Untitled Document
আশ্বিন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
লালগড় আন্দোলনের ছবি











Download These Files
লালগড়ের মানুষদের প্রতি আমাদের সংহতি

পোসকো এবং ইন্ডিয়া রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের অভ্যস্ততা
- দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

আবারো ভারতীয় সরকার বিদেশি পুঁজির স্বার্থে জনগণের বিরুদ্ধে বর্বর আক্রমণ চালালো। দক্ষিণ কোরীয় জায়ান্ট কোম্পানি কর্তৃক পোসকো ইস্পাত কমপ্লেক্স বানানোর প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে সম্ভাব্য বাস্তুচ্যূত মানুষেরা বসেছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচীতে। ওড়িশ্যা পুলিশ প্রতিবাদকারীদের উপর লাঠি ও রাবার বুলেট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তথাকথিত পোসকো প্রকল্প সমর্থক কিছু এজেন্ট ঘটনাস্থলে কিছু দেশি পটকা ফুটানোর পরেই পুলিশ প্রতিবাদকারীদের উপর বর্বর এ আক্রমণ শুরু করে। পুলিশী আক্রমণের পুরো কাহিনীর যৌক্তিকতা ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে যখন কোন ঘটনা ঘটার আগেই ফোন কলের জবাবে পুলিশ সুপারেন্টটেড শ্লেষপূর্ণ উত্তর দেন। পুলিশ জনগণের উপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়েছে কারণ জনগণ সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে।

কাদের সরকার? জনগণকে মেরে ক্ষত-বিক্ষত করে যাদেরকে তারা হাসপাতালে পাঠায় নিশ্চয় তারা সেই জনগণের সরকার নয়। যুক্তিটি খুব কম উচ্চারিত হলেও সরল হিসাব কিন্তু এটাই। দেশি- বিদেশি বড় পুঁজি মালিকদের পথ পরিষ্কার করার জন্য সরকার সবজায়গায় জনগণের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে। সিঙ্গুর অথবা নন্দীগ্রাম, দান্তেওয়াগা অথবা কালিঙ্গানগর যেখানেই হোক না কেন সরকার জনগণের উপর তাদের আক্রমণের ন্যায্যতা দিতে চাচ্ছে এই যুক্তি দিয়ে যে ঐ সব অঞ্চলের মানুষেরা সরকারের নেয়া কর্মসূচী বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি করছে। এই যুক্তির প্রতারণার জায়গাটি হচ্ছে- সরকার তা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার হোক, তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হচ্ছে। এরপর তারা সে শক্তিবলেই বৃহত্তর জনগণের আশা-আকাঙ্খার বিপরীতে কাজ করার অধিকার পেয়ে যায় বলে মনে করছে। পশ্চিম বাংলার নির্বাচিত সিপিআই(এম) সরকার জঙ্গল মহলে তাদের দমন অভিযান পরিচালনা করেছে, এরকমই এক নির্লজ্জ যুক্তি দিয়ে। ফল হাতে নাতে, তারা লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেতে ব্যর্থ । তাদের কাছে আশার বিষয়টি হচ্ছে ৫ বছর জনগণের ভুলে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় অথবা তাদের নিপীড়নের ভয়ে জনগণ ভীত থাকে। এমনকি অনেক চিন্তাশীল মানুষেরাও সরকারের এই প্রতারণাকে ধরতে পারে না। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রকৃত নীতিটি হচ্ছে সরকারের গৃহীত নীতির বিপরীতে যদি গরিষ্ঠ মানুষ দাঁড়িয়ে যায় তবে সরকারের সে কর্মসূচী বাস্তবায়নের কোন বৈধ অধিকার নাই। ভান করে থাকা জনগণের সরকারের জনগণের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের কোন ন্যায্য অধিকার নাই। ভারতীয় সরকারকে তাদের গণতন্ত্রের জন্য সমালোচনা করলে তারা ক্ষোভের সাথে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। অন্য কোন অগ্রসর পুঁজিবাদী দেশে ভারতের মতো প্রতিবাদকারী জনগণের উপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা  আর কোথাও হয় না।

পোসকোর ব্যাপারে নবীন পট্টনায়েকের ঘটনাটি সংযুক্ত সরকারের দায় এড়ানোর কিছু নাই। সংযুক্ত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এ ব্যাপারে অবশ্যই সবকিছুই জানেন। দান্তেওয়াগের বিস্ফোরণের পর তিনি টেলিভিশন প্রোগ্রামে ছত্রিশগড় ও ওড়িশ্যার বিষয়গুলো বার বার করে উল্লেখ করেন। বিষয়টা যথাযুক্ত হযে ওঠে যখন মন্ত্রী মহাশয় তার নীতির ব্যর্থতার সমালোচনা করেন এবং এবং বিমান বাহিনীর ব্যবহার করে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানোর কথা বলেন। তাদের নিজেদের সমালোচনা তাদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে দেয়, তারা বারবার সালওয়া জোডাম ও গ্রীন হান্টের শিকার সৈনিকদের জন্য এবং সমস্ত নির্দোষ জনগণের জন্য শোক করছে অথচ তারাই যুদ্ধ ও সন্ত্রাসকে জায়েজ করছে তাদের ভুল নীতি“ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এর মাধ্যমে। কথোপকথন, এক্ষেত্রে একমাত্র রাস্তা।

সংযুক্ত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বার বার করে বলছে মাওবাদী সন্ত্রাস হলো সংলাপ শুরুর প্রধানতম বাধা। পোসকে ঘটনায় মাওবাদীরা কোথায় আছে? এটি সিপি আই এর নেতৃত্বে আক্রান্ত জনগণের একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী। কিন্তু ইন্ডিয়া রাষ্ট্রের একই প্রতিক্রিয়া- জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস। পোসকো ট্র্যাজেডি দেখিয়ে দিচ্ছে প্রশ্নটা আদৌও রাষ্ট্রের মাওবাদীদের তত্ত্ব ও অনুশীলনের প্রতিক্রিয়া নয়। ইন্ডিয়া রাষ্ট্র মনে করে জনগণের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করা তাদের জন্য ন্যায্য। এই রাজনৈতিক নীতিকে অবশ্যই মোকাবিলা করা জরুরী। সার্বভৌম জনগণের উপরে বল প্রয়োগ কখনোই করা যাবে না।

নর্মদা আন্দোলনের ক্ষেত্রে বাধার কোন যুক্তিকে  তারা সামনে  আনবে? বল প্রয়োগ করে নয়, কথোপকথনের মাধ্যমে-  আর সেক্ষেত্রে যদি জনগণের  দৃষ্টিভঙ্গি  ভিন্ন হয় তবে তা মেনে নিতে হবে। বলবে উন্নয়নের মূল্যে? কিন্তু কাদের উন্নয়ন? মানুষ, যাদের ভূমি বসতি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? তারা কীভাবে এই উন্নয়ন সমর্থন করবে?

(সংহতিতে প্রকাশিত দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর এই লেখাটি প্রকাশিত হয় মে ২০১০ তারিখে। ইংরেজি থেকে বাংলা করে লালগড়ের মানুষদের প্রতি আমাদের সংহতি শিরোনামে লেখাটি প্রকাশিত হলো।)  

Untitled Document
 
Total Visitor : 709970
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard