Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
নৌকাডুবি
-ইমরুল হাসান
 
লঞ্চঘাটের কাছে এসেই ডুবে গেলো নৌকা আমাদের

একটা ষ্টীমার যাচ্ছিলো
আর তার বড় বড় ঢেউ উপড়ে ফেললো আমাদের

 উল্টানো নৌকার ভিতর থেকে
আর কারো কোন চিন্তা-না-করে
প্রাণপন সাঁতারে
ভেসে ওঠি পানির ওপর

 তারপর কাঠের পাটাতনের ফাঁক দিয়া
ওঠে আসছি এই লঞ্চঘাটে

 বাঁশের পুলটা পার হয়া
চায়ের দোকানের পাশে দাঁড়াইয়া মনে হইলো
আর কে কে আমার মতো, ওঠে আসছে?

 নৌকাতে তো ছিল নীল,
যার দিকে আমি তাকাইতেই পারি নাই;
একটু পরে ভেজা-কাপড়ে জড়োসড়ো
চলে যাচ্ছে শে, মাথা-নিচু করে;
ইচ্ছা করলো গিয়া বলি,
‘দেখো, আমি আর তুমি; দুইজনেই বেঁচে আসছি!’

আর বেঁচে-থাকা এতোটাই অদ্ভুত যে আমি কোন কথা বলতে পারি না
ভেজা-কাপড়ে আরো আরো মানুষ আসছে

 হঠাৎ-ই মনে হইলো, পলা কই গেলো?
 
সময় যায় আর আমি অস্থির হয়া উঠি
অপেক্ষা করতে করতে হয়রান
একসময় মনে হইলো, বাজারের ভিতর
রিকশা দিয়া যে দুইজন লোক যাইতেছে
তাদের একজন, পলা
এমনকি মনে হইলো যে, সে পিছন ফিরা হাসলোও
আমার দিকে তাকাইয়া

 আমি ভাবি, এইটাই ভালো, সবাই যে বেঁচে আছে
যার-যার-মতো আসছে, চইলা যাচ্ছে
এইটাই বড় একটা নিশ্চিন্তি
নিজের বাঁচার পাশে আরো বড় একটা শান্তি!

 একটা নৌকাডুরি’র পর এরচে’ ভালো আর কি হইতে পারে?


 
পোশাকের কান্না
-ইমরুল হাসান

যতক্ষণ আমি ছিলাম তোমার গায়ে, তুমি হাসছিলে
আর ছুড়ে ফেলে দেয়ার পর দেখি, আমি আর আমি নাই
কি যে আর্তনাদ জেগে ওঠে, সকালবেলায়!

সমস্তকিছুই অহেতুক, অর্থহীন মনে হতে থাকে
তোমার শরীর থেকে ঝরে পড়ে, বারান্দার দড়িতে ঝুলে থাকি,
দেখি - একটা চড়–ই ডাকছে
পাশে উঠছে নতুন দালান, অস্থি-মজ্জার মতো পেঁচানো কাঠগুলি তার গায়ে,
সেই ফাঁকগুলি থেকে তিনতলায় উঁকি দিচ্ছে একটা বানর...
ছোট্ট একটা মেয়ে-শিশু ঘুমাচ্ছে, বিছানায়
আরো আরো কতকিছু বলবার বাকি রয়ে গেলো...
এইভাবে শুরু হচ্ছে দিন, তোমারও...

কিভাবে আমিও মূর্ত হয়ে উঠতে পারি
তোমার চিন্তা ও সম্মতি ব্যতীত?

আমি ভাবছি, এই বিচ্ছিন্নতা হয়তো ভালো,
কিন্তু এই দমবন্ধ করা ভাবনায়, আমি আটকে যাচ্ছি
কোন এক দিন হয়তো
এইরকম একটা সকালবেলাতেই আমার মৃত্যু!

হঠাৎ করেই ঝোল-এর হলুদ দাগ দেখে মনে হবে
এরে তো আমার আর কোন দরকার নাই...

প্রতিবারই যখন তুমি খুলে ফেলে ছুড়ে দাও
আমি ভাবি, এইবারই হয়তো শেষ
আমার দমবন্ধ করা চিন্তার ভিতর আমি আটকে থাকি
সারাটাদিন

রোদ এসে পড়ে, একটু পরে
নির্মাণকাজ শুরু হবে, শ্রমিকেরা উঁকি দিবে
আমার শরীরে আটকে যাবে তাদের চোখ

ঘিঞ্জি দালানগুলি ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ ওর গায়ে
একটা ভুমিকম্পের অপেক্ষায়
ঠেলে-ঠুলে, কোনরকম তাদেরও দিন পার হচ্ছে...

একটা কাকের পা কি শক্ত হয়ে চেপে বসছে আমার কাঁধে!
এই রোদ্রকরোজ্জ্বল দিনে, বারান্দার দড়িতে ঝুলে
এতসব কিছু দেখতে দেখতে
আমি ভেবে যাচ্ছি তোমার কথা:

প্রতিদিনের কান্নার মতো যা যা কিছু ঘটে যায়, তার নিরবতাগুলি
তোমার শরীরে ঘষে ঘষে আমি মুছে ফেলতে চাই

  যেন কোনদিনই, কোনকিছুই ঘটে নাই!

Untitled Document
Total Visitor : 709343
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :