Untitled Document
আশ্বিন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
নেড়ুদার কবিতা
- রজত শুভ্র বন্দোপাধ্যায়
 
 
আগেই বলেছি, নেড়ুদা বেশ কবিতা লিখত। আমরা অবশ্য বিশেষ বুঝতুম না, তবে শুনেছি কবিতা যতই দুর্বোধ্য, ততই নাকি অনবদ্য! নেড়ুদার কাছেই শুনেছিলুম এসব! নেড়ুদার কাছে আরো শুনেছিলুম তার কবিতা লেখার ইতিকথা – সত্যি মিথ্যা জানি না, তবে নেড়ুদার কথা অবিশ্বাস করবার মত সাহস কোনও দিন হয় নি বাপু।
সেই শিশুকাল থেকেই নেড়ুদা নাকি কবিতা লেখায় ওস্তাদ। যে বয়েসে শিশুরা সাধারণত বলে “গাঁ-আ-আ-আ”, বা “পুঁই-ই-ই-ই” বা “ম্যা-আ-আ-আ” অথবা “গুঙ্গা”, সেই বয়েসেই নাকি নেড়ুদা বলে উঠেছিল -
“ড্যাবা ড্যাবা ড্যাবা,
গুলু গুলু গুলু,
খ্যাঁক্‌ ক্যারা ক্যারা,
ঝাঁইকি বিকুলু!”

উফ্‌! দুর্বোধ্য! অর্থাৎ অনবদ্য!
তারপর ক্লাস টু তে নামতা শিখেই নেড়ুদা অঙ্কের খাতায় লিখেছিল –

“তিন এক্কে তিন,
ফুটিয়ে দেবো পিন,
তিন দুগুনে চার,
পাছায় দেব মার।”

বলাই বাহুল্য, অঙ্কে নেড়ুদা তখন বেশ কাঁচা, কিন্তু কি কবিতা! দেখে অবশ্য শ্রীমতি আন্টি চটে গিয়ে নেড়ুদাকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিলেন, নেড়ুদার জীবনে প্রথমবারের মত, তবে সে অন্য গল্প।

ক্লাস ফোরে লিখল –

“মন দিয়ে রোজ আমি
শিখি  ল-সা-গু,
তাও কেন ছাতু খেয়ে
হয় না হাগু?”

এটা লিখেছিল গুড়গুড়ি আন্টির বাংলা খাতায়, দেখেই গুড়গুড়ি আন্টি নেড়ুদাকে নিয়ে গেলেন ভিন্সেন্ট্‌ আন্টির কাছে, তিনি যথারীতি নেড়ুদাকে বেত দিয়ে মারলেন, পরে বাড়িতে বাবাও দু ঘা দিলেন, মা পর্যন্ত রেগে গেলেন, কিন্তু বোদ্ধারা নাকি বলে উঠেছিলেন, “এসে গেছে, সে এসে গেছে!”
ক্লাস সিক্সে উঠেই নেড়ুদা লিখল সেই ঐতিহাসিক কবিতা – ততদিনে কবিতার নাম দিতেও শিখে ফেলেছে – কি প্রতিভা!

দুই ভাই
“এক ছিল ইতিহাস,
বলে ‘পিছে ফিরে দ্যাখ্‌!’
তার ভাই পাতি হাস,
বলে ‘প্যাঁক্‌ প্যাঁক্‌ প্যাঁক্‌’!”

ক্লাস এইটে আমাদের সঙ্গে এসে নেড়ুদার প্রথম লেখা – এটা নন্দলাল স্যারের রচনার খাতায় লেখা হয়েছিল – বর্ষাকাল নিয়ে রচনা লিখতে দিয়েছিলেন স্যার, তারই অংশ হিসেবে লেখা–

বর্ষাকাল
“ধাঁই কিড় কিড়, ধাঁই কিড় কিড়,
পড়ছে কেমন বাজ,
ঝড় উঠেছে ফড়ফড়িয়ে,
বর্ষা হবে আজ,
চতুর্দিকে জমবে কাদা,
উড়বে হিসির বাস,
গন্ধ শুঁকে মুচ্ছো যাবেন
নন্দবালা দাস।”

নন্দলাল স্যার অবশ্য অন্য ধরণের মানুষ, এটা পড়ে তিনি রাগেন নি, বা রাগলেও তা প্রকাশ করেন নি, শুধু গম্ভীর ভাবে নেড়ুদাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “বাবা নেড়ু, এই নন্দবালা দাস কি তোমার চেনা কেউ?”
তারপর একদিন নেড়ুদা আচমকা একটি অত্যাধুনিক কবিতা রচনা করে ফেলল – “প্রশ্ন ও উত্তর”। বাস্তবিক এটা একটা কবিতা নয়, এক সঙ্গে দুটো – সে নাকি এক নতুন ধারা – একত্রে দুটি কবিতা, একটিতে শুধুই প্রশ্ন, অন্যটিতে সেই প্রশ্নের উত্তর! এরকম কবিতা নাকি কেউ কোনও দিন ভাবেই নি, লেখা তো দূরস্থান!

প্রশ্ন
১) বলতে পারো, সলতে কেন পলতে হয়ে জ্বলতে চায়?
২) বোলতা কেন আলতা পায়ে চালতা গাছে ঝাল তাড়ায়?
৩) কাৎলা কেন পাৎলা হেসে ফাৎনা ধরে কাৎ করে?
৪) বাতরা কেন খাতরা ভাবে সাত-চালেতে মাত ধরে?
৫) ডোমরা কেন আমড়াগুলো কামড়ে নিয়ে চামড়া খায়?
৬) ভোমরা কেন হুমড়ি খেয়ে ঠুমরি গেয়ে ঘুম ভাঙায়?
৭) ছিপলি কেন ছাপরা জেলায় ঘাপটি মারে বাপ বোলে?
৮) পিঁপড়ে কেন কিপ্টে হল? পাপড়ি কেন খাপ খোলে?

বল্‌না ভায়া ছল না করে, বল্‌না ভায়া জলদি রে!
বল্‌না তোরা খলখলিয়ে, বল্‌না কবে বলবি রে!

আমরা তো শুনে থ! একেই ক্লাস এইটে বিভিন্ন বিষয়ে হাজার হাজার প্রশ্নের ঠ্যালায় হাবুডুবু খাচ্ছি, তার ওপর এসব আবার কি ধরণের বিটকেল প্রশ্ন! তখন হাসি মুখে নেড়ুদাই উত্তর জানিয়ে দিল –

উত্তর
১) পলতে ছেড়ে সলতে হলেই জ্বলতে গিয়ে গলতে হয়,
২) চালতা গাছে ঝাল তাড়িয়ে বোলতা বেজায় খোলতা রয়।

৩) পাৎলা হেসে ফাৎনা ধরে কাৎলা যে ভাই ভাত বাড়ে,
৪) সাত-চালেতে মাত করে তাই বাতরা বেবাক বাত ঝাড়ে!
৫) আমড়াগুলোর চামড়া খেয়ে ডোমরা ভীষণ গোমড়া রয়,
৬) ঠুমরি গেয়ে ঘুম ভাঙিয়ে ভোমরা হোমরা চোমরা হয়।
৭) ছিপলি খালি ঘাপটি মেরে বাপ বলে ফের ঝাঁপ মারে,
৮) পিঁপড়ে কে যে টিপতে হলে পাপড়িগুলোয় চাপ বাড়ে।
সম্পূর্ণ ভাবে দুর্বোধ্য! এবং যারপরনাই অনবদ্য! অন্তত আমরা কজন তো এসব শুনেই নেড়ুদার কবিতার ভক্ত হয়ে গেলুম, এবার আপনাদের মতামত আপনারাই দিন।
     
Untitled Document
Total Visitor : 708303
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :