Untitled Document
পৌষ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
মুরাদনগরে আমন চাষীদের মন ভালো নেই
- জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
 

প্রকৃতিতে এখন হেমন্ত ঋতু। হেমন্ত মানেই বাঙ্গাঁলীর চোখের সামনে ভেসেওঠা একটি চিরচেনা অপরূপ চিত্র। .......স্নিগ্ধ আকাশ; হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি; মৃদু হিমেল হাওয়ায় প্রতিনিয়ত জানান দিয়ে যাওয়া শীতের আগমনী বার্তা; গ্রাম বাংলার দিগন্ত বিস্তারিত ফসলের মাঠজুড়ে বিছিয়েথাকা সোনালী রংয়ের আমন ধানে যেন সোনালী চাদরে মোড়ানো নয়নাভিরাম দৃশ্য। উৎসবের আমেজ নিয়ে দলবেঁধে কৃষকের ধান কাটা; মাঠে মাঠে কিশোর-কিশোরীদের ধান কুড়ানো আর বাড়ি বাড়ি সারি সারি গরু দিয়ে কিষাণীদের ধান মাড়ানোর দৃশ্য; কৃষকের ঘরে ঘরে  পিঠাপুলি তৈরির আগাম আয়োজন আরও কতো..কি। সব মিলিয়ে গ্রামময় কৃষকের ঘরে ঘরে যেন আনন্দের বান। এ হলো চিরায়ত বাংলার আবহমান কালের চিরচেনা নতুন ধানের নবান্ন উৎসব।
আবহমান কালধরে চিরায়ত বাংলার চিরচেনা সংস্কৃতিতে যেন চিড় ধরেছে এবারের হেমন্তে। এই হেমন্তে আমনের ফলন বিপর্যয়ের কারণে মুরাদনগরের কৃষকের মাঝে ধান কাটার সেই চিরচেনা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। নানা প্রতিকূলতার দরুন এবছর কৃষকরা আমনের আশানুরূপ ফলন পাননি। আমনের অপ্রত্যাশিত ফলন বিপর্যয়ের কৃষকের মনে আনন্দের বদলে ভরে তুলেছে বিষাদে। ফিকে হয়ে গেছে যেখানে নবান্ন উৎসব সেখানে শীতের পিঠা উৎসবের কথা অবান্তর। এ মৌসুমে দর থেকে ফসলের মাঠে সোনালী চাদর বিছানো দৃশ্যের বদলে মাঠজুড়ে দেখাগেছে শুধু সবুজের হাতছানি। সবুজ ঘাসের বুকে সারি সারি গরু-ছাগল, দেখে মনে হবে যেন গোচারণ ভূমি।
মাঠ পর্যায়ের কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এর কারণ হিসেবে নানা প্রতিকূলতা বিশেষ করে বৈরি আবহাওয়া দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, আমন আবাদে বোবোর প্রভাবকে দায়ী করছেন অনেকে।
মুরাদনগর উপজেলার সাহেদাগোপ গ্রামের প্রান্তিক কৃষক শাহজাহান সওদাগর, বা ঐ খার গ্রামের আ: বারেক ব্যাপারী, রাজবাড়ী গ্রামের ধনু মিয়া প্রমুখ কৃষকরা জানান, বর্ষায় জমিতে যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন এবার তা হয়নি। পাশাপাশি শরতের শুরুতে আকস্মিক ঝড়েও আমনের ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া আমন ফলন বিপর্যয়ের উলে¬খযোগ্য কারণ হলো, সঠিক সময়ে আবাদ করতে না পারা। তারা বলেন, বোরোর দাপটে আমনের যথাযথ আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বোরোর কারণে এমনিতেই নির্দিষ্ট সময়ে আমন আবাদ করা সম্ভব হয়না, তার ওপর বোরোর ব-কে সেচ যন্ত্রের মালিকরা বিলম্বে সেচ সরবরাহের কারণে বোরো আবাদই বিলম্বিত হয়। এতে করে বোরো ধান শেষ হতে হতে আমন আবাদের সময়ও অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। এতে করে আমনের চাড়া পূর্ণতা না পেতেই বর্ষার পানি চলে আসে। পানি বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে আমনের ছাড়া বেড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়। আমন বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ এটিও।
কৃষকরা জানান, পূর্বে যেসব জমিতে বিঘাপ্রতি অন্তত: ১০-১২ মণ ধান উৎপাদন হতো চলতি মৌসুমে ওই জমিতে কৃষক ধান পেয়েছে মাত্র ১-২ মণ। অনেক জমি ছিলো ফসল শূন্য। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষক, বোরো ব্লক ও সেচ যন্ত্রের মালিক এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরী।
                                 
     
Untitled Document

মায়াংবা ফুল
Total Visitor : 708717
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :