Untitled Document
কার্তিক সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
শেরামণি ও শার্শার নসুবালা
গত বছর যশোরের শার্শায় যাওয়া হয়েছিল। এক পাড়ায় হাঁটাহাঁটির সময় চোখ পড়ে গেল আশ্চর্য এক বর্ণবিন্যাসে। ছোট ছোট সবুজ পাতার ফাঁকে মাটি ঘেঁষা গাছড়ার গায়ে লুকিয়ে থাকা নীল ফুলগুলো যেন আমারই অপেক্ষায় ছিল। এত সুন্দর! এত সুন্দর! মাটির ওপর প্রায় উপুড় হয়ে ছবি তুলতে দেখে ভিড় করে থাকা গুড়াগাড়ার দল হাসতে শুরু করেছিল। তারপর ক্যামেরার ছোট্ট মনিটরে ফুলটাকে ফুটিয়ে তুলতেই ওদের চক্ষু ছানাবড়া। গাছটার নাম বলতে পারল না কেউ। পঞ্চাশ বছর আগে হলে হয়ত পারত। পূর্বপুরুষের জ্ঞান বিস্মরণের ঢেউ আমাদের গ্রামীণ সমাজকেও আক্রান্ত করেছে একেবারে ভেতর থেকে। এসব বড় বড় কথা ভাবছি এমন সময় পায়ে চলা পথ ধরে এগিয়ে এলেন এক শীর্ণ বৃদ্ধ। ফুলের ছবি দেখিয়ে নাম জানতে চাইলাম। স্মৃতির পথে ছয়-সাত দশক উজিয়ে গেলেন তিনি। সাতচল্লিশের দেশভাগের আগে আজ যেখানে এই ঘন বসত ঠিক সেখানেই বাঘ ডাকত, আর ছিল ঘন জঙ্গল। হাজারটা ছোট-বড় গাছ মানুষের কত রকমের প্রয়োজনই না মেটাত। কোন গাছ কী কাজের সেসব সাধারণ মানুষের যেমন অনেকটা জানা ছিল তেমনি বিশেষজ্ঞের পর্যায়ে ছিলেন বেশ কিছু কবিরাজ। নানা আক্ষেপ কাজ করে, তবে ফুর্তিবাজ হিসেবে বুড়োর বেশ নাম-ডাক আছে। সবার চাপাচাপিতে গান ধরলেন। সরু, মিহি গলার সে গান শুনে আমার কেন যেন মনে পড়ে গেল হাঁসুলি বাঁকের উপকথার নসুবালার কথা। তারাশঙ্করের উপন্যাসটা পড়া হয়নি। শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত পরিচালক তপন সিংহের বয়ান পড়েছিলাম। বইটার চিত্ররূপ দিয়েছিলেন তিনি। নসুবালা ছেলে হলেও সারাজীবন মেয়ের পোশাক পরে কাটিয়েছে, নারীর জীবন যাপন করে গেছে। তপনবাবু আত্মজীবনীতে আক্ষেপ করেছিলেন চরিত্রটার মাত্রা বুঝতে না পেরে তিনি সিনেমায় তাকে পুরুষ বেশে উপস্থাপন করেছিলেন। ধান ভানতে শিবের গীত গাইলাম। গাছড়াটার নাম বুড়োর কাছে জেনেছিলাম- শেরামণি। তাঁর নিজের নামটা যদিও জিজ্ঞেস করা হয়নি। ফুলটার দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে ভাবি, নামটা কি ওকে মানিয়েছে, না মানায়নি?
লেখা ও ছবি: প্রিসিলা রাজ

শেরামণি           আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

শেরামণি           আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
     
Untitled Document
Total Visitor : 708981
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :