Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
শিল্পীর অনুপস্থিতি ও দর্শকের জন্ম
-মোস্তফা জামান

(পূর্ব প্রকাশের পর)

একেক ভাষ্যকার একেক নন্দন ও শিল্প-ইতিহাস তুলে ধরতে পারেন, তখন শিল্পের দর্শকতো আরো বিপাকে পরবেন, এমন প্রশ্ন উঠতে পারে। এমন হলে দর্শক বিপাকে পরবেন না। কারণ যতো মত ততোই পথ পরিষ্কার সম্ভব হয়ে ওঠে। মতের বিভিন্নতা দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়, আর দ্বন্দ্ব ছাড়া সত্যে উপনীত হওয়ার অন্য কোন বিকল্প মানব সভ্যতার ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না।

আমাদের সমাজে শিল্পের দর্শকের সমস্যা দ্বিবিধ। প্রথমত, দর্শক নিজেই চোখের চর্চা করেন বা শিল্প দেখেন শিল্পীর নাম অনুসারে। অর্থাৎ নিজ চোখে দেখার চেয়ে অণ্যেও চোখে দেখার চর্চার আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। বিবিধ মিডিয়া শিল্পীকে যেভাবে প্রমোট করে বা যে ধরনের শিল্পকে প্রমোট করে তা অনুসরণ করে দর্শক চালিত হন। মিডিয়ার প্রমোশনমূলক তথ্য ছাড়া দর্শক আর কোনো শিল্পের সূচক আবিষ্কারের পন্থা পান না।

      এমন ‘আপনার করে’ দেখার পরও সমস্যা রয়ে যায়। এটি দ্বিতীয় প্রস্থ সমস্যা। দর্শক দেখার চর্চার পাশাপাশি কোনো ভাষ্যের সাহায্য পান না। কোনোরকম নন্দনতাত্ত্বিক বিতর্ক, বিশ্লেষণ ও বিচারে চোখ রেখে দৃশ্যের সাথে বা দেখা বিষয়ের সাথে চিন্তাকে মিলিয়ে নিতে পারার সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি অমিলও আবিষ্কার করতে পারছেন না।

 
যেহেতু শিল্পকেন্দ্রিক ভাষ্য তৈরির সংস্কৃতির সাথেই দর্শক পরিচিত নন, সেহেতু তিনি নিজেও মনে মনে নিজস্ব ভাষ্য তৈরিতে উৎসাহী হন না। এ দেশে শিল্প সমালোচকের অভাব। প্রতিটি দর্শকের মধ্যেও যে সমালোচক সত্তাটি থাকে তিনিও ঘুমন্ত রয়ে যান, প্রকাশিত হবার উৎসাহ পান না। কারণ শিল্পীও তার শিল্পকে শিল্পের ইতিহাসের অংশ বলে মনে করেন না। আগেই বলা হয়েছে যে, শিল্পী তার সৃষ্ট শিল্প যাচাইয়ের  ক্ষেত্রে একনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে কুণ্ঠা বোধ করেন না।

একটি বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে নেয়া জরুরী যে, শিল্প শিল্পীর সৃষ্টি, কিন্তু সৃষ্ট শিল্প সমাজের এবং ইতিহাসের অংশ। সুতরাং শিল্পের সমস্ত অভিধার বড় অভিধাটি হলো, এটি একটি নির্দিষ্ট সমাজে নির্দিষ্ট সময়ের ইতিহাসে একটি সংযোজিত বস্তু ও অধ্যায়। সুতরাং এই নব্যবস্তু বা সৃষ্টিকর্ম বা এই অধ্যায় বিচারে স্রষ্টা ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিপ্রেক্ষিতের চাইতে সামাজিক ও শিল্পের ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতটাই অধিক তাৎপর্যপূর্ণ ও বিচারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

গতকালের শিল্পের সাথে নতুন একটি শিল্পের সম্পর্ক নির্ধারণ করতে শিল্পের ইতিহাস পাঠ করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু পঠনপাঠন সাহায্যকারী বিষয় হিসেবে বিবেচ্য। কারণ শিল্প বিচারের মূল পন্থাটি জ্ঞান বা বুদ্ধি থেকে জন্মে না।

আগেই বলা হয়েছে সৃজিত শিল্পটি একটি ঐতিহাসিক শক্তির আওতায় চলে আসে। এই শক্তি সম্মিলিত চেতনার বা আগের ভাষা ধার করে বলা যায় সম্মিলিত নিজচেতনার শক্তি। সম্মিলিত চেতনা হলো একটি গড় চেতনা। সমস্ত মতামত, জ্ঞান চর্চা (হোক তা বিশেষজ্ঞ বা সাধারণের জ্ঞান), ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর শিল্পের প্রতি জবাবের ক্রিয়া বিক্রিয়ার পরিণতি হচ্ছে এই গড় চেতনা। এটি জাতীয় সত্তা বলে প্রচারিত বিষয়টির বাইরে পড়ে। কারণ জাতীয় সত্তা বলতে আমরা বুঝি গুটিকয় নেতা ও নেতার পোষ্য বুদ্ধিজীবীদের অলীক অথচ সুনির্দিষ্ট চিন্তার বিকৃতির ভিত্তিতে গড়ে তোলা ডগমা বা অপরিবর্তনীয় মতবাদ। অপরদিকে সম্মিলিত চেতনা শ্রেণীভেদে বিভিন্ন এবং মধ্যবিত্তের অধীনে (যেহেতু এই শ্রেণীটিই শিল্প ও জ্ঞানচর্চায় অগ্রগামী ভূমিকা রাখে) সমাজ বাস্তবতা থেকে জন্ম নেয়া চৈতন্যকেই গোটা সমাজের বলে ধরে নেয়া হয়। তবে, যে শ্রেণীর চেতনাই হোক না কেন, এটি সদা পরিবর্তনশীল এবং এতে নিজচেতনারই চেতনা।

সম্মিলিত চেতনা দুর্বল হওয়ার কারণ প্রথমত আর্থ-সামাজিক। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে ওপরতলা বা উঁচুশ্রেণী তার উঁচু ও মার্গীয় রুচিভিত্তিক ভাবনার প্রতিনিধিত্বকারীরা যা কিছু তাদের বিপরীতে অবস্থিত মানুষদের দিকে ছুঁড়ে দেন তাই বিনা দ্বন্দ্বে গ্রহণ করে নেয়ার প্রচলিত অভ্যাসের মধ্যে সমস্যার প্রকাশ বিদ্যমান। এই গ্রহণ করে নেয়ার অভ্যাস উঁচুতে ওঠার চেষ্টা থেকে জন্ম নেয়।

দ্বিতীয়ত, এই হীনম্মন্যতার সংস্কৃতির বিপরীত বা পাশাপাশি শহুরে- অর্থাৎ বুর্জোয়া লিবারেল অর্থনীতি ও সংস্কৃতি পরিচালনার কেন্দ্রে কোনো ক্ষীণ স্রোত না থাকা। এটি সমস্যাকে ঘনীভূত করেছে। উন্নত বলে যে সমাজকে পাশ্চাত্যে আমরা চিহ্নিত করি, সেই সমাজে ভিন্ন স্রোত সবসময়ই বর্তমান ও শক্তিশালী। এই স্রোতের সাথে মূল স্রোতের আদান-প্রদানও বিদ্যমান। উন্নয়নশীল নামের তকমাওয়ালা দেশগুলোতে শিল্পী, ক্রেতা,সমঝদার ও মিডিয়ার সমন্বয়ে একটি ক্ষুদ্র সমাজ সৃষ্টি হয়ে আছে। তার বিপরীতে অন্য কোনো তথ্য ও ভাবের আদান প্রদান দুয়ের কথা, এই তথ্য, ভাষা বা ভাবের জন্মই অনেক সময় সম্ভব হয় না।

গ্রাম-বাংলার মৌখিক বা ওরাল যে সংস্কৃতি প্রচলিত ছিলো তা শহুরে আধুনিক মানুষ ত্যাগ করেছে। ফলে ঐতিহ্যের সাথে যে ছেদ পড়েছে ও এর ফলে যে শূন্যতার জন্ম হয়েছে তা পাশ্চাত্য শিক্ষিত গুটিকতক ব্যক্তির জড় বুদ্ধি দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা চলছে মাত্র। এই ব্যক্তিবর্গই এলিট সমাজের স্থপতি।

বোধগম্যতা ও বিচারের অস্ত্রকে শক্তিশালী করতে ইতিহাস, নন্দনতত্ত্ব, সমাজ ইত্যাদির পাঠ উৎসাহিত করতে হবে। এই পাঠ বিদ্যালয় বা বইয়ের পাঠ না। প্রচলিত পুঁথিগত বিদ্যার বাইরের প্রতিটি মানুষের স্ব স্ব পাঠ। এমন পাঠের সম্ভাবনা সৃষ্টির দাবি আজকের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অস্বাভাবিক দাবি। কিন্তু এটি ছাড়া বৃহত্তর গোষ্ঠীর চৈতন্য সবল হবে না কোনদিনও।

এই বৃহত্তর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি সৃষ্টিরও প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে লিখিত পাঠ সৃষ্টির যা এই সম্মিলিত চেতনাকে আকৃতি দেয়ায় ও শক্তিশালী করায় ভূমিকা রাখবে। অর্থাৎ সমন্বিত যে সাংস্কৃতিক আবহ তার ওপর বাইরে থেকে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে, এর অভ্যন্তর থেকেই এর পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে। এই সাংস্কৃতিক আবহ বা শক্তি যে অপরিবর্তনীয় তা নয়, তবে এর পরিবর্তন সর্বদাই উদ্দেশ্যহীন। কারণ এই চেতনা বা শক্তিকে চিহ্নিত করার মানুষও আমাদের সমাজে গরহাজির। এই মানুষ, বা প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিই আমাদের সৃষ্টি করতে হবে।

শ্রেষ্ঠ শিল্প পাঠ হলো প্রত্যেকের স্ব স্ব পাঠ। কিন্তু যেহেতু দর্শকের পাঠ ব্যহত হচ্ছে। তাকে ওপর থেকে শিক্ষা দেয়ার প্রক্রিয়াই জিতে যাচ্ছে। সে জন্যেই বিকল্প ভাষ্য তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে। যেই ভাষ্য দর্শককে শিল্পের সার চেনাতে সাহায্য করবে-- শিল্পকে সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখতে শেখাবে। এর স্রষ্টা ও তার ক্ষুদ্র সমাজ ও তার স্বার্থের প্রেক্ষাপট থেকে শিল্পকে আলাদা করে চিনতে শেখাবে। উৎসাহিত করবে ব্যক্তিগত নিজস্ব পাঠ ও শ্রেণীগত পাঠ এবং আরো নানা প্রকৃতির পাঠে। কারণ সম্মিলিত চেতনা এই সব পাঠেরই একটি লসাগু ছাড়া কিছুই নয়। যে কোনো সমাজে এই সম্মিলিত চেতনা বা গোষ্ঠী চেতনা, ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিনিধিত্বকারী (নিজ স্রোতের বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী) ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে আদান প্রদান বিদ্যমান, এই আদান প্রদানই সত্যিকারের শিল্পপাঠ সমাজে সম্ভব করে তোলে।

লিখিত আকারে আমরা যে পাঠ পাচ্ছি, তারসাথে মৌখিক স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ারও একটি স্পষ্ট আদান প্রদান বিদ্যমান। একটি আরেকটিকে সফল করতে সহায়ক হয়, আবার দুর্বল করে তুলতেও ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে শিল্প সমালোচনা যেহেতু একটি ক্ষুদ্র শিল্প প্রমোটকারী গোষ্ঠীর মাউথপিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেহেতু এতে শিল্পবস্তুর বর্ণনা, শিল্পীর ধর্মবৎ অঙ্গীকার ও ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণার স্থলের বা বিষয়ের বর্ণনার পঠনপাঠনই মুখ্য বিষয় বলে বিবেচিত হয়। মনে রাখতে হবে এই সমালোচকরা একটি ক্ষুদ্র এলিট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। বৃহত্তর সমাজের যে চরিত্রটি এই সমালোচকদের আক্রান্ত করে তা হলো, আত্মসমর্পণের ঝোঁক। যা কিছু শিল্পী ও তার ক্ষুদ্র সমাজ এই সমালোচকদের বোঝাতে চাচ্ছেন তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার মাধ্যমে এই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়াটি সংগঠিত হয়।

শিল্পীর একটি ক্ষুদ্র সমাজের গণ্ডিতে আটকে যাওয়া এবং সমালোচকের এই ক্ষুদ্রত্বকে মহিমন্বিত করার ফলে যা ঘটছে তা হলো ঃ
শিল্পী যে বৃহত্তর সমাজের একজন প্রতিনিধি হতে পারেন সে বিষয়টি অনুত্থাপিত থেকে যাচ্ছে।
শিল্পী যে বৃহত্তর সমাজের ও সেই সমাজের সাংস্কৃতিক সুস্বাস্থ্যের বা ভগ্ন স্বাস্থ্যের প্রতীক বা চিহ্ন এমনকি এই সমাজের ভবিষ্যতের ইঙ্গিত প্রদানকারী, এই বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচেছ।

আমাদের সমাজে শিল্প সমালোচক বর্গীকরণ এড়িয়ে ও সামাজিক প্রেক্ষিত উল্লেখ না করে শুধু শিল্পবস্তুর তলের বর্ণনা করেই তার কাছ সম্পন্ন হয়েছে মনে করেন। অন্যদিকে শিল্পীও ‘সৃষ্টিশীলতার সাথে তিনি জড়িত’ এই ভাবনায় মশগুল হয়ে পড়েন। ভুলে যান যে তিনিও বৃহত্তর সমাজের প্রতিনিধি। ফলে তার ব্যক্তি জীবনের আশা-আকাক্সক্ষাই নিজের শিল্প বিষয়ক ভাবনা বলে ভ্রম হয় তার কাছে। আর তার ব্যক্তি জীবনের আশা-আকাক্সক্ষায় তার ক্ষুদ্র সমাজের চিহ্ন খুবই স্পষ্ট হয়ে ফোটে। রুচিকেন্দ্রিক ভাবনার জয় এই ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র এলিট সমাজের যোগাযোগের ফলাফল।

এই সামাজিক গিট্টুতে আটকে থেকে শিল্পী এমনই অসার হয়ে পড়েন যে, তিনি ভাবেন তিনি মুক্ত। আরো ভাবেন যে তিনি একা এবং তার ভাবনাগুলো স্বতন্ত্র। ফলে সৃষ্টিশীল ব্যক্তি ও প্রক্রিয়া মহিমান্বিত হয়, আড়াল হয় সামাজিক সূত্র। সৃষ্টিশীলতায় মশগুল (?) ও বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করে তোলার সংস্কৃতিই ধর্মবৎ মিস্টিসিজ্ম্ এর সংস্কৃতি। এই সাংস্কৃতিক আবহেই শিল্পীর আত্মজৈবনিক বিষয় দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘন ঘন ঘটে। এবং অনুভূতির নামে বুদ্ধিহীন ভাবালুতাময় একাকীত্ববাদী আবেগ সবকিছুর নিয়ন্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

এ কারণেই যে সমস্ত শিল্পীরা সমাজ সচেতনতার ধ্বজাধারী, তারাও সমাজ সংস্কারের দিকে মনোযোগী হয়ে ওঠেন, সমাজে ব্যাধির ফলাফল থেকে কারণ পর্যন্ত পৌঁছানোর হিম্মত হারিয়ে ব্যাধির বর্ণনাকারীতে রূপান্তরিত হন। একদলে আত্মচেতনার নামে আত্মকেন্দ্রিকতার জয়জয়কার, অপর শিবিরে দেশহিতৈষণার (?) আকাক্সক্ষা। এই দুই বিপরীতমুখী প্রবণতাই একে অন্যের বিরোধী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এই দুই শিবির ভ্রান্ত দ্বন্দ্বের ভিত্তিতে আধাবুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে নামেন।

প্রথমোক্ত দল প্রকৃতির তল পর্যবেক্ষণ করেন, তার ভিত্তিতে শিল্প গড়েন। পরবর্তী দল সমাজের তল পর্যবেক্ষণ করেন ও ব্যাধি বিবৃত করেন। নিজের পাটাতন ও শ্রেণীভূমিকা নিয়ে কারোরই মাথা ব্যথার জন্ম হয় না। আত্মপরিচয়ের একটি বড় অংশই যেহেতু সমাজে নিজের অবস্থানকে চিহ্নিত করতে পারার সাথে সম্পর্কিত সেহেতু শিল্পীদের মধ্যে এই চেতনার অভাব বাংলাদেশের শিল্পকে নকল, পুনরাবৃত্তিমূলক, খেলো, সস্তা, দেখানো বুদ্ধিবৃত্তি ও অতি সৌন্দর্যমুখী রুচিভিত্তিক চিত্রকল্পের উর্বর ভূমিতে পরিণত করেছে।

শিল্পীরা সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সন্তান। তাদের আত্মচেতনার উদ্বোধন আমাদের কাম্য। তার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যে সত্য জেনে রাখা জরুরী তা হলো- শিল্পীর অবর্তমানেই শিল্পের যথাযথ বিচার সম্ভব। শিল্প ও দর্শকের সম্পর্কের মাঝে শিল্পীর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নন্দনচেতনার।

(এই লেখাটি ‘ভোরের কাগজ’-এ ২০০৩ এর একুশের বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রথম ছাপা হয়।  লেখাটাতে সামান্য যোগ-বিয়োগ করে পরিবর্তিত অবস্থায় ছাপানো হলো।)

    


Untitled Document
Total Visitor : 709223
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :