Untitled Document
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
গ্লাউবার রউসা'র সাথে সাক্ষাৎকার
গ্যারি ক্রাউডুস, উইলিয়াম স্টার
- ধ্রুপদী থেকে (মুহম্মদ খসরু সম্পাদিত পত্রিকা)



প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রে আপনাদের 'সিনেমা নোভো' (নতুন সিনেমা) আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত ছবি Barren Lives যা ব্রাজিলের সামরিক শাসন চালু হবার আগের তৈরি। এখন কি ব্রাজিলে এরকম আরেকটি ছবি তৈরি করা সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, সম্ভব। কেননা যদিও ব্রাজিলে এখন একটি অত্যন্ত জোরদার শক্তিশালী ও জুলুমবাজ সেন্সর প্রথা চালু রয়েছে তবু তা অতটা দমনমূলক নয়। আমাদের প্রত্যেকটি ছবি নিয়েই সেন্সরের ঝামেলা হয়, কিন্তু শেষমেষ তারা ছাড় পেয়ে যায়, প্রধানত: বাইরের পৃথিবীতে আমাদের সুনাম এবং ফ্রান্স ও ইতালিতে আমাদের ছবির ব্যাপক চাহিদার জন্য। ফলে যদিও সেন্সর প্রথা ক্রমশ আরও খারাপ হচ্ছে আমরা তা থেকে উদ্ধার পেতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সাম্প্রতিক প্রায় সব ক'টি ছবিই অত্যন্ত রাজনৈতিক এবং অনেকটা 'Barren Lives' ঘরানারই। সবাই জানেন আমাদের এই 'সিনেমা নোভো' আন্দোলনের জন্ম ১৯৬২ সালে 'Barren Lives' এর মাধ্যমেই। তখন আমাদের দলে মাত্র এগার জন পরিচালক ছিলেন, এখন তা তিরিশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং প্রত্যেকেরই স্টাইলের তফাৎ সত্বেও রাজনৈতিক আদর্শ এক।
প্রশ্ন: আপনাদের দলে কি কোনো সহকারী পরিচালক নেই?
উত্তর: অবশ্যই আছে, তাদের সংখ্যাও প্রায় তিন শ থেকে চার শ। তবে তাদের অনেকেই পরে বাণিজ্যিক ছবির জগতে চলে গেছেন যদিও এখনও তারা 'সিনেমা নোভো'র নাম ব্যাবহার করেন। ফলে এখন ব্রাজিলে 'সিনেমা নোভো' নিয়ে বেশ ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এই অনুকরণটুকু স্বাভাবিক কেননা ব্রাজিলীয়ান চলচ্চিত্রের বিকাশের মূলে আমাদের সিনেমা নোভো আন্দোলন। যেমন ধরুন, ১৯৬২ সালে ব্রাজিলে মাত্র তিরিশটি ছবি তৈরি হয়েছিল আর এ বছহর সেখানে ছবি হয়েছে একশ চারটি। এটা সত্য যে, এগুলোর মধ্যে বেশ কিছহি খারাপ ছবি আছে তবু ব্রাজিলের একটি নিজস্ব চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে উঠছে, সে বিষয়টাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় 'সিনেমা নোভো' সমসাময়িক ব্রাজিলিয়ান চলচ্চিত্রকারদের কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছে? আঙ্গিকগত অর্থে কিংবা রাজনৈতিকভাবে?
উত্তর: ঠিক রাজনৈতিক অর্থে হয়তো ততটা নয় তবে তা নানা রকম কারিগরি চলচ্চিত্রের ভাষাগত বিষয়ে নতুন চিন্তাভাবনার জন্ম দিয়েছে যা সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্র শিল্পকে প্রভাবিত করে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের ছবির মান ছিল খুবই খারাপ। ক্যামেরা, সম্পাদনা, শব্দ সংযোজনা সবই এবং তাদের গল্প ছিলো হুবহু মার্কিন ছবির নকল, অথচ আজকের চলচ্চিত্রের কারিগরি মান অনেক উন্নত। এর মধ্যে অনেক প্রতিক্রিয়াশীল ছবি তৈরি হচ্ছে ঠিকই তবে তা ব্রাজিলের জনগণকে নিয়েই। এটাও একটা ছোটখাটো বিপ্লব এবং তা মার্কিন ছবির নকলবিশি করার চেয়ে অনেক ভালো।
প্রশ্ন: আপনার 'Antonio Das Mortes' ছবিটিকে প্রায়ই অপেরার ভাবধারার ছবি বলে চিহ্নিত করা হয়। আপনার কি অপেরা বিষয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল?
উত্তর: না, নাটক কিংবা অপেরার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না আমার। তবে আমি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সমস্ত ছবিই অপেরার ধারায় করতে চেয়েছি। আমি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম হিসেবে নাট্যকলায় আগ্রহী নই, আমার আগ্রহ চলচ্চিত্রিক নাট্যকলায়, বলতে পারেন নাটক বিষয়ে এ এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। আমি চলচ্চিত্রের প্রকাশভঙ্গি হিসেবে সংগীতেও খুব আগ্রহী।
প্রশ্ন: আপনি যখন ছবি করেন তখন কি আপনার মনে বিশেষ কোনো দর্শক শ্রেণীর চিন্তা থাকে?
উত্তর: না। বরং আমার সমস্ত ছবিই তৈরি হয় জনসাধারনের ভোগের জন্য। আমার ছবির উৎপত্তি গণসংস্কৃতি থেকে এবং তার থেকে পরিণতিও তাই। আফ্রিকা ও অন্যান্য তৃতীয়-বিশ্বের অত্যন্ত জনপ্রিয় বুর্জোয়া রাষ্ট্রের দর্শকদের যদি সে-সব ছবি বুঝতে কষ্ট হয় তা হলে তার কারণ তারা গণসংস্কৃতির মর্মই বোঝে না। আমার মনে হয় আমার ছবি সব ধরনের দর্শকদের জন্য। আমার অবস্থান সাধারণ মানুষের বিপক্ষে নয় কিন্তু মুশকিল হল আমি বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করি না। কিন্তু ঠিকঠাক পরিবেশিত হলে সব ধরনের লোকই আমার ছবি দেখে থাকেন।
প্রশ্ন: আপনি যখন ছবি করেন তখন আন্তুর্জাতিক দর্শকের চিন্তা কি আপনার মাথায় থাকে?
উত্তর: হ্যাঁ থাকে। আমি মনে করি চলচ্চিত্রের ভাষা আন্তুর্জাতিক। এবং আমি যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের লোক তাই আমি তৃতীয় বিশ্বের ছবিই করি। 'আন্তোনিয়ো' যদি আমেরিকান কিংবা জাপানি ছবি হত তা হলে সেটা হয়তো হতো ওয়েস্টার্ণ কিংবা সামুরাই ঘরানার ছবি।
প্রশ্ন: আপনার নিশ্চয়ই বাইরের পৃথিবীকে প্রভাবিত করার ইচ্ছা আছে, বিশেষত আপনার সব ছবিই যখন রাজনৈতিক ও প্রপাগান্ডামূলক।
উত্তর: আমার ছবি অবশ্যই প্রপাগান্ডামূলক নয়। আমি অনুন্নত দেশগুলোর রাজনৈতিক সঙ্কট উন্মোচনের চেষ্টা করি, তার মানেই এই নয় যে আমার ছবিগুলো প্রপাগান্ডা ছবি।
প্রশ্ন: 'সিনেমা নোভো' পরিবেশন পদ্ধতিটা ঠিক কীরকম?
উত্তর: একটি বড় পরিবেশনা সংস্থা আমাদের সব ছবি পাবলিক হলগুলোতে এবং ফিল্মসোসাইটির ১৬ মিঃমিঃ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দেখানোর ব্যবস্থা করে। আমার 'আন্তোনিয়ো' ছবিটি রিও ডি জেনিরো-র নয়টি এবং সাও পাওলোর চারটি ছবিঘরে একযোগে মুক্তি পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারিসে সাধারনত এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারগুলোতেই আমাদের ছবিগুলো চলে। এতে করে সঠিক পরিবেশে আমাদের ছবিগুলো দেখানো হচ্ছে, তবে তা সীমিত দর্শকদের মধ্যে। সমস্যা তাই আমাদের ছবির দুর্বোধ্যতা নয়, ব্যাপক দর্শকদের মধ্যে ঠিকমতো পরিবেশিত না হওয়া।
প্রশ্ন: তা হলে আপনার কাছে দর্শকের যোগ্যতার চাইতে তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারটাই বেশি জরুরী।
উত্তর: হ্যাঁ, কেননা আমার মতে সাধারণ দর্শক খুবই বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল। সমস্যা হল, এই দর্শক প্রচারযন্ত্রের শিকার এবং পরিবেশক গোষ্ঠির ইচ্ছাধীন, তাদের নিজেদের মনমতো ছবি বেছে নেবার কোনো অধিকার নেই। কেননা এই পরিবেশন পদ্ধতিটা মোটেও গণতান্ত্রিক নয়। এটা এক ধরনের ফ্যাসিস্ট সংগঠন, কেননা তা দর্শকদের ওপর তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। দর্শদের প্রচন্ড সংবেদনশীলতা সত্বেও বিজ্ঞাপনের জোরে তারা এক বিশেষ ধরনের ছবি পছন্দ করতে শুরু করে তাদের অজান্তেই, এটা ইউরোপ আমেরিকায় যেমন সত্য তেমন সত্য ব্রাজিলেও। যেমন ধরুন লাতিন আমেরিকার জনগণ এক ধরনের হলিউডি উপনিবেশের শিকার । হলিউডের এই প্রভাবটুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, এটা কোনো নান্দনিক শিক্ষা নয়, ঔপনিবেশিক শিক্ষার ফলে এক ধরনের বিশেষ মনস্তাত্বিক বিকলনও বটে।

(চলবে)

     
Untitled Document

ফিবোনাক্কির কেরামতি
Total Visitor: 709951
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :