্যদিকে নতুন স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে বিদেশী সাহায্য নিতে এত বাধবিচারী হলে দেশের ক্ষতি হবে, বঙ্গবন্ধুর এই মনোভাবেরও বিরোধী ছিলেন তিনি। তাঁর মত ছিল, ‘ভিন্ন রকম’।
পূর্বপাকিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খান একবার এ বিষয়ে তাজউদ্দীন আহমদকে বলেছিলেন, ‘তুমি একটা ভুল করেছ। তুমি শুরুতেই বলে দিলে, আমেরিকার কোনো সাহায্য আমরা নেব না। এটা ঠিক হয়নি।’
তাজউদ্দীন তাঁর প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, ‘দেখেন এই অগ্রিম বলে দেয়ায় ভালো হয়েছে। তা না হলে ওরা আমাদের ওপর জাঁকিয়ে বসত। আমরা বিদেশি সাহায্য ততোটাই নেব যতোটা আমাদের প্রয়োজন এবং সত্যিকার অর্থে যেটা আমরা কাজে লাগাতে পারব। আমাদের চাহিদা অনুুযায়ী বিশেষ প্রকল্পের ওপর যদি সাহায্য করে এবং শর্তহীন সাহায্যে দেয় তবে আমরা সাহায্য নিতে রাজি আছি। এই হলো আমার নীতি। দান, ঋণ এমনি এমনি ওদের ইচ্ছায় দেবে আর আমরা নেব, তা হবে না। আমাদের প্রয়োজনে শর্তহীন সাহায্য নেব, এছাড়া সাহায্য নেব না। মুজিব ভাই বসে আছেন, আমেরিকা সাহায্য দেবে, তা দিয়ে আমরা দেশ উন্নত করব! কিন্তু তা কেন? আমরা স্বনির্ভর হতে চাই।’
(সূত্র : তাজউদ্দীন আহমদ, আলোকের অনন্তধারা। প্রকাশক : প্রতিভাস॥ পৃষ্ঠা-২০)

৪.
আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকা ও চীনের নির্লজ্জ এবং স্বার্থান্ধ পক্ষাবলম্বনকে রুখে দেয় ভারতÑসোভিয়েত মৈত্রী। শুধু তাই নয়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘে চীন-পাকিস্তান-আমেরিকার বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে নেয়া নানা প্রস্তাব বাতিল হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন তিনবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
এই ইতিহাস ঘাঁটছি কেন?
বলার কথা এই যে, বাংলাদেশের জন্ম রুখতে তৎপর ছিল আমেরিকা।
তারা সপ্তম নৌবহরের মতো যুদ্ধজাহাজও পাঠিয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নিতে।
সেই আমেরিকা এখন বাংলাদেশের বড় মিত্র।
পাকিস্তানের বুক থেকে এক খণ্ড বাংলাদেশ তৈরি হলে ভূ-রাজনৈতিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভুত্ব কমবে, আমেরিকার সেই দুশ্চিন্তা এখনো কমেনি।
আজও ভূÑরাজনৈতিকভাবে অধিকতর গুরুত্ববহ হয়ে ওঠা বাংলাদেশের জলসীমা আর খনিজ সম্পদ আমেরিকার চোখ এড়ায়নি। এই ভূখণ্ডে তাই তার সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য সে বহাল রেখেছে।
তাত্ত্বিকভাবে যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে রাজনৈতিকভাবে বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়ে পরাজিত হয়েছে আমেরিকা, সেই আমেরিকা, বাংলাদেশের জন্মের পর মিত্রবেশে তার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে ছলেবলে-কৌশলে সাহায্য এবং পরামর্শের নামে এখানেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।

৫.
১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বদানকারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন দেশে একজন অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্বনির্ভর হতে চাইবেন  এই আকাক্সক্ষাকে আমেরিকাকে গ্রাহ্য করবেইবা কেন?
আমেরিকার স্বার্থ পরিপন্থী এই কর্মকাণ্ডের পরিণতি কি হবে?
বাংলাদেশ তার বড় প্রমাণ।
১৯৭৫ তার বড় সাক্ষী।
বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ঐ একই বছরের ৩ নবেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নির্মম শিকার হন সহযোগী অন্য তিন নেতার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
তাজউদ্দীন আহমদ (জন্ম ২৩ জুলাই ১৯২৫-মৃত্যু ৩ নবেম্বর ১৯৭৫) ৫০ বছরের জীবনে বুঝেছিলেন, মার্কিনিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে না পারলে দেশ স্বনির্ভর হবে না। আর দেশ স্বনির্ভর না হলে স্বাধীনতার কোনো অর্থ দাঁড়ায় না। তিনি ভাবতেন, অর্থনীতির দিকটা চিন্তা না করলে একটা দেশ বাঁচতে পারে না।
ইতিহাসের পাঠ ছিল তার জানা। সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতির অলিগলি তিনি জেনেছিলেন সুনিবিড়ভাবে। অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে প্রকৃত উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে তার ধারণা ছিল খুব সুস্পষ্ট। ১৯৭১ সালে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে। তিনি জানতেন বঙ্গবন্ধু ফিরে এসে যদি মার্কিনিদের এই কূটকৌশল অনুধাবন করে তা থেকে বেরিয়ে না আসেন তবে সত্যিকার ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কোনোদিনই গড়া সম্ভব হবে না।

৬.
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি যে আঘাত হানার চেষ্টা করবে সে বিষয়ে তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই এক প্রকার নিশ্চিত হন। এ বিষয়ে তিনি জয় বাংলা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সম্পাদক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসেই ইঙ্গিত প্রদান করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ ধরনের চক্রান্তের বিষয়ে তাজউদ্দীন আহমদের অনুমান ও বিশ্লেষণ কতকটা নিষ্ঠুর ভবিষ্যদ্বাণীর মতো ছিল। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ভাষ্যে এটি নিম্নরূপ :

...প্রশ্ন করলাম : বিদেশি ষড়যন্ত্র সফল হবে বলে আপনি মনে করেন?
তাজউদ্দীন বললেন : তৃতীয় বিশ্বে ফরেন এইড বা বিদেশি সাহায্য এবং তার রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে মার্কিন লেখকদেরই কয়েকটি লেখা আমি পড়েছি। এই লেখা পড়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি শঙ্কিত। এদের অপারেশন হবে অনেকটা এই ধরনের। বাংলাদেশ মুক্ত হলে এরা বিপুল সাহায্যের অফার নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং নিজেদের তত্ত্বাবধানে সাহায্য বিতরণ করতে চাইবে। সাহায্য যা পাওয়া যাবে, তার বারো আনা ব্যয় হবে তাদের তদারকিতে, সাহায্য প্রেরণের জাহাজ ভাড়ায় এবং তাদের লোকদের খরচ মেটাতে। কিন্তু বাইরে প্রচার হবে, বাংলাদেশে সাহায্যের বন্যা বইয়ে দেয়া হয়েছে। এই সাহায্য প্রকৃত অভাবী লোকদের হাতে পৌঁছাবে না। সাহায্যের টাকার দৌলতে সরকারি প্রশাসনে তাদের সমর্থক শক্তিশালী গ্র“প তৈরি করা হবে। দেশপ্রেমিক অফিসার ও মুক্তিবাহিনীর লোকজনকে দুর্নীতিপরায়ণ করার চেষ্টা হবে। সরকারবিরোধী এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশিদের সমর্থক রাজনৈতিক দল ও পত্রিকাকে টাকা দেয়া হবে। সরকারি দলের মধ্যে নিজেদের গ্র“প তৈরি করা হবে। সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ও দেশাত্মবোধ নষ্ট করা হবে। তার পর বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি  এই বিদেশিদের কথামতো না চলেন, তাহলে সব দুর্নীতি ও খারাপ কাজের দায়-দায়িত্ব সরকারের কাঁধে চাপানো হবে। সাধারণ মানুষ- বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণীকে বিক্ষুব্ধ করে তোলা হবে। ব্যবসায়ী শ্রেণীকে হাত করে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা হবে এবং এইভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করার পর সিভিল অথবা মিলিটারি ক্যু ঘটিয়ে পছন্দমতো তাবেদার সরকার বসানো হবে।
... বললেন : শেখ মুজিব দেশে ফিরে কি  করতে চাইবেন আমি জানি না। যদি তিনি আমার কথা শোনেন, তাহলে এই বিপদ মোকাবিলা করা যাবে।
(সূত্র : আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, ইতিহাসের রক্তপলাশ পনেরোই আগস্ট পঁচাত্তর ॥ প্রকাশক : আগামী প্রকাশনী, ঢাকা ১৯৯৬। পৃষ্ঠা- ১০০-১০১)

৭.
আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই তখন দেখি বঙ্গবন্ধু এবং তাজউদ্দীনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর পদে আর কোনো রাজনৈতিক মানুষ আসেনি।
বিষয়টি কি এমন, রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থমন্ত্রী হবার মতো কোন রাজনীতিবিদ নেই।
নাকি, মার্কিনি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার, তাদের আনুগত্যপ্রবণ না হবার আশঙ্কা থেকেই এই পদে কোনো রাজনীতিবিদকে আমরা পাই না।
প্রিয় পাঠক, প্রশ্নটা তোলা রইল সেই জিজ্ঞাসায়।


    





Untitled Document
Total Visitor : 708968
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :