Untitled Document
আশ্বিন সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
   বিদেশী রূপকথা : মিথ্যাবাদী
  কমিকস্ : টিনটিন

ছড়াঃ চারু প্রজাপতি
গাছের নাম বাঘশাল
- ক্ষিতিমোহন সেন
...সেদিন যে আমি বাঁকুড়ার জঙ্গলে গিয়েছিলাম তার মধ্যে এক জায়গায় একটা বাঘশাল গাছ আছে। কী হয়েছে জান? একটা খুব দুষ্টু বাঘ ছিল- পথে একলা কাউকে পেলেই ধরে খেত। হাট থেকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে অনেক লোক তার পেটের মধ্যে গেছে, বাড়ি আর যেতে পারেনি। একবার একটি ছোট ছেলে তার মায়ের জন্য ওষুধ আনতে দূর গ্রামে গিয়েছিল-মার খুব অসুখ। কবিরাজ বাড়ি ছিলেন না, সন্ধ্যার সময় এসে তিনি ছেলেটিকে ওষুধ দিলেন কিন্তু তাকে বললেন, ‘আজ আর যেও না, পথে বড়ই বাঘের ভয়।’ ছেলেটি কী করে? খেয়েদেয়ে কবিরাজের বৈঠকখানায় শুয়ে রইল।
কিন্তু অনেক রাত্রে তার মনে হল, মার তো খুব জ্বর, আজ ওষুধ না হলে মা কি বাঁচবে? আর ঘরে তো কেউ নেই মাকে জল দেবে! এইসব ভেবে সে রাত্রি একপ্রহর থাকতেই উঠে হওনা হল। সবাই তখন ঘুমিয়ে, কেউ তাকে মানাও করতে পারল না।
ঘোর অন্ধকার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সে চলেছে-অনেক দূরের পথ, একটা লোকেরও সাড়াশব্দ নেই। এমনি তো জঙ্গলের নির্জন পথ, তার উপর রাত্রি, তাতে আবার ভীষণ বাঘের ভয়। তায় ছেলেমানুষ- বারো বছর মোটে বয়স, তবু মায়ের কথা ভেবে সে কিছু গ্রাহ্য না করে ঐ অন্ধকারে এগিয়ে চলেছে। তখন শেষরাত্রির পাখিগুলি ডাকতে আরম্ভ করেছে। গাছের আগায় আগায় একটুখানি ভোরের হাওয়া লাগতে আরম্ভ হয়েছে। তার গ্রামও পাহাড়ের ঐ পারে, তখন আর খুব দূরে নয়। ছেলেটি ভাবন, ‘যাক, আর ভয় নেই, এখনই গিয়ে মাকে জল দেব, ওষুধ দেব-এসেই তো পড়েছি।’ ওমা! তখন কী ভয়ংকর শব্দ! জঙ্গলের সেই প্রকাণ্ড বাঘ তার ল্যাজটা লটপট করে তার পথ বন্ধ করে সামনে এসে দাঁড়াল। ছেলেটি তো ভয়ে কেঁপে উঠল। তার গায়েই বা জোর কী! আর হাতে একটি লাঠিও নেই। থাকলেই বা কী করত? সে ওষুধটা কোমরের কাপড়ে বেঁধে কাঠবেড়ালির মত তরতর করে একটা জোড়া শালগাছের উপর উঠে চড়ে গেল। জঙ্গলের দেশের ছেলে তো, সবাই তাই খুব গাছে চড়তে পারে।
বাঘ তো রেগেই খুন। তার জিভ দিয়ে জল বেরুচ্ছিল, দুই-একবার জিভ দিয়ে তাই চাটল। তারপর একটু দূরে সরে গিয়ে সেই ছেলেটিকে লক্ষ্য করে ভয়ংকর গর্জন করে প্রকাণ্ড একটা লাফ দিল। লাফ দিয়ে বাঘটা এত উঁচুতে উঠল যে ছেলেটি তখনও এত দূরে উঠতে পারেনি। ছেলেটির তো ভয়ে হাত-পা অবশ হয়ে এল। বাঘটা একেবারে তার মাথার উপর গিয়ে হুড়মুড় করে পড়ল। ওমা! হল কী! ঐ শালগাছটা কিনা জোড়া শালগাছ ছিল-বাঘটা ঐ উঁচুতে দুটো শালগাছের ফাকেঁর মধ্যে গেল পড়ে- তার নিজের ভারে জোড়া গাছের সংকীর্ণ ফাকেঁ সে নিজেই জাঁতাকলে গেল আটকে। ছেলেটির চাদরটা বাঘের নখে লেগেছে তবু তার গায়ে আঁচড় লাগেনি।
ছেলেটি ভয়ে একেবারে নেমে এল মাটিতে। তখন আরম্ভ হল খুব ঝড়। দুই গাছের পেষণ লেঘে বাঘটা খাঁউ খাঁউ করে চিৎকার করে কাচিঁকলের ইঁদুরের মত পিষে মারা গেল। তখন ভোর হল। ছেলেটি মার কাছে দৌড়ে গিয়ে ওষুধ দিল। গ্রামের লোক দেখে অবাক। রাজা ছেলেটিকে খুব পুরস্কার দিলেন। মার ওষুধপথ্য রাজাই ব্যবস্থা করলেন। গ্রামের লোকেরা এখনও সেই দিনে ঐ জোড়া শালগাছের তলায় মাতৃভক্ত ছেলের নামে নামে মেলা বসায়।
[উপরের লেখাটি একটি চিঠি। আচার্য ক্ষিতিমোহন সেন ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দের ২৫ শে মার্চ তারিখে শান্তিনিকেতন থেকে লখনৌতে তাঁর নাতি-নাতনীকে লিখেছিলেন। এতে একটি স্থানীয় কিংবদন্তীর কথা বলা হয়েছে।]
১৩৬৮
Untitled Document
Total Visitor : 709046
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :