Untitled Document
কার্তিক সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল
- মার্জিয়া লিপি
 
 
(পূর্ব প্রকাশের পর)

পঞ্চম অধ্যায় :
উপকূলীয় পরিবেশে কৃষি

 

উপকূলীয় পরিবেশে কৃষিঃ

বাংলাদেশের ১৪টি জেলা- ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নিয়ে প্রায় ৭০০কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা বিস্তৃত। উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে পৃথিবীর প্রায় ৩৭% লোক। আজ থেকে ছয় হাজার বছর আগে ইউফ্রটিস-টাইগ্রিস, নীলনদ, সিন্ধু নদ প্রভৃতি উপকূল ভাবে কৃষিভূমি পরিবেষ্টিত কিছু সুপরিকল্পিত নগরের উদ্ভব ঘটেছিল। পৃথিবীর আজকের পরিবেশ ও আদি পরিবেশ কখনই এক ছিলোনা। পরিবেশ ক্রমান্বয়ে বদলাচ্ছে আর এসব পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে তার প্রকৃতি। পৃথিবীতে জীবনের আবির্ভাবের পর থেকেই জীব জগৎ সব সময়ই পরিবেশ পরিবর্তনে বিশেষ  ভূমিকা রেখেছে। জীব জগতের মধ্যে মানুষই প্রকৃতির উপর সবচেয়ে বেশী প্রভাব রাখে। মানুষ তার নিজস্ব প্রয়োজনে প্রকৃতিকে বদলাচ্ছে এবং চাইছে পরিবেশকে তার জন্য উপযোগী করে তুলতে বিস্তীর্ণ এলাকাকে আবাদ করে তৈরী করছে কৃষি জমি, জলাভূমিকে ভরাট করছে, বনজঙ্গল কেটে সৃষ্টি করছে কৃষি জমি, গ্রাম আর শহর, পাহাড় কেটে করছে নুতন নুতন জনপদ।

বিজ্ঞানের আবিষ্কারে বদলাচ্ছে জীবনের গতিধারা, মৃত্যুর হার কমার ফলে বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে উৎপাদন কিন্তু প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে বাড়াতে হবে আরো উৎপাদন। এর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবহওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্টি হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্নিঝড়, মরুকরণ প্রক্রিয়া। জলবায়ুর উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে পরিবেশ।

আমাদের উপকূলভাগ পৃথিবীর  উত্তর গোলার্ধের অন্তর্গত উষ্ণমন্ডলে বা গ্রীষ্মমন্ডলে অবস্থিত। ২১ মার্চ তারিখে সূর্য বিষুবরেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয়। বাংলাদেশ গ্রীষ্মমন্ডলে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত সেহেতু তখন দিনরাত্রি সমান হয়। এভাবে পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে ২১ জুন তারিখে এমন অবস্থায় আসে যখন সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয়। তখন আমাদের দেশে তথা উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে  বড় ও রাত্রি সবচেয়ে ছোট হয়। এ সময় এখানে বেশ গরম পড়ে। পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে এমন অবস্থায় পৌছে গিয়ে সূর্য পুনঃ বিষুবরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় তখন আবার বাংলাদেশে দিনরাত্রি সমান হয় । এরপর ২২ ডিসেম্বর তারিখে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। তখন বাংলাদেশে দিন সবচেয়ে ছোট ও রাত্রি সবচেয়ে বড় হয়। এ সময় আমাদের এখানে শীতকাল। বাংলাদেশের যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার উপর দিয়ে  কর্কটক্রান্তির  অবস্থান তাহলে দেখা যায় সূর্যের তাপ বিষুবরেখা হতে কর্কটক্রান্তি  আবার কর্কটক্রান্তি হতে বিষূব রেখা অর্থাৎ ২১ মার্চ হতে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রীস্মকাল ধরা যায়। এই সময় সূর্য এই এলাকায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। সূর্যের  তাপ প্রচুর পরিমান পড়ে। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় প্রচুর জলীয় বাষ্পের সৃষ্টি হয়। জলীয় বাষ্প ভরা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বছরের প্রায় ৯ মাস অর্থাৎ মার্চ হতে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সূর্যের  প্রখর তাপে সাগরের পানি উত্তপ্ত হয়, বাতাস উত্তপ্ত হয় উত্তপ্ত বায়ু ও ঘূর্ণিবায়ু থেকে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হয়।

আমাদের উপকূলে সাধারনত ঃ মে-জুন এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় দেখা যায়, জলোচ্ছ্বাস ঘটে। জলোচ্ছ্বাসের ফলে আমাদের উপকূলভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তরবঙ্গে হিমালয়ের বরফগলা পানিতে সৃষ্ট বন্যার ন্যায় উপকূলীয় জনপদ সাগরের লবন পানির জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়। ঘর, বাড়ি ও ফসল ধ্বংস হয়। দক্ষিণে সুন্দরবন থাকায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস বনভূমির শীতল স্পর্শে  ঘনীভূত  হয়ে মেঘ হয়, বর্ষা ঝড়ায়। সাগরে উত্থিত ঘূর্ণিঝড়ের দাপট বনভূমি বনভূমি কর্তৃক অনেকটা বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। সূর্যের প্রচন্ড তাপ পড়ে একদিকে যেমন গরম পড়ে অন্যদিকে সুন্দরবন থাকায় মেঘ হয়, বর্ষা ঝড়ায় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে প্রচুর ফসল জন্মে।

 

উপকূলীয় এলাকায় ভূমি ব্যবহারঃ

১৯৫০ সালের পর থেকে খাস জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৭ সালের ভূমি জরিপের পর উপকূলীয় জেলাগুলোতে বর্ধিত খাস জমি সরকারী ভাবে জরিপ করা হয়নি। সরকার উপকূলীয় চরাঞ্চলে খাস জমি লিজ দিয়ে থাকে। কখনো লিজ পদ্ধতি একসনা  হয়ে থাকে, কখনো জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়ে থাকে। উপকূলের চরাঞ্চলে  ভূমি ব্যবহার ও ভূমি বন্দোবস্ত সমস্যা বহু বছর ধরে চলে আসছে।

ভূমি-বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী উপকূলীয় জেলার প্রতিটি থানার প্রতি ইউনিয়নে প্রকৃত ভূমিহীনদের চিহ্নিত করে সরকারী খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদের  মধ্যে রয়েছে দুঃস্থ মুক্তি যোদ্ধা পরিবার, নদীভাঙ্গা পরিবার, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত পরিবার, কৃষিজমি ও বাস্তুভিটাহীন পরিবার ও অধিগ্রহণের ফলে ভূমিহীন হয়ে পড়েছে এমন পরিবার।

 

উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমি ব্যবহারের সমস্যা ঃ

উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে ভুমি- বন্দোবস্ত ও ব্যবস্থাপনায় এলাকা ভেদে নিম্নরূপ সমস্যা পরিলক্ষিত হয়।

        প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা নেই।
        প্রকৃত খাসজমির পরিমান ও এর অবস্থান সুচিহ্নিত নয়।
        খাসজমি চিহ্নিতকরণ ও বন্টন নীতিমালা সংশোধনের সমস্যা।
        প্রকৃত ভূমিহীন ও অসুবিধাগ্রস্ত পরিবার সমূহের খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিকার অনিশ্চিত।
        ভূমি বন্দোবস্ত ও ব্যবস্থাপনার সকল  তথ্যের অভাব পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব।
        সচেতনতার অভাব ।
        খাসজমি বন্টন নীতিমালা ত্র“টিপূর্ণ।
        দলীয় প্রভাব ও  পুঁজি পতিদের দৌরাত্ম্য।
        প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্যে জমি সংরক্ষিত নেই।
        ভূমি বন্দোবস্ত আইনের ত্র“টি।
        ভূমি- বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া জটিল, দীর্ঘমেয়াদি ও প্রশাসনিক দূর্নীতি।
        সঠিক ভাবে বন্দোবস্ত দেয়া হলো কিনা তা পর্যবেক্ষণের অভাব।
        চিংড়িঘেরের নামে খাসজমি দখল বা বরাদ্ধ প্রদান, মালিক হয়েও ভূমিহীনরা জমি আবাদে অসমর্থ।
        কৃষিজমিকে চিংড়িঘেরের আওতায় প্রদান। 

 

উপকূলীয় ভুমি ও চরাঞ্চলের ভূমি যথার্থ ব্যবহারের লক্ষো সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিহীন ও প্রকৃত খাস জমির পরিমান নির্ধারন করা। কৃষিজমিকে চিংড়িঘের হিসেবে বন্দোবস্ত না দেয়া এবং ইতোমধ্যে যেগুলো হয়েছে তা বিলুপ্ত করা।

ভূমিহীন ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে খাসজমি চিহ্নিতকরণ ও জমি বন্টনের নীতিমালা সংস্কারের লক্ষ্যে সচেতন জনগোষ্ঠীর মতামত ও যৌক্তিকুার ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা প্রনয়ন করে উপকূলীয় ভূমি ব্যবহার ও খাসজমি বন্দোবস্ত ও ব্যবস্থাপনা করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত করা।

 

কৃষি ও পরিবেশঃ

কৃষি প্রধান এদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে কৃষির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।  কৃষি  যোগ্য জমির পরিমান নির্দিষ্ট, তাই কৃষির উৎপাদন বাড়ানোই খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উপায়। এ কারণে কৃষিজ উৎপাদনে পানি, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার দিনে দিনে বেড়েই চলছে। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাটি ও পানির দূষণ ঘটছে। দিনে দিনে মাটির জৈব ক্ষমতা কমে যাচ্ছে অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকার কৃষি ভূমিতে লবনাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে জমির  উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং অন্য দিকে বৃষ্টির পানিতে মৃত্তিকার উপরিস্তর ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, ফলে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে, বাড়ছে নদীর দূষণ। যেহেতু আধুনিক কৃষি ক্ষেত্রের পরিবেশ মানুষের তৈরী তাই পরিবেশ অবক্ষয়ের বিরুপ প্রভাব মানব সভ্যতার উপর পড়ছে। অবশ্য জনবিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক সম্পদের ক্রমসংকোচন, প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্রমবিনাশ এবং পরিবেশ দূষণের কারণে পৃথিবীর জীবমন্ডলে জীবনের  অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। ইতিমধ্যেই অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রানী প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির কারণে মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। সৃষ্টি হবে প্রতিকূল পরিবেশ। কারণ অতীতে সিন্ধু, মধ্যপ্রাচ্য আবিসিনিয়া, মধ্য আমেরিকা প্রভৃতি দেশে কৃষি ভিত্তিক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মূল কারণ কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস এবং কৃষি জমিতে রুপান্তর। এমতাবস্থায় পরিবেশ সচেতন থেকেই কৃষিকাজ ও ফসল উৎপাদনে কৃষি উপকরনের প্রয়োগে সজাগ থাকতে হবে যেন কাঙিক্ষত ফসল, মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হয়ে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না হয়।

লবণাক্ততা বৃদ্ধির সাথে সাথে দক্ষিণবঙ্গের বহুপ্রানী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলীন হতে চলেছে। মাটির অনুবর্রতার কারণে অনেক গাছ জন্মাচ্ছে না। আবার  কখনও দ্রুত গাছ মরে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার নারিকেল, সুপারি, খেজুর, তাল - এ সকল একপত্রী উদ্ভিদ গুচ্ছমূলীয় যা জলাবদ্ধতায় সহনীয় নয়। মূলীয় শ্বাস অপরিহার্য। শস্য বৈচিত্র্যহীনতায় জীব-বৈচিত্র্য হয়ে পড়ছে বন্ধ্যা এবং  জীবন চক্র থেমে যাচ্ছে। জমির অন্যতম জীবনী শক্তি হলো ঘাস, লতা পাতা, আগাছা, ক্ষুদ্রপ্রাণী ইত্যাদি। সারাবছর লোনা পানি প্লাবিত  থাকায় অনুজীবসহ উপরোক্ত খুব কম উদ্ভিদই জন্মায়, তাই পুনর্জীব চক্র প্রক্রিয়া স্তিমিত হয়ে পড়ছে। জৈব সৃষ্টি হয়ে পড়ছে বন্ধ্যা। বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার বহু মূল্যবান পশু সম্পদ তার খাদ্য ও পুষ্টি হতে, জমি বঞ্চিত হচ্ছে জৈব পুষ্টি হতে।
পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন অত্যধিক লবণাক্তাতার প্রভাবে ম্রিয়মান।

সুন্দরী, কেওড়া, বাইন প্রভৃতি গাছের বীজ সমতল পানির লাইনে সরল রেখায় প্রেরিত হয় নতুন চরাঞ্চল অথবা পুরাতন বনভূমিতে। এভাবেই সুন্দরবনের  প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ চলেছে কালে কালে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এলাকায় তিক্ত লবণ পানির অবাধ বিচরণ, তদুপরি লবণাক্ত পানির স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হওয়ায় উপরোক্ত সব বীজের অংকুরোদগম হ্রাস বা লোপ পাচ্ছে । ফলে সবুজ বন সৃষ্টিতে দেখা দিচ্ছে চরম বন্ধ্যাত্ব।

জীববৈচিত্র্যের অন্যতম ধারক ও বাহক নদ-নদী । কিন্তু  ইদানীং জোয়ারের বিস্তার সংকুচিত হয়ে পড়ায় নদীতে ভাটার টান হ্রাস পায়, ফলে পলি নদীর তলদেশ জমা হয়ে ভরাট হতে থাকে দ্রুত। উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ অনন্য তার স্বাদে ও জীব বৈচিত্র্যে। কিন্তু বর্তমানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে লোনাজনিত পরিবেশীয় অবক্ষয়। বর্তমানে লোনা পানির প্রভাবে উপরোক্ত মৎস্যকুলের প্রজনন ক্ষেত্র ও ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, দেখা দিয়েছে উপরোক্ত মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তির আশংকা।

পরিবেশীয় ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাব পশু সম্পদ ও জন স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। লবণ সহনীয় কৃষিজ প্রজাতি অথবা মৎস্য প্রজাতি উদ্ভাবনে গবেষণা প্রতিষ্ঠার স্থাপন , একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দূর্যোগ রোধে আবহ বিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, ভূ-বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান- এসব বিষয়ের চর্চা ও গবেষনা দরকার। সারাদেশে বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নত তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। যদিও জনবহুল ও ঘনবসতি পূর্ণ দেশে এ জাতীয় সমস্যার প্রকৃতি ও এর সমাধান জটিল ও দূরূহ। প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞকে মনোযোগ ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রম গ্রহণ যা পরিবেশ সমস্যার স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রাকে অতিক্রম করে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।

 

উপকূলীয় কৃষি জমিতে জৈব পদার্থের বর্তমান অবস্থাঃ

উৎপাদন মাটিতে জৈবপদার্থের পরিমান শতকরা  ৩ ভাগের বেশি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমান শতকরা  ২ ভাগের বেশী। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অর্থাৎ মাটির গঠন উন্নত করা, মাটিতে অনুজীবের কার্যাবলী বজায় রাখা, শিকড় বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করা এবং উদ্ভিদের খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে মাটিতে জৈব পদার্থ বৃদ্ধি আবশ্যক।

কৃষিতে উৎপন্ন অধিকাংশ বারোমাস ফসল হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় বলে কৃষি জমির পুষ্টিচক্র সর্বদা বিঘিœত হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সামান্য পরিমান বারোমাস জমিতে ফেরত দেয়া হয়। যদিও সামান্য বারোমাস জমির উর্বরতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।

 

জৈব পদার্থ হ্রাসের কারণঃ
বাংলাদেশের জলবায়ুর উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা, জৈব পদার্থ দ্রুত বিয়োজনের জন্য অনুকুল অবস্থা তৈরী হয়। এতে উদ্ভিদের জন্য খাদ্য উপাদান দ্রুত গ্রহনোপযোগী হয় এবং অন্যদিকে হিউমাস কম সঞ্চিত থাকায় তা দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। মাটির জৈব পদার্থ  হ্রাসের জন্য যে সকল কারণ দায়ী তা হলো-

ক.    জমিতে জৈব পদার্থ যোগ না করা বা  সামান্য জৈব পদার্থ যোগ করা।
খ.    ফসল কাটার পর ফসলের পরিত্যক্ত অংশ জমিতে না রেখে জ্বালানী  হিসাবে ব্যবহার করা।
গ.    অননুমোদিত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা ।
ঘ.    অত্যধিক চাষ দিয়ে ফসল ফলানো
ঙ.    বিরামহীন ফসল আবাদ
চ.     একক ফসল আবাদ
ছ.    আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং
জ.    জনগণের সচেনতার তৈরী।

মাটির অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় জৈব পদার্থঃ
নদীর স্রোতধারায় বহনকৃত পলির  স্তরায়নে উপকূলের বিস্তৃতি। তাই স্বাভাবতই এলাকায় জৈব পদার্থের উপস্থিতি বেশী। মাটিকে ফসল উৎপাদনের উপযোগী রাখার জন্য যে সকল বৈশিষ্ট্য তা কেবল জৈব পদার্থই নিশ্চিত করতে পারে। জৈব সার মাটিতে যোগ করার পর তা অনুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয়ে নানা ধরনের জৈব যৌগ উৎপন্ন হয়। এই সকল জৈব যৌগের আঠালো প্রভাব মাটির কনাগুলোকে যুক্ত করাতে সহায়তা করে। এভাবেই জৈব পদার্থ মাটির সংযুক্তি তৈরীতে সাহায্য করে। জৈব পদার্থ সম্পৃক্ত মাটিতে অধিক ছোট-বড় ছিদ্র থাকে যা পানি ও বায়ুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

জৈব পদার্থ মাটির সংযুক্তির যে পরিবর্তন করে তার ফলেই  বায়ুমন্ডলের মাটির বায়ু বিনিময় হার এবং মাটিতে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ থাকলে তা অনুজীবের ক্রিয়াকলাপের ফলে বিয়োজিত হয়ে যে উপাদান যুক্ত হয় তা গাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়। মাটির খনিজ পদার্থ গাছের খাদ্য উপযোগী করে তৈরী  করতে অনুজীবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং জৈব পদার্থই হল অনুজীবের খাদ্য। মাটির আভ্যন্তরীণ পরিবেশে ভারসাম্য  বজায় রাখা  এবং পুষ্টিচক্র কার্যকর রাখার জন্য অনুজীবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমান আধুনিক কৃষিতে মাটির এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সংরক্ষণের কথা সর্বদা বিবেচনা করেই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে এবং মাটির উৎপাদন ক্ষমতা ধরে রেখেই স্থায়িত্বশীল কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে উপকূলীয়  এলাকায় যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে ষাটের দশকের আগেও সীমিতভাবে সেখানে চাষ হতো। ষাটের দশকে এই অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ তৈরীর ফলে চিংড়ি চাষ বন্ধ হয়ে যায় শুরু হয় ধান চাষ। সত্তর দশকে চিংড়ির চাহিদার  কারনে পুনরায় কৃষি জমিতে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। তাছাড়া এ সময় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দেয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদনও কমে যেতে থাকে। জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাওয়ায় কৃষকরা জমিতে ধান চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কোন কোন ক্ষেত্রে ধান চাষ সম্ভব হলেও তা থেকে আশানুরূপ ফলন হয় না । সাধারনত চিংড়ি চাষের লক্ষ্যে কৃষি জমিতে ডিসেম্বর - জানুয়ারী  মাসে লোনাপানি তোলা হয়। এ সময়ে সমুদ্রের পানির লবনাক্ত তার তীব্রতা অত্যন্ত বেশী  থাকে যা উপকূলীয় এলাকায় মাটির গুনগত মান ও মাটির আভ্যন্তরীন পরিবেশে সাম্যবস্থায় নষ্ট করে।

 

বাংলাদেশের খুলনা, ররিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল এবং নোয়াখালী ও চট্রগ্রামের চরাঞ্চলে আক্রান্ত মাটিতে প্রচুর লবনের উপস্থিতির কারণে  এখানকার মাটি ক্ষারধর্মী শুকনা মৌসুমে কৃষি জমির উপরিভাগে সাদা লবনের স্তর দেখা যায় যা মাটির উর্বরতাকে নষ্ট করে। তাই স্থায়িত্বশীল কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপকূলীয় কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

উপকূলীয় এলাকায় আধুনিক কৃষি উপকরন ব্যবহারঃ

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফসলি জমি বাড়াবার সুযোগ নেই। তাই বিদ্যমান ভূমিতে অধিক উৎপাদন বাড়াবার জন্য কৃষকরা আধুনিক কৃষি উপকরণ, হাইব্রিড ধান, কীটনাশক, রাসায়নিক সার ব্যবহারকে অন্যতম উপায় হিসাবে নির্বাচন করেছে। ষাটের দশকের শেষে মাঝারি আকৃতির সার নির্ভর উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষাবাদের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ফসলের যোগান দেয়ার জন্য সত্তরের দশকে গোড়ার দিকে চীন উফসীর সাথে সাথে প্রথম  হাইব্রিড বীজ উৎপাদন ও চাষ শুরু করে। এর পর ১৯৭৯ সালে চীনে বাণিজ্যিকভাবে হাইব্রিড ধানের বীজ বাজারে ছাড়া হয়। এবং ধানে উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য আসে। ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে চীনের এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ভারত, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ইত্যাদি এশীয় দেশ নব্বইয়ের দশক থেকে হাইব্রিড ধান চাষ শুরু করে। বাংলাদেশে ১৯৯৫ সালে পরীক্ষামূলক ভাবে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ শুরু হয়।  এরপর ১৯৯৮ সালের বন্যার পর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সে সময়ে হাইব্রিড ধানের চাষ ব্যাপকভাবে শুরু হয়। উচ্চ ফলনশীল বীজ আমদানি ও চাষ করা হয় কারণ এ ধান  চাষে অধিক ফসল উৎপাদন  সম্ভব। দ্বিতীয়ত অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ফসল উৎপাদন করা যায়।  এবং প্রতি একর জমিতে কম বীজ লাগে। যা প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশে খাদ্য ঘাটতির বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে উচ্চ ফসলশীল বীজের ঋণাত্মক কারণ হিসাবে বলা  হয়, কৃষককে প্রতি বছর বীজের জন্য বাজারের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় এবং এ নির্ভরশীলতার কারণে যুগ যুগ ধরে বীজ সংরক্ষণের সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে জীববৈচিত্র্য  হুমকির মুখে পতিত হতে পারে।

সবুজ বিপ্লবের নামে ষাটের দশকে উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদের সময় কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের বিতরণ ও ব্যবহার বেড়ে যায়। এভাবে সহজে কীটনাশক পাওয়ায় কৃষকরা যথেচ্ছ ব্যবহার শুরু করে। এভাবে প্রথম থেকেই রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক কীটনাশকের সঠিক  মাত্রার ব্যবহার সম্পর্কে কৃষক সমাজ অচেতন থেকে যায়।

প্রায় ক্ষেত্রেই অনুমানের উপর নির্ভরকরে কৃষকরা ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। অনেক সময় কীটনাশকের দাম বেশী হওয়ায় কৃষকরা কম দাম দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বা অনেক বেশী ক্ষতিকারক কীটনাশক ফসলে প্রয়োগ করে যা শস্য উৎপাদন, মাটির উর্বরতা এবং উদ্ভিদ ও প্রাণী, জীব বৈচিত্র্যের জন্য খুবই বিপদজ্জনক। উপকূলীয় জেলাগুলোকে শাক-সবজি ক্ষেত্রে যেসব কীটনাশক ব্যবহৃত হয় এদের বিষক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আগেই ভোক্তাদের ঘরে চলে আসে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক প্রতিক্রিয়াশীল। শুধু উপকূলীয় অঞ্চল নয় সমগ্র দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। রাসায়নিক কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে প্রকৃতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাস্তসংস্থান ভারসাম্য হীন হয়ে পড়ছে। দেশের মাটি ও পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। তাছাড়া প্রকৃতির অনেক উপকারী কীটপতঙ্গ ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মারা যাচ্ছে বিপরীত দিকে, অনেক ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের মধ্যে কীটনাশক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দেশে কৃষিজমি ক্রমশ অনুর্বর হয়ে পড়ছে যা জমির উর্বরতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।

উচ্চ ফলনশীল কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। জনসংখ্যার ভারে বিপর্যস্ত বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা সত্ত্বেও দূভার্গ্যজনক ভাবে গত তিন দশকে পরিবেশের অবক্ষয় দ্রুততর হয়েছে। এদেশে জলবায়ুর পরিবর্তন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ, পানি ও বায়ুদূষণে পরিবেশগত ও জটিল প্রাকৃতিক অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য টেকস্ই উন্নয়ন ও পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানির একক বৃহত্তম ব্যবহারকারী কৃষি তথা সেচ সেক্টরে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরী। ফসলের চাহিদানুসারে উপযুক্ত সময়ে সঠিক পরিমান সেচ ব্যবস্থা সরবরাহ করে উচ্চ ফলনশীল ফসলের ফলন বৃদ্ধি সম্ভব যা ক্রমবর্ধমান এদেশের টেকস্ই কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

 

বাংলাদেশের কৃষি; সমস্যা ও সম্ভাবনাঃ

 বেঁচে থাকার জন্য জীব জগতের মৌলিক চাহিদা খাদ্য । তাই আদিম যুগে সর্বপ্রথম মাটিতে বীজ বপনের মাধ্যমে শুরু হয় কৃষি কাজ, আরম্ভ হয় সভ্যতার বিকাশ।

বর্তমান সভ্যতার এই হাইটেক পর্যায়ে অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন পরিবর্তন এসেছে, উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে সেরূপ উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়নি ।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কৃষিক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন ও উন্নয়ন হয়েছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে, উদ্ভাবিত হয়েছে এবং হস্তান্তরিত হয়ে কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু এদেশের কৃষি উন্নতি কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌছাতে পারেনি। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বর্ধিত খাদ্য চাহিদার মোকাবেলা করে খাদ্য উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে “কৃষিনীতি” এবং নতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতি প্রনয়ণ করা হয়েছে । ফলে এদেশের সকল শ্রেণীর কৃষকের অভাব ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি সম্প্রসারনের সার্বিক সেবা প্রদান করে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে স্থায়ী কৃষি ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশের কৃষি এদেশের মাটি, আবহাওয়া, কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, কৃষি জ্ঞান ও শিক্ষা লাগসই প্রযুক্তি, খাদ্যাভ্যাস, শিল্প ও আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। কাজেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চল  তথা সমগ্র দেশের উন্নয়ন সম্ভব।

উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ও সম্ভাবনা আছে।

সমস্যাঃ
১.    কৃষকের আর্থ-সামাজিক  অবস্থা
২.     কৃষি পন্যের বাজারজাতকরণ
৩.    কৃষি জমিতে জোয়ারের পানি প্রবেশে লবনাক্ততা বৃদ্ধি
৪.     উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস
৫.    উৎপাদিত কৃষি পন্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া।
৬.    পরিবহন ও যোগাযোগের অসুবিধা
৭.     মজুদ ও সংরক্ষণের অভাব
৮.    চিংড়ি চাষের ব্যাপক তার ফলে কৃষি জমির অভাব
৯.    কৃষি ঋণের জটিলতা
১০.   কৃষি জ্ঞানের অভাব
১১.   প্রাকৃতিক দূর্যোগের আঘাত
১২.    প্রশাসনিক জটিলতা
১৩.   কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতার অভাব

সম্ভাবনাঃ
১.    কৃষি প্রযুক্তির হস্তান্তর
২.     কৃষি শিল্পের কর্মসংস্থান
৩.    কৃষি বাজার প্রসার
৪.     খাদ্য প্রক্রিয়া জাত করণ
৫.    কৃষি পন্য রপ্তানি
৬.    কৃষি পন্যের কাঁচামাল উৎপাদন
৭.     কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠা

     
Untitled Document
Total Visitor : 708956
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :