Untitled Document
পৌষ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
আমি একজন মানুষঃ রণজিৎ বাওয়ালীর জীবনী
- লিঠু মণ্ডল

(পূর্ব প্রকাশের পর)


রনজিৎ বাওয়ালী ১৯৮২ সাল থেকে গান লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম গান-
“ কৃষকের দুঃখ গেল না, শ্রমিকের দুঃখ গেল না
সারাজীবন মরলো খেটে, পেটে ভাত জুটলো না।“

তিনি দেখলেন যে সাধারণ মানুষের কোনো প্রচার মাধ্যম নেই। তাই তিনি তাঁর গানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি তুলে ধরবেন। তিনি বিভিন্ন আসরে বাউল গানও করেছেন। করেছেন কবিগান। তাঁর মনে অনেক বড় একটা ইচ্ছা ছিল যে শেষ বয়সে ছেলের হাতে সংসারের পুরো দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি কবিগান করে বেড়াবেন। আর মানুষের মাঝে চেতনা তৈরির জন্য, তাদেরকে মুক্তচিন্তার অধিকারী করার জন্য বিজ্ঞানমনস্ক কবিগানই তিনি করবেন। কিন্তু ছেলে মারা যাবার পর সংসারের বেড়ি পড়লো তাঁর পায়ে। তা ছিঁড়ে তিনি আর বের হতে পারেননি।  কিন্তু ইচ্ছে যে তাঁর মানুষের কল্যাণে কিছু কাজ করার। তাই খমক ঘাড়ে করে করে গ্রামে গ্রামে ঘোরেন। খমকের ছন্দে ঘুঙুর বাজিয়ে বাজিয়ে নেচে নেচে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্দশা নিয়ে গান করেন।


তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২৫০ টির মতো। তার ভিতর আছে গণসংগীত, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ প্রসঙ্গের গান, বাউল, ভাটিয়ালি, বিচ্ছেদ, ভক্তিগীতি প্রভৃতি। তিনি যেমন তাঁর গানে নিজে সুর দিয়েছেন তেমনি অন্য অনেকেই  তা দিয়েছেন। অনেকেই তাঁর গান করেন। তাদের মধ্যে মশিয়াহাটার বিরাটবাবু ও নওয়াপাড়ার আতিয়ার হোসেন বিভিন্ন মঞ্চে তাঁর গান গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রনজিৎ বাওয়ালীর গানের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বাস্তব জীবন, প্রতিবাদ-সংগ্রাম প্রাধান্য পেয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক এই মানুষটা বিবর্তনবাদের উপর গান রচনা করেছেন। প্রথমদিকে এই গান শুনে লোকজন তাঁকে কটু কথা শোনাতো। কিন্তু কখনোই তিনি তা আমলে দেননি। এসব কিছু অতিক্রম করে তিনি এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে। ফলশ্র“তিতে এখন লোকজন ধৈর্য্য ধরে তাঁর গান শোনে। এ গান তাদের অনেক ভালোও লাগে।      বাস্তবধর্মী সংগ্রামী গান রচনা করার ফলে এলাকার প্রভাবশালীদের কাছ থেকে তিনি অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তারা বাওয়ালীকে ভয় দেখিয়েছে, শাসিয়েছে, গানগুলি না গাওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁর গান সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেছে ভালবাসা দিয়ে। ফলে তিনি তাঁর সাধনায় আরো নিমগ্ন হয়েছেন দিনে দিনে। তাঁর গানের সাথে থাকে হারমোনিয়াম, খোল, প্রেমজুড়ি, দোতরা, বাঁশি প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র । তবে তিনি যখন একা একা গান করেন তখন থাকে খমক আর ঘুঙুর।

তিনি যে সমস্ত অনুষ্ঠানে গান করেছেন তার উদ্যোক্তরা সাধারণত প্রগতিশীল চিন্তাধারার সাথে সম্পৃক্ত লোকজনÑ বিভিন্ন সংগঠন কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী। তাঁর সহযোদ্ধা। এলাকার আরো অনেক শিল্পীকে নিয়ে একসাথে একমঞ্চে তিনি গান করতে ভালবাসেন। স্বপন বাবু, বিকাশ, জীবন তাঁর অন্যতম সহযোদ্ধা গায়ক।

কবিয়াল বিজয় সরকার এবং যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ আরজ আলী মাতুব্বর এর চিন্তা চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন রনজিৎ বাওয়ালী। মশিয়াহাটি ডিগ্রী কলেজ মাঠে বসে একদিন তিনি আরজ আলী মাতুব্বর সম্পর্কে প্রথম শুনতে পান। এরপর তিনি আগ্রহভরে আরজ আলীর লেখালেখি পড়া শুরু করেন।  বই পড়তে গিয়েই আরজ আলীর প্রতি ভাললাগা জন্ম হয়। পরবর্তীতে তিনি তাঁর গানে আরজ আলীর অনেক চিন্তা ভাবনা নিয়ে আসেন। তাঁর সংগ্রামের সহযোদ্ধা যেমন অনেক ঠিক তেমনি গানেরও অনেক শিষ্য তৈরি হয়েছে। তারা তাঁর গান বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশন করেন। আর এভাবেই গণ মানুষের এই সংগ্রামী মানুষটা বেঁচে আছেন, আর বেঁচেও থাকবেন বহুদিন।

( শেষ )

     
Untitled Document

মায়াংবা ফুল
Total Visitor : 708523
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :