Untitled Document
পৌষ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে
কালের সাক্ষী নওগাঁর দুবলহাটি রাজবাড়ী
- এস এম নাজমুল হক ইমন
 

অযত্ন অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নওগাঁর ঐতিহাসিক দুবলহাটি রাজবাড়ী। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে নওগাঁ সদর থেকে মাত্র ৫ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক নির্দশনটি। জানা গেছে ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিস এর কাছ থেকে ১৪ লাখ ৪ শত ৯৫ টাকা দিয়ে দুবলহাটি এলাকার রাজত্ব পত্তন নিয়ে রাজ্য পরিচালনা শুরু করেন রাজা কৃষ্ণনাথ। কৃষ্ণনাথ এর কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তাহার কন্যার পুত্র অর্থাৎ তার নাতি রাজা হরনাথ রায় ১৮৫৩ সালের রাজত্বভার গ্রহণ করেন। রাজা হরনাথ রায়ের সময়ে দুবলহাটির রাজ্যের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এসময় তিনি দুবলহাটি রাজ প্রসাদে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, নাট্যশালা নির্মাণ ও প্রজা সাধারণের সুপেয় পানীয় জলের কষ্ট দূরীকরণের জন্য রাজ প্রাসাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনেক পুকুর খনন করেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তি হওয়ার পর রাজা হরনাথ রায়ের পরিবার ভারতে চলে যান। রাজবংশের স্মৃতি স্বরূপ থেকে যায় বিশাল সুরম্য অট্টালিকা দুবলহাটি রাজবাড়ি। পরবর্তীতে এটি সরকারী সম্পদ হিসাবে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ নিজেদের অধীনে নেয়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও অদ্যাবধি তার সুরক্ষা বা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দিনে দিনে রাজবাড়ির মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। এভাবে মূল্যবান দরজা, জানালা, শাল কাঠের তীর লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর এখন দালানের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এ রাজবাড়ীতে এখন গড়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া। বসছে মদ, জুয়া, গাঁজার আড্ডা। এ ব্যাপারে দুবলহাটি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যা জামিলা বিবি জানান, দুবলহাটি রাজবাড়ীটি নির্মাণে ঐতিহ্যের ছোঁয়া রয়েছে। এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংস্কার করা হলে ওই রাজবাড়ীকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। দুবলহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার শাহ বলেন, দুবলহাটি রাজবাড়ী রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা ও জেলা সমন্বয় সভায় বার বার অনুরোধ জানানোর পরও প্রশাসন স্থাপনাটিকে রক্ষার জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে দুবলহাটির এ রাজবাড়ীটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া এলাকার প্রবীন শিক্ষক মেহের আলী বলেন, বাংলাদেশে দ্বুলহাটির নাম যে রাজবাড়ীকে ঘিরে তা আজ কিছু লোকের কারনে ধ্বংস হচ্ছে চোখের সামনে। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ছোটবেলাই এই রাজবাড়ীকে ঘিরেই আমাদের কত মধুর স্মৃতি আছে তা বলার মতো নয়। শুধু মনে হয় এই কি ছিলো, এই কি হলো?

রাজনৈতিক নেতা নিসরুল হামিদ ফুতু বলেন, আমাদের গর্ব করার মতো যে রাজবাড়ীটি ছিলো প্রসাশনের অবহেলা ও কিছু অসাধু লোকের কারনে নষ্ট হয়ে যাবে এটা হতে পারে না। আমি প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারবৃন্দ ও জনসাধারনকে নিয়ে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ এর মাধ্যমে ধ্বংসের হাত থেকে এই রাজবাড়ীটিকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ করছি।
                

   
Untitled Document

মায়াংবা ফুল
Total Visitor : 708954
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :