Untitled Document
আশ্বিন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী

ধ্রুপদী থেকে
(মুহম্মদ খসরু সম্পাদিত পত্রিকা)
রনেশ দা’র সান্নিধ্যে
- মুহম্মদ খসরু
রনেশদা ছিলেন সতত বাংলাদেশ অন্ত-প্রাণ। তথাপি জীবনের শেষ মুহূর্তগুলি জন্মভূমি ছেড়ে তাকে নির্বাসনে জীবন-যাপন করতে হল, একজন স্বদেশপ্রেমী মানুষের কাছে এর চাইতে গ্লানিকর আর কী হতে পারে! এদেশে প্রগতির ধ্বজাধারীরা আন্তরিকভাবে কখনো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেনি। কাদের-মুকুল-জুনাইদ, শওকত মাজহার-দ্বয় সবাই সশরীরে ফিরে এসে জুড়ে বসলেন যে যার কর্মকাণ্ডে, কিন্তু রণেশদা কেন ফিরলেন না? সবারই দেশত্যাগের কারণ তো ছিল ১৯৭৫ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন।

আমার যখন রণেশদার সাথে পরিচয় তখন তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে যুক্ত। বসতেন তখনকার দৈনিক সংবাদ এর বংশাল অফিসে। আমি তখন টগবগে। সবে ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলন শুরু করেছি। চলচ্চিত্র বিষয়ে জানার আগ্রহ তখন অপরিসীম। প্রায়ই যেতাম রণেশদার দফতরে। শিল্প সংস্কৃতির যাবতীয় বিষয়েই ছিল তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য। ইদানীংকালের কূপমুণ্ডুক মিডিয়া বিদ্বেষী তিনি ছিলেন না। শিল্প সাহিত্যের সব মাধ্যমেই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। রণেশদা ছিলেন সময়কার অগ্রবর্তী লেখক, ভাবুক ও চিন্তাবিদ। কোনো রকম অহংবাদিতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারে নি। তিনি ছিলেন অতি উঁচু ও বড় মাপের মানুষ। হৃদয়বান ও চক্ষুষ্মান। নিবেদিত প্রাণ, আপোষহীন জীবন যাপনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন।


আমার যখন রণেশদার সাথে পরিচয় তখন তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে যুক্ত। বসতেন তখনকার দৈনিক সংবাদ এর বংশাল অফিসে। আমি তখন টগবগে। সবে ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলন শুরু করেছি। চলচ্চিত্র বিষয়ে জানার আগ্রহ তখন অপরিসীম। প্রায়ই যেতাম রণেশদার দফতরে। শিল্প সংস্কৃতির যাবতীয় বিষয়েই ছিল তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য। ইদানীংকালের কূপমুণ্ডুক মিডিয়া বিদ্বেষী তিনি ছিলেন না। শিল্প সাহিত্যের সব মাধ্যমেই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। রণেশদা ছিলেন সময়কার অগ্রবর্তী লেখক, ভাবুক ও চিন্তাবিদ। কোনো রকম অহংবাদিতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারে নি। তিনি ছিলেন অতি উঁচু ও বড় মাপের মানুষ। হৃদয়বান ও চক্ষুষ্মান। নিবেদিত প্রাণ, আপোষহীন জীবন যাপনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন।

ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনের সূচনাপর্ব থেকেই এক নিবিঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর সাথে আমাদের।  

রণেশদা ছিলেন আমাদের সংগঠনের উপদেশক ও প্রচারক। চলচ্চিত্র বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ভাণ্ডার ছিল তুলনাহীন, বিশেষ করে সোভিয়েত বিষয়ে তিনি ছিলেন একজন বিশেষজ্ঞ। কুলশভ থেকে আইজেনস্টাইন, পুদভকিন থেকে দোভঝোঙ্কো নিয়ে আলোচনা করতে করতে কতবার তাঁর বংশাল অফিস থেকে তাঁতীবাজার বাসায় গেছি হাঁটতে হাঁটতে।

১৯৬৪ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এক সেমিনানের আয়োজন করেছিল এফ.ডি.সি কর্তৃপক্ষ। তখনকার সময়ের পশ্চিম পাকিস্তানের চলচ্চিত্রের নামী-দামী লোকের সমাবেশ ঘটেছিল সেই সেমিনারে। আমাদের চলচ্চিত্র সংসদের নির্বাহী পরিষদের দুই সদস্য পপুলার ফিল্মের স্বত্বাধিকারী, চলচ্চিত্র পরিবেশক মোশাররফ ভাই (মোশাররফ হোসেন  চৌধুরী ) এবং সূর্যস্নান ও ধারাপাত ছবির চরচ্চিত্রকার সালাউদ্দিন ভাইয়ের বিশেষ অনুরোধে রণেশদা  রোল অব ফিল্ম সোসাইটি মুভমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ ইংরেজি ভাষায় লেখেন।  এবং এই সেমিনারে রণেশদার সাথে আমার উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। বর্তমান সংখ্যায় এই প্রবন্ধের বাংলা ভাষান্তর সন্নিবেশিত হলো। এতদসহ ধ্র“পদীর বিগত সংখ্যাগুলোতে প্রকাশিত তাঁর দুটো লেখা বইয়ের জন্য ছবি না ছবির জন্য বই ও আমাদের চলচ্চিত্রের কাছে স্বাধীনতার চাহিদা শীর্ষক লেখা পুনর্মুদ্রিত হলো। 
     
Untitled Document
Total Visitor : 709183
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :