Untitled Document
পৌষ সংখ্যা ১৪১৭
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
মনোলগ
- আফরোজা সোমা

আরবীয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে
আসছে মেঘের দল; মেঘের মাথায়-
হাজার রঙের ছটা; মেঘের মাথায়-
পেখম খোলা একশ ময়ূর নাচে।
কিন্তু পেখম বন্ধ ছিলো পিপাসার্ত তার;
অফিস থেকে বেরিয়ে সে
নামলো পথে একা-

একা একা একা একা
একা একা শহর ঘুরে সে-
সে আর তার চুলের ঝুটি
সে আর তার চটি জুতো
সে আর তার একলা গলার গান;
এসব নিয়ে ঘুরছে শহর, হাঁটছে পথে
জন্মদিনে বন্ধুর ফোনে দিচ্ছে এসএমএস;
একা একাই বলছে কথা
নিজের দিকেই ছূঁড়ছে বিষের তীর
বিষাদ-মনে নিজেই আবার একা
হেসে উঠছে মেঘভাঙা রোদ হয়ে।

এভাবেই তার গল্প চলে,
গল্প চলে- এক পা হেঁটে এগিয়ে গিয়ে
এক পা থেমে থাকার;
থামছে এবং চলছে এবং থামছে এবং
এভাবেই তার চলছে মনোলগ।

মনোলগে বাবা আসে,
মনোলগে মা; মনোলগেই
হারানো সে মুখের আদল
হারিয়ে যাওয়া দিন; হারানো সে
অন্ধবুড়ির রঙীন-গীতি
হারানো সে স্থিতি-

তবু কিচ্ছু হারায় নি তো, আছে-
কিছু গিয়ে কিছু আছে-
সুরা এবং শরীর রাখার স্মৃতি।

তবু কিচ্ছু হারায় নি তো, আছে-
আজকে রাতে অফিস থেকে
পথে নামার পর:
ওরা সবাই সঙ্গী হলো;
মহুয়া দিলো, আদর দিলো,
ঝগড়া হলো, মিটমাট হলো-
চলছে মনোলগ।

মনোলগ তো ভালোই ছিলো,
বৃষ্টি কেনো এলি!
বৃষ্টি ভেজা চুল হলেই যে
সে এসে যায় ঘরে
বৃষ্টি ভেজা বুকের পশম
সে এসে যায় বুকে
বৃষ্টি ভেঁজা চটি-জামা
সে এসে যায় মনে।

মনে মনের আসা-যাওয়া,
পেরিয়ে যাওয়া পুলসিরাতের পুল,
মনে মনেই দোজখে পড়ে কাঁদা
এর কি কোথাও আদি-অন্ত আছে?
চলতে থাকে, চলতে থাকে,
চলতে থাকে অশেষ মনোলগ।

আজকে আমায় মুক্ত করো- ও সোয়ারী মেঘ,
আজকে আমায় মুক্ত করো
বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা প্রেমান্ধ যুগল,
আজকে আমায় মুক্ত করো
না-ঈশ্বরে আস্থা রাখা প্রাণ।

মাটির পুতুল সুখে ছিলো
বোল্ ছিলো না মুখে
নয়ন ঠারে দিলের কথা
পৌঁছে যেতো দিলে।
এই যে আজ বোল্ ফুটেছে
কী বা হলো তাতে?
সে তো এখন ঠার পুছে না
দৃষ্টি ভিঁজে জলে;
জলের এই টাপুর টুপুর
তবু ওহে- নদেয় নেই বান।

আজকে এখন বান ছুটে আয়,
রুদ্র-রোষে ক্ষেপে এসে
ভেঙেচূরে রিক্ত করে
আমায় তবু পূর্ণ করে যা;
ভিড়ের মাঝেও এই মনোলগ!-
থামিয়ে দিয়ে যা।

 

আরবীয় ঘোড়ার সহিস আয়,
আয়, নিয়ে যা, দূরের দেশে-
তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে
ঘাট পেরিয়ে, বন পেরিয়ে,
গাজি-কালু-চম্পাবতীর দেশ ছাড়িয়ে
দূরে কোথাও শূন্যে নিয়ে যা।

শূন্যের ভেতর তুমি-আমি, আলো-আধাঁর নেই;
শূন্যের ভেতর বিশ্বমাতার নাম পরিচয় নেই।

শূন্যস্থানে নতুন করে-
মাটির পুতুল হবে মূর্তিময়
শূন্যস্থানে কুমোর-যুবক
নতুন করে ডলবে মাটি,
আঁকবে দেহের ভাঁজ;
শূন্যস্থানে পিপাসার্ত সেই তরুণটি-
অফিস শেষে পথের বাঁকে
রোদ্র-বাড়ি পাবে, সিঁড়ির গোড়ায়
সন্ধেবেলা বর্ষাঋতু পাবে;
মনোলগে ঘুরে এসে
একদিন এক সন্ধ্যেবেলা
দ্ইু দিকে দুই জোনাক চিঠি উড়িয়ে দিয়ে
শূন্যস্থানে বাক্য রেখে যাবে...

 


Untitled Document

মায়াংবা ফুল
Total Visitor : 708582
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :