Untitled Document
কার্তিক সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
সাক্ষাৎকার
নূর খাতুন
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: প্রিসিলা রাজ

ফেনি জেলা সদরের বিরিঞ্চি এলাকায় বাস করেন নূর খাতুন। তাঁর পিতৃনিবাস ফেনির সোনাগাজী থানার দুই নম্বর ইউনিয়নভুক্ত মঙ্গলকান্দি গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর যখন সবে কৈশোর শুরু তখন গ্রামের রাজাকারদের হাতে ধর্ষিত হয়েছিলেন তিনি। সেই একই রাজাকাররা হত্যা করেছিল তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামকে। প্রায় ভূমিহীন এবং পেশায় কসাই আব্দুস সালাম মঙ্গলকান্দি গ্রামের ক্ষুদ্র পৈতৃক ভিটায় অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে পরিবার নিয়ে বাস করতেন। যুদ্ধ শুরু হলে ভারতে পালিয়ে গিয়ে পরে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে ফৌজিয়া খান নূর খাতুনকে নিয়ে যে তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন সেখানেই তিনি একাত্তরের অবর্ণনীয় দিনগুলোর কথা প্রথম প্রকাশ করেন। এ বছর ১লা অক্টোবর ফৌজিয়া তাঁকে সম্মাননা জানানোর উদ্যোগ নিলে নূর খাতুন ঢাকায় আসেন। এই প্রতিবেদক সেসময় তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকারটি তিনি ফেনির আঞ্চলিক ভাষায় দিয়েছেন। সে ভাষাতেই এটি উপস্থাপন করা হলো।

নূর খাতুন ও তার ছোট ছেলে দাউদ

 প্রিসিলা:       আপা, আপনার পরিবারের কথা কিছু বলেন।

নূর খাতুন: আমরা বোইনেরা চাইরজন আর ভাই দুইজন। আমার বড় বোইন একটা আছিল। আমি দুই লম্বর। ’৭১ সালে আমার বড়গার বিয়া দিয়া লাইছিল। আমি বাড়িত আছিলাম।

প্রি.   আপনার বাপে কী করতেন?

নূ.খা. আঁরার বাপে সোনাগাজী গরু জব করত। কসাই আছিল।

প্রি.   উনি ইন্ডিয়া কোথায় গেছিল জানেন?

নূ.খা. যে জাগা গেছে সে জাগার নাম শাশনাপুর। ইন্ডিয়া তুন হে জাগাতে গেছে। আরো লোকবল গেছে। ভরা লোকবল গেছে। গেছে আরবারে পাঞ্জাবিরা আর রাজাকাররা হে জাগাটা ঘেরাও করিয়া লাইছে। ঘেরাই করিয়া লাইছে, কন কন দি গেছে আর খবর নাই। বুইজ্জেননি? খবর যন নাই আমার বাবা একলা পড়ি গেছে। একলা পড়ি বাইত চলি আইছে। (বাড়িতে এসে লুকিয়ে থাকার সময় আব্দুস সালামকে রাজাকাররা ধরে নিয়ে যায় এবং খুন করে। নূর খাতুন জানান ঘটনাটি ঘটেছিল রোজার মাসে।)

প্রি.   আপনার বাবার সঙ্গে আপনার কথাবার্তা কথা হইছে না? সেইগুলা মনে পড়ে?

নূ.খা. আমার বাবার সঙ্গে কথাবাত্তি হইছে না? আমার বাবা কান্দি কান্দি কইছে, ‘আমি যদি জীবিত থাকি আমি মনে কইল্লাম যে আমার ঝিরে স্বর্ণের হার বানাই রাখমু।’ আমারে আদর কইচ্চে।

প্রি.   আপনার বাবা ছাড়া আর কেউ মুক্তিফৌজ আপনার গ্রামে ছিল না?

নূ.খা. আর কেউ নাই।

প্রি.   আপনার গ্রামের অন্য মেয়েদের ওপর নির্যাতন হইছিল?

নূ.খা. না হয় নাই। আমার বাবা মুক্তিফৌজ। আমি মুক্তিফৌজের মেয়ে (রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে বলে প্রতিহিংসাবশতঃ তাঁকে ধর্ষণ করেছিল)।

প্রি.   রাজাকাররা আপনারে নির্যাতন করার পরে আপনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তখন চিকিৎসা করাইতে পারছিলেন? আপনার বাচ্চাকাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা হইছিল?

নূ.খা. আমার বাপ তো মারা গেছে। আমার মামুরা আছে। আমার মামুরা আমারে ডাক্তারখানাত নি পরীক্ষাটরিক্ষা করি ইতা ওষুধবড়ি খাওয়াইছে।

প্রি.   ঐসময় যেই অবস্থা আপনারে কি ডাক্তারখানায় নিতে পারছিল?

নূ.খা. হ্যাঁ, হাইচ্ছে, চুরি করি নিছে।

প্রি.   আপনার কোন মামা আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন?

নূ.খা. হাবু বলি নাম। ইতা আমার মার আপন ভাই। আমারে হাবু মামা ডাক্তারখানায় নিছে।

প্রি.   আপনার নির্যাতনের পর আপনার আত্মীয়স্বজন আপনাকে খারাপ বলে নাই?

নূ.খা. নাহ্ বলে নাই। ইতা কি আঁর নিজে ইচ্ছা করি হইছে নি? তারা তো দুষ্টকারী লোক। ইতা সবাইয়ে বুজে। আমার বাপ তো আছিল না। কেউ যদি বলতো আমার তো বিয়াশাদী হইত না। মনে করেন আমার ছেলের বাপ বৃদ্ধ হইছে আঁরি, বিয়ার লায়েক হইছে তো আঁরে দিয়া দিছে আঁরি। (বিয়ের বয়স হওয়ার পর একজন বৃদ্ধের সঙ্গে আমার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।)

প্রি.   আপনার বিয়া হইছে ’৭১-এর কত বছর পরে?

নূ.খা. বাংলাদেশ স্বাধীন হইছে পর আরো দুই-তিন বছর পরে বিয়া হইছে।

প্রি.   আপনার স্বামী জানতেন না যে আপনি নির্যাতন হইছেন?

নূ.খা. না, জানত না। জামাই বাড়ির লোক জানত না।

প্রি.   আপনি মুক্তিযুদ্ধের এতদিন পর এসব কথা কেন বললেন?

নূ. খা. বলব কার কাছে? আপনেরা যে এইসব কথা কন - কার কাছে কব? তো বলবার কোনো লোক নাই। গুপ্ত হিসাবে কথা পেডের ভিত্রে রই গেছে।

বাপের বাড়ি লোকে বলছে যে আমার বাপেরে মারছে। এখন হেরা পুরাপুরি কইতে পারে ন। হেরা আমারে ডাইকছে যে, ‘তুমি কইতে হাইরবা নি?’ ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে। আমি কইতে হারমু।’ তে আমি সব কথা বলছি। (ফৌজিয়া মুক্তিযুদ্ধের ওপর তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে মঙ্গলকান্দি গ্রামে গেলে এলাকার মানুষ নূর খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।)

আঁর মনে করেন ভিত্রে আঘাত চলি আইছে। বুইজ্জেন নি? কীল্লাই আঘাত আইছে? আমার বাপের খানা খাই ন, বাপের পিন্দা পিন্দি ন, বাপের আদর-সমাদর আমরা পাই নাই, বুইজ্জেন? এখন যেল্লাই আমরা জান দিলাইছে, এ হইছি (ধর্ষিত), এখন এইটা যখন আন্নেরা জিজ্ঞাসা করের আমরা কথাখান গুপ্ত কীল্লাই করি রাইখতাম? গুপ্তটা কীল্লাই কইরতাম? এই কথাটা আমি বহুত আঘাতের থন বলিয়া লাইছি।

প্রি.   আপনার স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থায় কেউ যদি আপনার কাছে এসব কথা জিজ্ঞাসা করত আপনি বলতেন?

নূ.খা. কী হইব তা? আমার স্বামী আমারে রাইখলে রাখত, ন রাখলে নাই। অসুবিদা কী? অসুবিদা তো আছিল না। 

প্রি.   হেই লোকগুলার কী নাম?

নূ.খা. এক লম্বরে হইছে ওয়াদুল হক (ওবায়দুল হক) আর জালাল। হেই লোকরা হইল কমান্ডার। হে লোক দি মুক্তিফৌজ টোঁয়াই ধরায় আনি ওয়ার্ডার দি মারায় (এরা লোক লাগিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে মারার নির্দেশ দিত)।

আমার বাপের বাড়ি দুই লম্বর (ইউনিয়নে) আর ওয়াদুল হকের বাড়ি হইছে এক লম্বর (ইউনিয়নে)। জালালের বাড়ি কয় লম্বর কইতে পারলাম না। আর লোক আছে মনে করেন মাবুল হক (মাহবুবুল হক)। আর কাশিম, আর আরেকজন হইল গিয়া সিদিক। সিদিক দুই লম্বরের থাকি। মাবুল হকের বাড়ি ধরে পাইকপাড়া। মদ্যিখান দি রোড আছে, রোডের ঐ পাশে তারা, এই পাশে আমরা।

প্রি.   যাদের কথা বললেন তারা সবাই কি বাইচা আছে?
নূ.খা. বাইচা আছে।

প্রি.   এরা ছাড়া আরো লোক কি ঐ দলে ছিল?

নূ.খা. ছিল।

প্রি.   আপনি ওদের চিনতে পারেন নাই।

নূ.খা. আরে আপা আমি অত চিনছি নি? 

প্রি.   রাজাকারগুলাকে কি যুদ্ধের পর পুলিশ ধরছিল?

নূ.খা. হেগুনি তো মুক্তিফৌজেরা আসছে পরে ধরা পইচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হইছে আর ধরা পইচ্ছে। মুক্তিফৌজেরা ওনরা হইছে দয়ালি লোক। কতা বুঝেন না? দয়ালি লোক তা এতারে পিডিপাডি দুই-চাইর ঘা দিছে পর এরা গেছে গই। এয়ারা কাইৎ হই চিৎ হই বে হুঁই হুঁতি আছিল। এঁয়ারে এক্কেরে মারে নাই। এক্কেরে যদি মারিয়ই লাইত এরার তো মিত্যু হই যাইত গই। এক্কারে মারে নাই।

প্রি.   কেউরে মারে নাই?

নূ.খা. এ মাবুল হকও রইছে, কাসিমও রইছে, জালাল মিয়াও রইছে, ওয়াদুল হকও রইছে, সিদিকও আছে। আরে¹া হইল শেখ আহম্মদ। হে এখনও বাইচা আছে। হে আমরার একই গেরামের ভিত্রের লোক।

প্রি.   ওদের যুদ্ধের পর আর জেলে দেওয়া হয় নাই?

নূ.খা. কেউরে দুই-চার ঘা দিছে আর আর পলাই গেছে, কেউরে জেলে দিছে আর জামিনে গেছে গই, এন্নের উপ্রে এগুনা আছে আঁরি। হেগুনের উপ্রে মনে করেন কোনো পেশার (চাপ) নাই।

প্রি.   দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আপনারা ওদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেছিলেন?

নূ.খা. আগে করে ন। আমার বোইনে মামলা করছে আফা যাওনের পর (ফৌজিয়া তথ্যচিত্রটির শ্যুটিং সেরে আসার পর নূর খাতুনের ছোট বোন রাজাকারদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন)।

প্রি.   আপনি তথ্যচিত্রে এসব কথা বলার পর ওরা আপনাকে হুমকি দিয়েছে?

নূ.খা. হুমকি আঁরে দেও নাই, আমার বোইনেরে দিছে। 

প্রি.   বোইনের নাম কী?

নূ.খা. নূরুন্নেসা। হে আমার বাপের বাড়ি থাকে।

প্রি.   ঐখানে ওনার বিয়া হইছে?

নূ.খা. বিয়া হইছে মনে করেন যে বাপ নাই, বিয়া দেওইয়া কেও নাই, এরে একটা বুড়া জামাইর থন বিয়া দিছে। ছেলে-সন্তান কিছু নাই।

প্রি.   আপনার বোইন জামাই নিয়া আপনার বাপের গ্রামেই থাকে?

নূ.খা. হুম্।

প্রি.   ঐখানে আইসা তারে হুমকি দিয়া গেছে? কার লোকে আইসা হুমকি দিছে?

নূ.খা. হুমকি দিছে সিদিকের ভাইয়ে। হে বিদেশে থাকে। বিদেশ থাকি আঁর বোইনেরে ফোনে হুমকি দিছে, ‘এই দিন দিন ন, আরো দিন আছে, হেই অক্ত আইলে দুয়ার বান্দি জব করি থুমু’।

প্রি.   আপনার বোন ভয় পাইছে?

নূ.খা. ভয় পাইছে তো। বোইনে আঁরে কইছে। আঁই কইছি, ‘ঠিক আছে। মারিয়া লায় মরিয়া যাইস। কী হইছে তা?”

প্রি.   আপনি নির্যাতনের কথা প্রকাশ করার পরে আশেপাশের লোকে আইসা কি অসুবিধা করছে?

নূ.খা. না, অসুবিদা করে নাই। নিজের থে খারাপ লাগে আঁরি।

প্রি.   আপনার খারাপ লাগে ক্যান? আপনি খুব সাহসের একটা কাজ করছেন। খুব কম মহিলা আছেন যাঁদের উপর যুদ্ধের সময় নির্যাতন হইছে কিন্তু তাঁরা সেই কথা প্রকাশ করছেন।

নূ.খা. হঁ, লুকাই রাখে। আমি তো লুকাই রাখি নাই। এ কথা কওনের পর আমি দুঃখে আছি। আমার বাড়িতে আমার বোইনেরা কওনের না কইরছে। কইছে ‘যা হোক, যা গেছে গই গেছে গই, এ কথাটা তুমি উলুক করিও না, আমাগোর ওপর পেশার (চাপ) পইড়ব। পরে হামলা আইবো।’

প্রি.   এইটা কি বোইনেরা আপনে এইসব কথা কওয়ার পরে বলছে? না আগে বলছে?

নূ.খা. বলার পরে আমার বোইনেরা কয় ‘তুমি বলিয়া দিছ এহন আমরার উপর তো হামলা আইবো।’ তা তোমরার উপ্রে হামলা আইবার কী প্রয়োজন? দরকার হইলে আমার উপ্রে হামলা আইবো। আমারে মারিয়া লাক। আমার বাবারে যহন মারিয়া লাইছে, আমার বাবায় যে পথে গেছে মনত চাইলে আমিও হেই পথে যামু। আঁর তো কুনো দুঃখ নাই। হেরা মাারিয়া লাইলে মারিয়া লাইব।

প্রি.   আপনার সংসার কীভাবে চলে তা একটু জানতে চাই।

নূ.খা. ছোটগা ভাড়ায় সিনজি চালায়। বড়গা চিটাগাংএ গার্মেন্টস করে। দোনো গা যেসময় যা হারে তা দেয়। বড়টারে বিয়া করাইছি। আমার নাতিন আছে। আমার লগে আছে।

প্রি.   আপনার কি জমি-জায়গা আছে? বা আপনার স্বামীর?

নূ.খা. জাগা-জমি নাই। ভিটা আছে। ছয় ডেসিম (শতক)।

প্রি.   আপনার বাপের বাড়ির কী আছে?

নূ.খা. আমার বাপের বাড়ির কিছু নাই। হে জাগা কদ্দুরা ঘরভিটা জাগা আছে। হে জাগা আঁর বাপে ঘর দিয়া থাইকত। দোচালা একটা ঘর দি, ছনের ঘর দি আমরার বাপে আঁরে থুই গেছে। অহন ভাই এউ¹া আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের থন টেকাটুকা নি অহন টিনর ঘর কদ্দুরা দিছে।

প্রি.   আপনার বাপের ভিটা আছে সেইখানে আপনার ভাই থাকে। সেইটার ভাগ আপনারা নেন নাই।

নূ.খা. নাই, আমরার নাই। বোন হিগা এক্কেরে অস্থায়ী।

প্রি.   আপনের ছেলেদের কি লেখাপড়া কিছু করাইতে পারছেন?

নূ.খা. লেখাপড়া বেশি করাইতে পারি নাই। মেট্টিক পরীক্ষা দিতে পারি ন, এইট-লাইনের পরীক্ষাও আমি দেওয়াইতে পারি ন। মাদ্রাসায় পইচ্চে।

প্রি.   ছেলেরা কাজ নেওয়ার আগে কেমনে সংসার চালাইছেন?

নূ.খা. মনে করেন আঁই কেউর কাম একখান কইচ্চি, আমারে কিছু চাইল-ডাইল দিছে মাইনষে, কিছু সাহায্য কইচ্চে। দোনোগা মানুষ কইচ্ছি।

প্রি.   আশেপাশের লোক আইসা আপনার ছেলেগোরে কোনো খারাপ কথা কইছে?

নূ.খা. নাহ্। অহনও কিছু বলে নাই। 

প্রি.   আপনে এইসব নিয়া কোনো দুশ্চিন্তা করেন?

নূ.খা. চিন্তা তো করি আপা। যে কথাটা বলিয়া লাইলাম রাগের সাথে... আমি তো বলি আমার মনেত্ দুঃখ এটা আমার ছেলেরা কোনো বুঝে না। হেঅক্ত তো আমার বিয়াই হয় নাই। ছেলেরা তো তখন নাই-ই। ...একটা কাজ হই গেছে, অহন আল্লা যা করে তাই। (আমার মনের আঘাত থেকে এসব কথা প্রকাশ করেছি। আমার ছেলেরা তো সেসময় ছিলই না। তাদের পক্ষে আমার দুঃখ বোঝা আদৌ সম্ভব না। এখন সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভর করা ছাড়া কিছু করার নেই।)

প্রি.   আপনার বাবা মারা যাওয়ার পরে আপনার মা আপনাদের কীভাবে মানুষ করেছিলেন?

নূ.খা. আমার মা আমরারে মানুষ করছে খুঁজি মাগি। খুজি মাগি আনিয়ারে যেইগুন পাতিলত করি চুলার উপ্রে দিছে, হেইত্তন আমরারে খাইবার লাই দেয় নাই। রাইফেল দি গুতাই গুতাই আমরার চুলার উপরের থন ভাতের পাতিল ফালাই দিছে, সালুনের পাতিল ফালাই দিছে।    

প্রি.   ঐ সেনাগুলা? রাজাকারগুলা?

নূ.খা. হ। ত আপনেগরে এখন কী কতা বইলতাম আর? কী কতা বলুম? হেই পাতিলের ভাতত্তুন খাইবার লাই আমরারে দেয় নাই। আমরা মনে করেন কবরস্তানে থাকিয়া রাইত কাটাইছি, আমরা পাতাখোলাত্থে থাকিয়ারে রাইত কাটাইছি। আমরা কত দুঃখ করি রাইত কাটাইছি, কত দুঃখ করি আমরা বসতবাড়ি কইচ্চি, আমরার দুঃখের কতা আন্নেরা এখন বলিয়া দেয় না শুনেন, নালে তো আন্নেরা দেখেননও ন। দেখছেন নি? তো আমরা ন দেকতাম, আমরা যদি ন দুঃখ কইরতাম তাইলে এইসব কথা আমরা বইলতাম হাইত্তম ন। এই কতার তদন্ত করেন আন্নেরা। (আমাদের দুঃখের কথা বলছি বলেই না আপনারা জানতে পারছেন, নয়তো আপনারা তো এসব দেখেনওনি। আমরা এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে না গেলে তো আপনাদের এসব কথা বলতে পারতাম না। এখন আপনাদের উচিত এসব ব্যাপারে আরো অনুসন্ধান করা।)

৩রা অক্টোবর ২০১০
     
Untitled Document
Total Visitor : 708659
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :