Untitled Document
udriti
ঋত্মিক ঘটক ১৯২৮ সালে জন্মেছিলেন ঢাকায়। তাঁর নির্মিত যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ এর দেশভাগ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আর নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সময়ের নির্মোহ-নির্মম সমালোচনা। ৩৬ বছর পরেও তাঁর এ মূল্যায়ণ তীব্রভাবেই সমকালীন। আমাদের এবারের উদ্ধৃতি যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রের নির্বাচিত অংশ।
এদেশে সবচাইতে উজ্জ্বল দার্শনিক চিন্তা কিছু জন্মগ্রহণ করেছে

এ চলতে পারেনা। আমাদের সমস্ত জেনারেশনটার কোনো ভবিষ্যৎ নেই; way out নেই- প্রস্ততি। একটা কিছু থাকতেই হবে। অনেক। আমাদের বাংলাটার হিস্টোরিক্যাল কন্ডিশনটাকে কেউ সায়েন্টিফিক্যালি আলাদা করেনি। বিজ্ঞানের সূত্রে ইতিহাসকে খোঁজা এবং ইকোনমিক্যাল- ইকোনমিক্যাল Class গুলোর গত দুশো বছরের উত্থান পতন, বিশেষ করে- যাকগে, কেউ- এইযে ৪৭ সালের বিশাল দেশটার ভাগ, জাতীয় মুক্তি আন্দোলন, ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্টের পিঠে ছুরি মেরে বুর্জোয়াদের ১৫ ই আগস্টের বিরাট গ্রেট বিট্রেয়ার- হীন, ইনডিপেন্ডেস। থু।
(.. ..আরে এটা তো একটা মাতাল। কে তুমি?)
ঐ শিশুটি যা বললো এক মাতাল।
(ও সব কিছু ছাড়। কে তুমি?)
আমি.. আমি পুড়ছি, ব্রক্ষ্মাণ্ড পুড়ছে, সব পুড়ছে।

(He is a quite well-known man. He has no politics)
I haven’t, have I?
(আপনি matter করেন না। আপনি যেতে পারেন।)   
আমি কিন্তু থাকতে চাই, জানতে চাই যে তোমাদের মধ্যে কি প্রাণশক্তি কাজ করছে?
(কিন্তু আমরা যেকোনো মুহূর্তে attack expects করছি।)
তবু আমি থাকতে চাই, তোমরা ছাড়া আমার এ বাংলাদেশে আর তো কিছু নেই। তোমরাই তো আমার সব।
(তবে থাকুন।)
চালাতে পারি।
(এতো মদ খান কেন?)
খাই, যুক্তি নেই।
(মানে আপনাদের মতো লোকজনই.. মানে সত্যি..আপনাদের বোঝা উচিৎ, আপনারা যদি-)
আমরা! আমাদের জেনারেশনটা- হয় আমরা চোর, নাহলে বিভ্রান্ত, নাহলে কাপুরুষ হয়ে পালিয়ে যাবার মিছিল। খাঁটি কোনো ব্যাটা না। এক শালাও না, তোমরাই ছেলেমেয়ের দল- তোমরাই হলে ক্রিম অব বেঙ্গল। আমাদের সম্পূর্ণ পুঁজি।
(তাই যদি ভাবেন, তাহলে.. ..)
দাঁড়াও, তোমাদের সব দাদাদের মতো, সব মত ও পথের দাদাদের মতো- এই শুয়োরের বাচ্চা দাদাদের কথা যদি না শোনো- তারপর প্রাণভরে বলো, আমি সব শুনবো।
আরে দাঁড়াও, তোমাদের  তোমাদের বীরত্ব, তোমাদের আত্মত্যাগের প্রতিজ্ঞা, এসবে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তোমরা সম্পূর্ণ মিসগাইডেড। অগ্নিযুগের ছেলেদের মতোই তোমরা একই সঙ্গে সফল এবং নিষ্ফল। একসঙ্গে গোঁয়ার এবং অন্ধ।
(একদম বাজে বকবেন না, পড়েছেন কিছু.. ..)
(রেডবুক, গুয়েভারা, সিপিসিপির রিপোর্ট না পড়েই এতো তড়পাচ্ছেন কেন?)
ধীরে বৎস তিষ্ঠ ক্ষণকাল আরে বাতলটা বের করতে দাও। এসো আমরা একটু ছাত্র হই।
হবে, হবে। দাঁড়াও, দেখ মার্কসিজমও ডায়ালেকটিকস- এ পর্যন্ত। It is very much guided by dialectical and historical materialism । মোটাদাগে এটার ক্রমবিবর্তনটা  দেখা যাক। মার্কস এঙ্গেলসের বৈজ্ঞানিক সমাজবাদকে কমরেড লেনিন টেনে নিয়ে গেলেন এবং এ্যাল্পাই করলেন পুঁজিবাদের আরেকটা বিকাশের স্তরে, তিনি বললেন Imperilism is the moliborn thing of Capitalism

হা তারপরে এলেন কমরেড স্তালিন। যাকগে ওসব নিয়ে আর তোমার ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটাতে চাই না। কমরেড স্তালিনের ইনফ্লুয়েন্সে ব্যুরোক্রেটিক স্যোসিওলিজমের জন্ম দিলো নাকি। এলেন কমরেড মাও। তিনি চীনের কৃষক শ্রেণীকে সংঘবদ্ধ করে বিপ্লবের পথে নিয়ে গেলেন এগিয়ে। ব্যাপারটা কিন্তু এইখানেই থেমে থাকলো না এলেন গুয়েভারা। তারা আবার বুদ্ধিজীবী এবং কৃষক পরিবারের ছাত্র সম্প্রদায়ের উপর নির্ভর করে এগুবার চেষ্টা করলেন। তারপর যে কিসব হতে আরম্ভ করলো যে মার্কসবাদের নাম কওে, তা আবার সব উল্টে গেছে। কেমন যেমন নিউইজম, টেরোরিজম, এ্যাডভেঞ্চারিজম - এই সমস্ত মানে লেনিনের ভাষায় ইনফেনটারী ডিজওর্ডার মানে বালখিল্যসুলভ বদহজম- এসব কথা মনে হচ্ছে আর কি।

(আপনার কথাটাই তাহলে সত্যি।)
মানলেন তাহলে.. ..
(হাঁ, মানলাম। আপনার মান্ধাত্বার আমলের statement টা। অর্থাৎ যা দিয়ে আপনি আপনার বক্তৃতা শুরু করেছিলেন। ..সত্যিই আপনি একজন ক্ষয়ে যাওয়া, পঁচে যাওয়া, ফুরিয়ে যাওয়া নিম্ন মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মাতাল প্রতিনিধি। অতএব আপনার প্রলাপ ছাড়ার কোনো মানে হয়না।)   
ঠিক। তাহলে একটু চড়াই। এবং যখন আরম্ভ করেছি তখন প্যাঁচাল পাড়াটা শেষ করি। দেখ বাবারা, কও দেখিনি এই ভারতবর্ষ- ভারতবর্ষের ইতিহাস কতো হাজার বছরের। এবং যতোই গাল দেই না কেন, এদেশে সবচাইতে উজ্জ্বল দার্শনিক চিন্তা কিছু জন্মগ্রহণ করেছে।

ফিচেল বদমাশেয়দের হাতে এদেশ প্রচুর হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। এগুলো বদমায়েশির অস্ত্র। কিন্তু সেগুলোকে বুঝে জাপটে ধরে উপড়ে ফেলতে হবে আর নেই বললেইতো আর চলে যাবে না। ওদের শিকড় উপড়াতে হলে ওদের শক্তি এবং দুর্বলতা ভাল করে জানতে হবে। বুঝলে.. ..
আমি কনফিউসড। হয়তো আমরা সবাই কনফিউসড । আসলেই কনফিউসড। আমরা সবাই দিশেহারা হয়ে হাতড়ে হাতড়ে, হাতড়ে হাতড়ে বেড়াচ্ছি।
  
জীবন...
জীবিতের...
জীবিতের..
অমোঘ..
দুর্নিবার।
Untitled Document
 
Total Visitor : 708572
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard