Untitled Document
ভাদ্র সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
কয়লা সম্পদ হতে পারে না
-মোল্লা সাগর

উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ-পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ এই চার বঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশ।
পাঠক এই তথ্য টুকু মাথায় রাখলে ভাল হয়।

অর্থনীতির নামে দক্ষিনবঙ্গের মানুষ চিংড়ি চাষে এখন প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন, সরকার আয় পাচ্ছেন, পাচ্ছেন রাজস্ব। দেশ সমৃদ্ধ হচ্ছেন অর্থনীতিতে। লবণে পুড়ছে ফসলের মাঠ- গ্রাম, জলাশয়, মানুষ। আমাদের অভিজ্ঞতায়, ওখানকার মানুষদের এখন ডলার চিঁবিয়ে খাওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। চারপাশে হাহাকার.....


গানটি হৃত্বিক ঘটক এর সুবর্ণ রেখা চলচ্চিত্র হতে সংকলিত
অপর দিকে ফসলের অবারিত মাঠ, হিমালয় থেকে নেমে আসা ঠান্ডা পানির ধারা যা মাটির নীচ দিয়ে সদা প্রবাহমান, গ্রামবাংলার মানুষের একে অপরের প্রতি মায়া, আছে গান, আছে হাজার হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য স্মারক, এসব কিছু মিলে মিশে এখনও বাংলাদেশ কে সমৃদ্ধ রেখেছেন উত্তরবঙ্গ। এখন সেই উত্তরবঙ্গ কে বলা হচ্ছে বৃহত্তর কয়লা জোন। শোনা যাচ্ছে এই কয়লাই আমাদের এনে দিতে পারে অর্থনৈতিক মুক্তি। এসবই আমাদের মতো শহুরে শিক্ষিত মানুষের উপনিবেশিক শিক্ষা। উত্তরবঙ্গের কৃষক, মজুর বা সাধারণ মানুষের ভাবনা তার ফসলের মাঠ, ফসল আর নিজেদের সম্পর্ক বা আত্নীয়তা। এখনও তাদের কাছে টাকা বা অর্থনীতি হয়ে উঠেনি অপরিহার্য বিষয়। জীবন আর সম্পর্কের মানদন্ড সেখানে শুধু টাকা দিয়ে বিচার করা যায়না। যার উদাহরন ফুলবাড়ি আন্দোলন। যেখানে নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে কেনা যায়নি মানুষকে।


মনে পড়ে অষ্টম শ্রেণীতে প্রথম ভূগোল বইতে কয়লা সম্পর্কে পড়ি। আমাকে শেখানো হল কয়লা একটি খনিজ সম্পদ। আমার মনে হয় যে কোন পাঠক কোন এক বয়সে আমার মত এভাবেই কয়লাকে সম্পদ হিসেবে জেনেছেন। বৃহত্তর উত্তর বঙ্গের নিরক্ষর সাধারণ মানুষ কয়লাকে সম্পদ বলে জানে না। এ সময়ে আমরা শিক্ষিত সুবিধাভোগি শ্রেণী নিজেদের শিক্ষাকে উপেক্ষা করতে পারছিনা। এ অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছিল ২০০৫ সালের বইমেলায় ফুলবাড়ি কয়লার খনি চাই না নামক ফুলবাড়ি আন্দালনের পোষ্টার বিক্রি করতে গিয়ে। অসংখ্য শিক্ষিত মানুষ প্রশ্ন করেছিলেন। বলেছিলেন আপনারা কি পাগল? দেশের উন্নয়ন চাননা... বিনিয়োগ চাননা.....

ফুলবাড়ি বাসি অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা তাদের মাটি ছাড়বেন না। আমাদের নীতি নির্ধারকেরা এখনও বুঝতে পারছেন না দেশকে কয়লা ছাড়া কিভাবে সমৃদ্ধ করবেন। ফলে এত বড় আন্দোলনের পরও নীতি নির্ধারকেরা গোল টেবিল বৈঠক করার প্রয়াস পান কয়লা তোলার প্রসঙ্গে। রাষ্ট্র তৈরি করে কয়লা নীতি।

উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ দেশে অর্থনীতির উন্নয়নের নামে বিদেশী ডলার চিঁবিয়ে বাঁচতে পারবেন না। আর আমাদের মত শিক্ষিত মানুষেরাও উত্তরবঙ্গের চাল ছাড়া দেশ উন্নয়নের গোলটেবিল বৈঠক করতে পারবেননা।

১৯৭১ এ মা-মাটির নামে যোদ্ধারা যেমন দেশ রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন, ফুলবাড়িও তেমনি শপথ নিয়ে নিয়েছেন শহীদের রক্ত ছুঁয়ে। এ শপথ জীবন-জীবিতের।

পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছুদিন চলছে তথাকথিত সম্পদ বা খনিজ পদার্থ উত্তোলন। চলছে আন্দোলন। সমানে অর্থনীতির নামে মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ মানুষের। মৃত্যু হচ্ছে পাহাড়-জঙ্গল আর জমিনের। এভাবে চললে উন্নয়নের নামে শেষ হবে পশ্চিমবঙ্গ, যাদের আমরা অনেক আগেই হারিয়েছি দেশ বিভাগের নামে।

বাকি আছে হারাধনের একটি ছেলে পূর্ববঙ্গ। ’৪৭ পরবর্তী এই বাংলাকে যে নামে ডাকা হতো। নামেই শুধু এখন যার অস্তিত্ব।

বাংলাদেশের মতো সারা পৃথিবীতেই চলছে পূঁজির খেলা। পৃথিবীর সন্তানেরা এখনো ভূগোল বইয়ে পড়চ্ছেন কয়লা সম্পদ। সম্পদের সংজ্ঞা ঠিক করে দিচ্ছেন অর্থনীতির দালালেরা। অনেক বিপদ সংকূল পথ পাড়ি দিচ্ছেন পৃথিবী। পৃথিবীকে খাবলে খাচ্ছেন পুঁজি। যারা এই পুঁজির বা অর্থনীতির দালাল তারা ভুলে যাবেন না আপনার সন্তান দেশের পর দেশ দখলের পর ও এই পৃথিবীর বাতাস-পানি-মাটির সংস্পর্শেই থাকতে হবে।

মোল্লা সাগর
সাপলুডু ডট কম



Untitled Document
Total Visitor : 708649
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :