Untitled Document
পৌষ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বুদ্ধদেব
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 



আমি যাঁকে অন্তরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলদ্ধি করি আজ এই বৈশাখী পূর্ণিমার তাঁর জন্মোৎসবে আমার প্রণাম দিবেদন করতে এসেছি। এ কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের উপকরণগত আলংকার, নয়, একান্তে নিভৃতে যা তাঁকে বার বার সমর্পণ করেছি সেই অর্ঘ্যই আজ এখানে উৎসর্গ করি।
একদিন বুদ্ধগয়াতে গিয়েছিলাম মন্দিরদর্শনে, সেদিন এই কথা আমার মনে জেগেছিল- যাঁর চরণস্পর্শে বসুন্ধরা একদিন পবিত্র হয়েছিল তিনি যেদনি সশরীরে এই গয়াতে ভ্রমণ করছিলেন, সেদিন কেন আমি জন্মাই নি, সমস্ত শরীর মন দিয়ে প্রত্যক্ষ তাঁর পূণ্যপ্রভাব অনুভব করি নি?
তখনি আবার এই কথা মনে হল যে, বর্তমান কালের পরিধি অতি সংকীর্ণ, সদ্য উৎপক্ষিপ্ত ঘটনার ধূলি-আবর্তে আবিল, এই অল্পপরিসর অস্বচ্ছল কালের মধ্যে মহামানবকে আমরা পরিপূর্ণ করে উপলদ্ধি করতে পারি নে ইতহিাসে বার বার তার প্রমাণ হয়েছে। বুদ্ধদেবের জীবিতকালে; তাঁর মহাত্ম খর্ব করার জন্যে কত মিথ্যা নিন্দার প্রচার হয়েছিল। কত শত লোক যারা ইন্দ্রিয়গতভাবে তাঁকে দূরত্ব অনুভব করতে পারে নি, সাধারণ লোকালয়ের মাঝখানে থেকে তাঁরা অলৌকিকত্ব তাদের মনে প্রতিভাত হবার অবকাশ পায়নি। তাই মনে করি, সেদিনকার প্রত্যক্ষ ধাবমান ঘটনাবলীর অস্পষ্টতার মধ্যে তাঁকে যে দেখি নি সে ভালোই হয়েছে। যাঁরা মাহপুরুষ তাঁরা জন্মুমূহুর্তেই স্থান গ্রহণ করেন, মহাযুগে, চলমান কালের অতীত কালেই তাঁরা বর্তমান, দূরবিস্তীর্ণ ভাবী কালে তাঁরা বিরাজিত। এ কথা সেদিন বুঝেছিলুম সেই মন্দিরেই। দেখলুম, দূর জাপান থেকে সমুদ্র পার হয়ে একজন দরিদ্র মৎসজীবী এসেছে কোনো দুস্কৃতির অনুশোচনা করতে। সায়াহ্ন উত্তীর্ণ হল নির্জন নিঃশব্দ মধ্যরাত্রিতে, সে একাগ্রমনে করজোড়ে আবৃত্তি করতে লাগলঃ আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম। কত শত শতাব্দী হয়ে গেছে, একদা শাক্যরাজপুত্র গভীর রাত্রে মানুষের দুঃখ দূর করার সাধনায় রাজপ্রসাদ ত্যাগ করে বেরিয়েছিরেন; আর সেদনিকার সেই মধ্যরাত্রে জাপান থেকে এল তীর্থযাত্রী গভীর দুঃখে তাঁরই শরন কামনা করে। সেদিন তিনি ঐ পাপরতপ্তের কাছে পৃথিবীর সকল প্রত্যক্ষ বস্তুর চেয়ে প্রত্যক্ষতম, অন্তরতম,; তার জন্মদিনে ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে ঐ মুক্তিকামীর জীবনের মধ্যে। সেদিন সে আপন মানুষ্যত্বের গভীরতম আকাঙ্খার দীপ্তশিখায় সম্মুখে দেখতে পেয়েছে তাঁকে যিনি নরোত্তম। যে বর্তমান কালে ভগবান বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল সেদিন যদি তিনি প্রতাপশালী রাজরূপে, বিজয়ী বীররূপেই প্রকাশ পেতেন, তা হলে তিনি সেই বর্তমানে কালকে অভিভূত করে সহজে সম্মান লাভ করতে পারতেন; কিন্তু সেই প্রচুর সম্মান আপন ক্ষুদ্র কালসীমার মধ্যেই বিলুপ্ত হত। প্রজা বড়ো করে জানত রজাকে, নির্ধন জানত ধনীকে, দুর্বল জানত প্রবলকে- কিন্তু মনুষ্যত্বের পূর্ণতাকে সাধনা করছে যে মানুষ সেই স্বীকার করে, সেই অভ্যর্থনা করে মহামানবকে। মানব-কর্তৃক মহামানবের স্বীকৃতি মহাযুগের ভূমিকায়। তাই আজ ভগবান বুদ্ধকে দেখছি যথাস্থানে মানবমনের মহাসিংহাসনে মহাযোগের বেদীতে, যার মধ্যে অতীত কালের মহৎপ্রকাশ বর্তমানকে অতিক্রম করে চলেছে। আপনার চিদত্তবিকারে আপন চরিত্রের অপূর্ণতায় পীড়িত মানুষ আজর তাঁরই কাছে বলতে আসছেঃ বুদ্ধের শরণ কামনা করি। এই সুদুর কালে প্রসারিত মানবচিত্রের ঘনিষ্ঠ উপলদ্ধিতেই তাঁর যথার্থ আবির্ভাব।



ভগবান বুদ্ধের সার্ধদ্বিসাহস্রিক পরিনির্বাণ- জয়ন্তী- উপলক্ষে

প্রথম প্রকাশঃ বৈশাখী পূর্ণিমা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৬৩
পূণমুর্দ্রণঃ ভাদ্র, ১৩৬৭, মাঘ ১৩৭৯
বৈশাখ ১৩৯২: ১৯০৭ শক

পরিবেশনায়
ন্যাশনাল বুদ্ধিষ্ট ইয়ুথ ফেডারেশন-
বাংলাদেশ।
৫/এ, মগবাজার এপার্টমেন্ট
১২৬, বড় মগ বাজার, ঢাকা।
ফোনঃ ৮৩৬৮৮৭
     
Untitled Document

মায়াংবা ফুল
Total Visitor : 709047
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :