Untitled Document
অগ্রহায়ণ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
লালগড় আন্দোলনের ছবি











Download These Files
লালগড়ের মানুষদের প্রতি আমাদের সংহতি

জঙ্গলমহালে পিসিপিএ বনাম সিপিআই (এম): একটি উদ্বেগ
- দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী


পশ্চিম বাংলার জঙ্গলমহালের সমসাময়িক সময়ের জনগণের আন্দোলনের থিতিয়ে পড়া অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার জন্ম দেয়। পিসিপিএ এর সভাপতি লালমোহন টুডু, সম্পাদক ভুতো বক্সী এবং তাদের মুখপত্র বক্তা টুডু সরেন সহ সংগঠনের অন্য আরো সংগঠকদেরকে এনকাউন্টারে হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের এই অবস্থাকে অনিবার্য পরিণতি বলে চালিয়ে দেয়া যায় না। প্রতিটি ঘটনা থেকেই দেখা যায় যৌথবাহিনীর কাছে সংবাদ গেছে চরদের মাধ্যমে। এই চরেরা হয় সিপিআই(এম) অথবা প্রাক্তন সিপিআইএম সমর্থক। ভূতোর ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, একদল লোক যারা সিপিআইএম ছেড়ে পিসিপিএ তে যুক্ত হয়েছে তারাই চরের ভুমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি ঞ্জানেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনে যে ম্যাসাকার ঘটেছে সেখানে সিবিআই তদন্ত দল এই ঘটনার পেছনে সিপিআই (এম) এবং পিসিপিএ এর সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ এনেছে- এই উভয় ঘটনার পেছনে পৃথকভাবে হলেও একই ব্যক্তিরা যুক্ত।  

এই ঘটনাগুলো পিসিপিএ এর রিক্রুট করার পরীক্ষণ-নিরীক্ষণের মরাত্মক দুর্বলতার বিষয়টা সামনে নিয়ে এসেছে। সেই সাথে তাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কৌশলের গুরুতর অসাবধানতা এবং আন্দোলন ও আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি হাজির করেছে। তারা শ্বেত সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। মিডিয়ায় সংবাদ সূত্র পিসিপিএ এর মধ্যে সিপিআই (এম) এর আগ্রাসনের বিষয়টি সরাসরি বলছে।

সি পি আই (এম) তাদের অবস্থানকে ঘনীভূত করে তুলেছে- হয় সিপিআই (এম) করো, নতুবা মরো। তারা তাদের চিন্তার ন্যায্যতা দিতে প্রাণপণ মাঠে নেমেছে। সিপিআই (এম) এর হার্মাদ দল তাদের পুরোনো সাম্রাজ্য ফিরে পাবার জন্য প্রচারণার নামে, যৌথ বাহিনীর (কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক) ছত্রছায়ায় নির্বিচারে ধর্ষণ, হত্যা, গুম, দখল, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ করে যাচ্ছে। এই কাজে সহযোগী ভূমিকা পালনের জন্য সিপিআই (এম) শুভানুধ্যায়ী সমর্থকদেরকে পুলিশের চরগিরি করবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পিসিপিএ অধিকৃত এলাকায় সিপিআই (এম) সমর্থকদের পিসিপিএ করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু সবচেয়ে বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে এরা খুবই অভিনব পন্থায় সিপিআই (এম) এর সাথে যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখছে এবং এইসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। যদিও সিপিআই (মাওবাদী) এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে ঘোষণা করেছে। গত ৩২ বছর ধরে সিপিআই (এম) তাদের রাজনেতিক প্রতিপক্ষ কিংবা সন্দেহভাজক সমর্থককে হত্যা করার ব্যাপারে নির্মম কসাই এর ভূমিকা পালন করে আসছে।  তাদের বর্বরতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো নন্দীগ্রাম বা জ্ঞানেশ্বরীর মতো ঘটনাগুলো।

পিসিপিএ অধিকৃত এলাকায় সিপিআই (এম) এর লোকেরা চরগিরি করছে এটা খুবই বাস্তব সত্য। যদিও একটা বড় সংখ্যক মানুষ সিপিআই (এম) সমর্থন করার কারণে হত্যার শিকার হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে মজদুর শ্রেণীর উপস্থিতিও রয়েছে। এসব কার্যকারণ থেকে বলা যায় পিসিপিএ সিপিআই (এম) কে রাজনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করতে পারে নি। বস্তুত জনগণের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কোনো  রাজনৈতিক প্রচারণা খুব কমই চোখে পড়ে। পুলিশকে সাথে নিয়ে দুনীতি, গরীব মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, শোষণ, নির্যাতন, হয়রানি করার মতো ব্যবস্থাকে এককথায় শ্রেণী নিপীড়ন বলা যায় আর কেবলমাত্র ভূমি সংস্কারের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিকভাবে এ বিষয়টাকে প্রতিরোধ করা যায়।

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার হীন কৌশলগুলো সিপিআই (এম) শিখছে, তারা নিজেদের মধ্যে এগুলো বন্টন করছে আর জনগণের মাঝে এ বিষবৃক্ষ অঙ্কুরিত করছে। এই ধরণের একটি ব্যবস্থাকে উৎপাটিত করবার জন্য মানুষের মৌলিক চাহিদা নিয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগ্রাম প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে আন্দোলন বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো কৃষকদের যে জমি দখল করে নিতে এসেছে, তার বিরুদ্ধে হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি দণ্ডকারণ্যে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে মূলত, টেনডু পাতা সংগ্রহের রেট বাড়ানো নিয়ে, দুর্নীতিগ্রস্ত বনরক্ষীদের জোর-জবরদস্তি, তাদের চাষ-জমি বন কর্তৃপক্ষ ও জমিদারদের দখলের কারণে। সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে জনগণ তাদের ভূমি ও বনের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে।       

জঙ্গলমহালের ক্ষেত্রে পুলিশী স্বৈরাচার মানুষকে একত্রিত করেছে বিশেষত আদিবসীদেরকে। কিন্তু আন্দোলন যতো তীব্রতর হয়ে উঠছিলো, কোনোদিক থেকে ভূমি সংস্কারের সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন সামনে হাজির হয়নি। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সিপিআই (এম) নেতাদের জমি পুনর্বন্টনের দাবি উঠেছে। খুদে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভূমি সংস্কারের বিষয়টা এখানে  এতো সহজসাধ্য নয়। যদিও অতিসম্প্রতি মিডিয়ার রিপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে পিসিপিএ সর্বোচ্চ ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা রেখে বাঁকি জমি পুনর্বন্টন করছে, তারপরেও বলা যায় তাদের দিক থেকে ভূমি সংস্কারের ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

 

যুক্তি দেখানো যেতে পারে যে জঙ্গলমহালের ক্ষেত্রেও আন্দোলন শুরু হয়েছিল টেনডু পাতা উত্তোলনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। যাইহোক সেক্ষেত্রে উত্তোলনের রেট বেড়েছিল জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে নয় বরং একদল সশস্ত্র যোদ্ধার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে পুলিশী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ সংগ্রামে শরিক হতে থাকে। কিন্তু এত বিপুল জমির কি হবে এ নিয়ে কোনো কতা ওঠেনি। জনসংগ্রামে, সংগ্রাম ছাড়া শুধু সামরিক শক্তির ব্যবহার খুবই বিতর্কযোগ্য একটি বিষয়।    

এক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে, রাজনৈতিক কর্মসূচীতে- বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হত্যার পন্থার চেয়ে; জনগণের মৌলিক সমস্যা যেমন ভূমি, জল, জঙ্গলের অধিকার, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ধরে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার পন্থা হতে পারে সিপিআই (এম) কে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচী।  
 

  প্রাপ্তিসূত্রঃ ২৭ আগস্ট, ২০১০ সালে সংহতিতে প্রকাশিত দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী লিখিত   চঈচঅ াং ঈচও(গ) রহ ঔধহমধষ গধযধষ: গরংমরারহমং   লেখাটির সংক্ষিপ্ত বাংলা ভাষান্তর। ভাষান্তর ঃ মনোজ দে।


Untitled Document
 
Total Visitor : 708689
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard