Untitled Document
আশ্বিন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
তিন ষাঁড়ের বলাৎকার
- শুভ কিবরিয়া
 
এই শতাব্দীতে দুই ষাঁড় পৃথিবীব্যাপী ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। দুই ষাঁড়ের নাম ‘বুশ’, ‘ব্লেয়ার’। একজন আমেরিকার যুদ্ধবাজ নেতা। আরেকজন তার তল্পিবাহক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। দুজনই এখন সাবেক। তাদের জায়গায় বদলি শ্রমিক হিসেবে এসেছেন বারাক ওবামা এ্যান্ড গং। বারাক ওবামাই এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই পৃথিবীকে ধর্ষণ এবং কর্ষণ কাজের। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা যাবে প্যালেস্টাইন ইস্যুতে। ইসরাইলীরা বর্বর কায়দায় ফিলিস্তিনিদের খুন করলে কালা আদমী বারাক ওবামার কালো ঠোঁটে কোনো শব্দ শোনা যাবে না। কিন্তু এই বারাক ওবামাই আবার হৈ চৈ করবেন প্যালেস্টাইনি প্রতিরোধ গ্র“প হামাসের হাতে কদাচিৎ দু-একজন ইসরাইলী আহত বা নিহত হলে।
এ এক অদ্ভুত খেলা। তারা যুদ্ধ চালাবে। শান্ত দেশ অশান্ত করবে। দখল, লুটতরাজ চালাবে। আবার তারাই নির্দেশনা দিয়ে বলবে ও সন্ত্রাসী, ও ভালো কিংবা ও আরো খারাপ।
এই তিন ষাঁড় বুশ, ব্লেয়ার এবং বারাক ওবামার মূল প্রজেক্ট হচ্ছে পৃথিবীব্যাপী আমেরিকান আধিপত্য নিশ্চিত করতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া।
এখন এই তিন ষাঁড় তাদের কর্মফল কি ভোগ করবেন?
নাকি ষাঁড় ত্রয়ের গুতোতেই কুপোকাত হবে পৃথিবী?
এই প্রশ্নের উত্তর পাবার আগে ফিরে যাই তাদের জবানীতে।
৩১ আগস্ট ২০১০ ॥ ওভাল অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরাক আগ্রাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে এক দীর্ঘ ভাষণ দেন। সেই ভাষণটা ভালো করে পড়লে বোঝা যাবে তাদের প্রকৃত অবস্থা কি।
পাঠকদের জন্য একটু উদ্ধৃত করা যাক।
So, tonight, i am announcing that the American combat mission in Iraq has ended. Operation Iraqi Freedom is over, and the Iraqi people now have lead responsibility for the security of their country.
[আজ রাতে, আমি ঘোষণা করছি ইরাকে আমেরিকান অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে। ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ আনুষ্ঠাকিভাবে শেষ। এখন ইরাকি জনগণ তাদের দেশের নিরাপত্তার  ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে এবং দায়িত্ব নেবে।]

প্রশ্নটা তুলি।
তুই বাবা কে, অন্য দেশের নিরাপত্তা দেয়ার?
অন্য দেশের মাটিতে নিজের দখলবাজ সৈন্য পাঠিয়ে, সে দেশে মানুষ খুন করে, অর্থনীতি ধ্বংস করে, নিরাপত্তার বারোটা বাজিয়ে– এ কোন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা?
কাউকে বলাৎকার করে, তার সুস্থতার দাবি কতটা সভ্যতাসম্মত?

২.
বারাক ওবামা ইরাকে দখলদারিত্ব কায়েম রাজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিকালে যে দীর্ঘ বক্তৃতা দেয় তার কিছু অংশ আবারো পাঠকদের জন্য উদ্ধৃত করি :
Iraqis are a proud people. They have rejected sectarian war, and they have no interest is endless destruction. They understand that, in the end, only Iraqis can resolve their differences and police their streets.
Only Iraqis can build a democracy within their borders. What America can do, and will do, is provide support for the Iraqi people as both a friend and partner.
[ইরাকিরা গর্বিত জনতা। তারা উপদলীয় সংঘর্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এবং প্রমাণ করেছে সীমাহীন ধ্বংসে তাদের আর আগ্রহ নেই। অবশেষে তারা বুঝতে পেরেছে, একমাত্র ইরাকিরাই তাদের মতভেদ দূর করতে পারে। তাদের পুলিশই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
একমাত্র ইরাকিরাই তাদের সীমান্তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আমেরিকা এ ক্ষেত্রে ইরাকি জনগণের বন্ধু এবং পার্টনার হিসেবে সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে সহযোগিতা দিতে পারে কেবল!]

প্রিয় বারাক ওবামা!
প্রশ্নটা তুলি সমগ্র জনতার পক্ষে, ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপনি কে?
একটা দেশ, জনগণ, ভূমি, স্থাপনা, অবকাঠামো, অর্থনীতি, সমাজ পুরোটা গুঁড়িয়ে এখন বলছেন ইরাকি জনগণই পারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে?
এই নির্লজ্জ রসিকতা আর দেশ-বলাৎকারের মধ্যে তফাৎ কোথায়?

৩.
পুরো ব্রিটেনকে ভোঁতা ও বোকা বানিয়ে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এই ভদ্রলোক অনেক মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুরো জাতিকে যুদ্ধে নামিয়েছে। সেই সাদা আদমি মি. ব্লেয়ার হালে স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ ‘A Journey’ লিখে আবারো বিষোদগার করেছেন মুসলমান সমাজকে নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ইসলামী মৌলবাদীরা সভ্যতার শত্র“। কারণ তারা পশ্চাৎমুখী, নীতিহীন এবং রক্ষণশীল।
তার বক্তব্যকে ঠিক ধরলে পাল্টা প্রশ্ন তুলি, আফগানিস্তানে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্ত্র দিয়ে মুসলমানদের মাঠে নামিয়েছে কে?
বিপদ হচ্ছে, এসব যুদ্ধবাজ, অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং রণমুখী ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাই পুরো পৃথিবীকে অশান্ত করে রেখেছে।

৪.
আমেরিকার বারাক ওবামা কি বলছেন শুনুন। কি মূল্য দিতে হলো ইরাক যুদ্ধে! তার নিজের জবানীতেই শুনুন।
Ending this war is not only in Iraq’s interest – it’s in our own. The United States has paid a huge price to put the future on Iraq in the hands of its people. We have sent our young men and women to make enormous sacrifices in Iraq, and spent vast resources abroad at a time of tight budgets at home. We’ve persevered because of a belief we share with the Iraqi people – a belief that out of the ashes of war, a new beginning could be born in this cradle of civilization. Through this remarkable chapter in the history of the United States and Iraq, we have met our responsibility. Now, it’s time to turn the page.
না, বারাক ওবামা যতই বলুন It’s time to turn the page, কিন্তু কোনো পাতা বদলাবে?
অস্ত্র, আক্রমণ, দখলদারিত্ব, সেনা অভিযান– এসব দিয়ে পৃথিবীর সকল শান্তিভূমি বিনষ্ট করে কি দায়মুক্তি পাবে আমেরিকা?
যে সব বাজারে ষাঁড় ঘুরে বেড়ায়, দাঁতাল আক্রমণ করে যত্রতত্র– তাদের পরিণতি কি হয়?
কখনো খেয়াল করেছেন কি?
তিন ষাঁড়ের বলাৎকার একদিন ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ মানুষকে পাল্টা আঘাত করতে শেখাবে। সেই আঘাত কত বড় হবে দেখার বিষয় এখন সেটাই।
   
Untitled Document
Total Visitor : 708569
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :