Untitled Document
আশ্বিন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
তোমাকে দেব না ভুলেও লাল জবা ফুল
- কফিল আহমেদ
            হাজারকি হাঁক দিলে
    ঝাঁক ঝাঁক গুড়ামাছ উড়া দিতো বিলে!
   চিলকাক তাক করে, দুহাতে থাপ্পা দিয়ে আকাশে উদাম
পক্ষী তাড়ানো দেখা যাচ্ছে। আহার বিহারী চিল আজো অনাহারী
         সাতপাড়া চিরিয়া ডাকে ঘুরে ফিরে।

উড়ে যেতে না পারলেও জালুয়ার কিস্তিনাওয়ের তলপেটে পাবদাপুঁটি
লাফিয়ে লাফিয়ে মরে।



ভোঁ ভোঁ মাছি তাড়াতে তাড়াতে ডালায় মাছের ভাগা নিয়ে তুলশি দাস
শেষ পর্যন্ত ডেকে যায় লৈয়া যান। লেমুপাতা দিয়া ভাল লাগবো। পচা মাছের সাথে মাঝেসাঝে প্রয়োজনে লেবুপাতা মিশাবার, বুদ্ধিজীবিতার গ্রামীণ সৎকার। কোনো নিতান্ত সুশীল আল্লাদ নয়। জীবনের সুধাময় মৃত সঞ্জিবনী স্বাদ। তা অবশ্যই মানুষের একরকম অর্জন। কাকচিলেরা তা পারে নাই।

তবে এখনতো মাছের আর পচবার তেমন সুযোগ নাই। নাও থেকে, ঘাট থেকেই পাইকাররা  জ্যান্তমরা সব নিয়ে যায়। আর বরফকল ডিপফ্রিজতো বেপারিদের ধারেকাছেই। কিন্তু মাছ আর না পচতে পারলেও নদীনালার পানিটানি মরে গিয়ে  এতোদিনে পচতে শুরু করেছে।

পচা গাঙ্গে মিঠাপানি! পচা পনি মাছটা ডিপফ্রিজে খুব টাটকা দেখাচ্ছে?

নাকি চোখ দুটি হিমাগারে আটকা পড়েছে? ইলেকট্রিক হিমযুগে এসে ওরা ঘুমিয়ে পড়েছে। ইলেকট্রনিক্স তো এ দেশে সবেমাত্র উঁকিঝুকি দিচ্ছে।

কিন্ত ওসবের আগে তো প্রয়োজন গাঙ্গের টাটকা জীবন। সে জীবনে কেউ আর আগেভাগে মরবে না। পচে যাওয়া তো অন্যায় কথা।

কিন্ত অমৃতপুর এখন কসাইভিটে।

অমিত বলছিলো সত্যি সত্যি অমৃতপুর নামের একটা জায়গার নাম নাকি কসাইপট্টি হয়ে গেলো! ভাবচ্ছি অমৃতপুর, এমন প্রমিত উচ্চারণ লোকমুখে একটু কঠিন কঠিন লাগতো! শুনেছি সে নাম মুখস্থ করাবার জন্য এককালে নাকি জোড়াজোড়া পাঁঠা মোষ,এমনকি মানবশিশুকেও জোর করে মহাশূন্যের হা মুখে এক কোপে প্রদীপ জ্বালিয়ে... অন্ধকারে ডুবিয়ে মারা হতো।
এ ‘ভাবে’ সে নাম স্পষ্ট হয় নাই। মুখে মুখে স্পষ্ট শোভা পায় নাই। নাকি বাস্তবতার আসল চেহারাটা প্রকাশ করতে মানুষের জিহ্বা একদিন আর একটুও আটকালো না। কসাইপট্টি তো! আসল নামটাই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

তবু অমৃতপুর, সে কথা মুখে পুরে মানুষগুলি আর মুখ খুলছে না। শব্দটা গিলে খেয়ে সে আর মুখ খুলছে না। কিন্ত অমৃতপুর, সে নামের স্বপ্নটা, স্বপ্নরূপটা তো বিরাট সুন্দর। মুখে কতোশতো স্বপ্নের বিরাট মোড়ক ছিঁড়েখুঁড়ে মুখ তার লশলশা জিভ আর দগদগে চোখ তুলে...লিকলিকে ফণা তুলে আছে।

পদে পদে নানা মৃত্যু, নানান মহামারির মৃত্যুবীজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। 

 কেউ কেউ সে মৃত্যুবীজ নিয়ে খুব সাজিয়ে গুছিয়ে বসে। এদেশে সেদেশে দুর্বৃত্তরা নাকি অনেক বেশি সাজানো  গোছানো। পৃথিবীর ঘোর জঙ্গলেও ওরা নাকি সুন্দর বাগানবাড়ি বানিয়েছে। আর তারাও নাকি শাসক! ওখান থেকেই সব শাসনের সাম্রাজ্য সাজিয়ে তারাওতো নিজেকে সম্বোধন করে বললেন প্রশাসক!
দিকে দিকে ছড়ানো ছিটানো সব জীবন আর জীবনীকে জড়ো করে, আবার সবকিছু এলোমেলো করে, সবকিছু তছনছ করে, সেসব আরো সজ্জিত করে  কেউ কেউ আবার সর্বত্রই তার শোষণের বাগান ছড়াতে থাকে। বাগানের বাজার আর তার শাসন ছড়াতে থাকে।

শাসনের কোম্পানি ছড়াতে থাকে।

প্রাইভেট কোম্পানি আরো বড় আরো মজবুত হতে হতে ন্যাশনাল মাল্টিন্যাশনাল হতে থাকে। সে সবের সামনে যুগে যুগে মানুষের বেঁচে থাকবার প্রেম। কতো অসুখ বিসুখ। কতো আলিঙ্গন। লড়াই।

লড়াই নীরবে, একা এবং সরবে আরো অনেকের সঙ্গে।

কিন্তু ওরাতো সবাইকে একসাথে হতে দেবে না। তা সত্য।

আবার যারা লড়ছে , কখনো তারাও একসাথে খুব একা হয়ে যায়?

না। কোনো লড়াইয়ে-ই সবাই একসাথে একা হয়ে যায় না।

যদি কাজের উৎসমূলে,সঙ্গে বা সামনে একে এক আরো অনেকে জড়িত হতে থাকে .. .জড়িত হবার, জড়িত করবার মন ইচ্ছা ও যোগ্যতা থাকে তবে সে আর একা থাকে না।
কিন্তু মনে যার অমৃতধারার উস্কানি আছে সে-ও কিনা একদিন এ্কা হয়ে গেল। কসাইপট্টিতে খুব একা কেউ জবাই হয়ে গেল! সে গরু কিংবা মানুষ।

আজ যখন অলিগলি পাড়া জুড়ে একসঙ্গে শত সহস্র কোরবানির হইচই, তখন নীরাবতার ঠান্ডা বোবা স্তব্ধতাও নামে। এদেশে হিন্দুরা নাকি এদিন সারাদিন লুকিয়ে থাকে। লুকিয়ে একা হতে চায়?

আবার কেউ কেউ নাকি লুকিয়েই এটা সেটা খায়।
কেবল হিন্দুরা কেন? কেবল এদিন কেন?

অনেকে তো সারাটা বছরই নানাভাবে একা হয়ে আছে। আর যারা খুব হইচই করছে তারাওতো একটু বাদেই ভিতরে ভিতরে খুব ফাঁকাই হয়ে থাকছে। কাউকে কাউকে বলতে ভাবতে শুনি .. . খারাপ লাগছে। আর কিই-বা করবার আছে?

(চলবে)

(উলুখড় এর প্রকাশনা ছোটকাগজ আন্দোলনের ২৫ বছরঃ স্বপ্নের সারসেরা থেকে প্রকশিত কফিল আহমেদের লেখা হতে সংগৃহীত।)
     
Untitled Document
Total Visitor : 708675
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :