Untitled Document
অগ্রহায়ণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
আমি একজন মানুষঃ রণজিৎ বাওয়ালীর জীবনী
- লিঠু মণ্ডল

(পূর্ব প্রকাশের পর)

ভবদহ আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। যখন পানিতে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে গেল, বাড়িঘর-বিল ডুবে গেল। যাদের বাড়ি একটু উঁচুতে তারা ঘরের ভেতর মাচা তৈরি করে কোনোরকম থাকতে শুরু করলো। বাদবাকীরা কেউ নৌকার উপর, কেউ উচুঁ রাস্তায় আশ্রয় নিল। নতুন শিশুও পৃথিবীর আলো দেখছে এই অমানিশা দুর্দশার মধ্যে। অনেক শিশু পানিতে পড়ে শৈশবেই মারা যাচ্ছে। এইসব ঘটনা যখন বাওয়ারীর চোখের সামনে ঘটছে তখন তিনি  আর বসে থাকতে পারলেন না। মানুষের জন্য কেঁদে উঠলো তার অন্তর। গামছা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি। মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর ও কলারোয়ার ৭০ টি গ্রাম ভবদহের পানি অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার প্রতিটি বাড়িতেই গিয়েছেন রণজিৎ বাওয়ালী। রাতে ঘুম ভাঙিয়েছেন, সবাইকে ডেকেছেন। ডেকে ডেকে সভা করেছেন। তারপর সবাইকে নিয়ে টিওনো, ডিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন, ঘেরাও করেছেন, রাস্তা অবরোধ করেছেন। বিলে, নৌকায় মাইক বেঁধে প্রচারণা চালিয়ে সবাইকে ডাক দিয়েছেন ঘেরাও কর্মসূচীতে অংশ নেবার জন্য। প্রথম অবরোধ কর্মসূচীতে জমায়েত হয়েছিল প্রায় বিশ হাজার মানুষ। যে যা পড়ে ছিল, সে অবস্থাতেই অবরোধে চলে এসেছে। ছেঁড়া গামছা, ছেঁড়া থান কিংবা ভিজে কাপড় পড়ে সবাই চলে এসেছে। এভাবে ধারাবাহিক ঘেরাও আন্দোলনের ফলে সরকারের টনক নড়ে। ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হয়। ফরে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এলাকাটি। ফসল হচ্ছে, কৃষকের মুখে হাসির রোদ্র ঝিলিক দেখা দিচ্ছে।


ভরতভায়নার আতিয়ার খাঁ নদীতে মাছের ঘের করে কিছু প্রভাবশালী লোক নদীতে পলি ঢুকতে দিত না। তারপর বাওয়ালী সহ এলাকার লোকজন মিটিং করে ঠিক করলেন তারা ভরতভায়নার যাবেন, গিয়ে বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে আসবেন। তারপর একদিন এলাকার হাজার হাজার লোক সংগঠিত হয়ে ভরতভায়নায় গেলেন। পুলিশ সেখানে আগে থেকেই এসে জড়ো হয়ে ছিল। সমবেত জনতার দিকে পুলিশ গুলি চালালো। গোবিন্দ বাবু নামে একজন শিক্ষক সেখানে শহীদ হলেন। জনতা রুখে দাঁড়ালো। পুলিশের বন্দুকের বিপরীতে তাদের হাতে সম্বল মাটিকাটা কোদাল। জনতার পিটুনি খেয়ে পুলিশ পিছু হটল। সবাই মিলে কোদাল দিয়ে বেড়িবাঁধ কেটে দিল। হলো জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের বিজয়। নদীর নাব্যতা ফিরে আবার ফিরে এলো, পলি পড়ে জমি আবার সমৃদ্ধ হলো জমি।

পরবর্তীকালে বিল খুকসেতে যে টিআরএম হলো, অর্থাৎÑ নদীর পলি বিলে ধারণ করার প্রকল্প নিয়ে যে আন্দোলন হয় তাতেও তিনি  শরীক হন। এই আন্দোলন এখনো চলমান।

ভারতের গাইঘাটা হয়ে একটা নদী এসে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ঘুরে আবার ভারতের দিকে চলে গেছে। এই জায়গাটার নাম মাথাভাঙ্গা। এই মাথাভাঙ্গার সাথে ভৈরব কেটে যদি সংযোগ করা হয় আর পদ্মার সাথে ঐ দিকটা মুক্ত করে দিলে পদ্মা আগের মতো পুনর্জীবন পাবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছেÑ তাতে সুন্দরবন বাঁচবে, আমাদের অন্য নদীগুলো আগের মতো পুনর্জীবন পাবে।

কপোতাক্ষ পলি পড়ে মৃত প্রায়। খনন করার নামে চলছে প্রতারণা, লুটপাট। এ প্রসঙ্গে রনজিৎ বাওয়ালী বলেনÑ অসরকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও এর মাধ্যমে কাজ করলে তা বিপুল ক্ষতি হবে। এটা সরকারকে করতে হবে। ‘অবদা’ কে এদেশ হতে বিতাড়িত করতে হবে। কপোতাক্ষের জন্য টিআরএম প্রকল্প চালু করতে হবে। আমাদের দেশে সাড়ে বাইশ হাজার এনজিও আছে। এগুলো আমাদেরকে তিলে তিলে শোষণ করে আমাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। সরকার যদি সাধারণ মানুষের জন্য ঋণ প্রকল্প চালু করে তবে দারিদ্র্য বিমোচনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে।

(চলবে)        
     
Untitled Document

পটল ফুল
Total Visitor : 709957
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :