Untitled Document
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
বুদ্ধদেব
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর



(পুর্ব প্রকাশের পর)


তপো চ ব্রহ্মচরিয়ঞ্চ অরিয়সচচান দসস ন কম্পতি
নিব্বানসচ্ছিকিরিয়া এতং মঙ্গলমুত্তমং।
তপস্যা, ব্রহ্মচর্য, শ্রেষ্ঠ সত্যকে জানা, মুক্তিলাভের উপযুক্ত সৎকার্য -এই উত্তম মঙ্গল।

ফুটঠসস লোকধম্মোহি চিত্তং যসস ন কম্পতি
অসোকং বিরজং খেমং এতং মঙ্গলমুত্তমং।
লাভ ক্ষতি নিন্দা প্রশংসা প্রভৃতি লোকধর্মের দ্বারা আঘাত পেলেও যার চিত্ত কম্পিত হয় না যার শোক নেই, মলিনতা নেই, যার ভয় নেই- সেই উত্তম মঙ্গল পেয়েছে।

এতাদিশানি কত্বান সব্বত্থমপরাজিতা
সব্বত্থ সোত্থি গচ্ছন্তি তং তেসং মঙ্গল্মুত্তমন্তি।
এইরকম যারা করেছে তারা সর্বত্র অপরাজিত, তারা সর্বত্র স্বস্তি লাভ করে, তাদের উত্তম মঙ্গল হয়।
যারা বলে ধর্মনীতিই বৌদ্ধধর্মের চরম তারা ঠিক কথা বলে না। মঙ্গল একটা উপায় মাত্র। তবে নির্বাণি চরম? তা হতে পারে, কিন্তু সেই নির্বাণটি কী? সে কী শূণ্যতা?
যদি শূন্যতাই হত তবে পূর্ণতার দ্বারা তাতে গিয়ে পৌঁছনো যেত না। তবে কেবলই সমস্তকে অস্বীকার করতে করতে, 'নয় নয় নয়' বলতে বলতে, একটার পর একটা ত্যাগ করতে করতেই, সেই সর্বশূণ্যতার মধ্যে নির্বাপণ লাভ করা যেত।
কিন্তু, বৌদ্ধধর্মে সে পথের ঠিক উলটা পথ দেখি যে। তাতে কেবল তো মঙ্গল দেখছি নে, ম্মঙ্গলের চেয়েও বড়ো জিনিসটি দেখছি যে।
মঙ্গলের মধ্যেও একটা প্রয়োজনের ভাব আছে। অর্থাৎ, তাতে একটা কোনো ভালো উদ্দেশ্য সাধন করে, কোনো-একটা সুখ হয় বা সুযোগ হয়।
কিন্তু, প্রেম যে সকল প্রয়োজনের বড়ো। কারণ, প্রেম হচ্ছে স্বতই আনন্দ, স্বতই পূর্ণতা; সে কিছুই নেওয়ার অপেক্ষা করে না, সে যে কেবলই দেওয়া।
যে দেওয়ার মধ্যে কোনো নেওয়ার সম্মন্ধ নেই সেইটেই হচ্ছে শেষের কথা, সেইটেই ব্রহ্মের স্বরূপ- তিনি নেন না।
এই প্রেমের ভাবে, এই আদানবিহীন প্রদানের ভাবে আত্মাকে ক্রমশ পরিপূর্ণ করে তোলবার জন্যে বুদ্ধদেবের উপদেশ আছে, তিনি তার সাধনপ্রণালীও বলে দিয়েছেন।
এ তো বাসনা সংহরণের প্রণালী, এ তো বিশ্ব হতে বিমুখ হবার প্রণালী নয়, এ যে সকলের অভিমুখে আত্মাকে ব্যাপ্ত করবার পদ্ধতি। এই প্রণালীর নাম 'মেত্তিভাবনা'- মৈত্রীভাবনা।
প্রতিদিন এই কথা ভাবতে হবে: সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্ত, অবেরা হোন্ত, অব্যাপজঝা হোন্ত, সুখী অত্তানং পরিহরন্ত, সব্বে সত্তা মা যথালব্ধসম্পত্তিতো বিগচ্ছন্ত।
সকল প্রাণী সুখিত হোক, শত্রুহীন হোক, অহিংসিত হোক, সুখী আত্মা হয়ে কালহরণ করুক। সকল প্রাণী আপন যথালব্ধ সম্পত্তি হতে বঞ্চিত না হোক।
মনে ক্রোধ দ্বেষ লোভ ঈর্ষা থাকলে এই মৈত্রীভাবনা সত্য হয় না, এইজন্য শীলগ্রহণ শীলসাধন প্রয়োজন। কিন্তু, শীলসাধনার পরিনাম হচ্ছে সর্বত্র মৈত্রীকে দয়াকে বাধাহীন করে বিস্তার। এই উপায়েই আত্মাকে সকলের মধ্যে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।
এই মৈত্রীভাবনার দ্বারা আত্মাকে সকলের মধ্যে প্রসারিত করা, এ তো শূন্যতার পন্থা নয়।
তা যে নয় তা বুদ্ধ যাকে ব্রহ্মবিহার বলছেন তা অনুশীলন করলেই বোঝা যাবে।

করণীয় মত্থ কুসলেন
যন্তং সন্তং পদং অভিসমেচচ
সক্কো উজূ চ সুহুজু চ
সুবচো চসস মৃদু অনতিমানী।
শান্তপদ লাভ করে পরমার্থকুশল ব্যক্তির যা করণীয় তা এই- তিনি শক্তিমান, সরল, অতি সরল, সুভাষী, মৃদু, নম্র, এবং অনভিমানী হবেন।

সন্তসসকো চ সুভরো চ,
অপ্পকিচচো চ সল্লহুকবুত্তি
সন্তিন্দ্রিয়ো চ নিপকো চ
অপ্পগবভো কুলেসু অননুগিদ্ধো।
তিনি সন্তুষ্টহৃদয় হবেন, অল্পেই তাঁর ভরণ হবে; তিনি নিরুদবেগ, অল্পভোজী, শান্তেন্দ্রিয়, সদবিবেচক, অপ্রগলভ এবং সংসারে অনাসক্ত হবেন।

ন চ খুদ্দং সমাচারে কিঞ্চি
যেন বিঞঞুপরে উপবদ্যেয্যুং।
সুখিনো বা খেমিনো বা
সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতত্তা।
এমন ক্ষুদ্র অন্যায়ও কিছু আচরণ করবেন না যার জন্যে অন্যে তাকেঁ নিন্দা করতে পারে। তিনি কামনা করবেন প্রাণী সুখী হোক, নিরাপদ হোক, সুস্থ হোক।

যে কোচি পাণভূতত্থি
তসা বা থাবরা বা অনবসেসো।
দীঘা বা যে মহন্তা বা
মজিমা রসসকা অণুকথূলা।
দিটঠা বা যে চ অদিটঠা
যে চ দূরে বসন্তি অবিদূরে।
ভূতা বা সম্ভবেসী বা
সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিসত্তা।
যে কোনো প্রাণী আছে, কী সবল কী দুর্বল, কী দীর্ঘ কী প্রকান্ড, কী মধ্যম কী হ্রস্ব, কী সূক্ষ কী স্থুল, কী দৃষ্ট কী অদৃষ্ট, যারা দূরে বাস করচে বা যারা নিকটে, যারা জন্মেছে বা যারা জন্মাবে, অনবশেষে সকলেই সুখী-আত্মা হোক।


(চলবে)






ভগবান বুদ্ধের সার্ধদ্বিসাহস্রিক পরিনির্বাণ- জয়ন্তী- উপলক্ষে

প্রথম প্রকাশঃ বৈশাখী পূর্ণিমা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৬৩
পূণমুর্দ্রণঃ ভাদ্র, ১৩৬৭, মাঘ ১৩৭৯
বৈশাখ ১৩৯২: ১৯০৭ শক

পরিবেশনায়
ন্যাশনাল বুদ্ধিষ্ট ইয়ুথ ফেডারেশন-
বাংলাদেশ।
৫/এ, মগবাজার এপার্টমেন্ট
১২৬, বড় মগ বাজার, ঢাকা।
ফোনঃ ৮৩৬৮৮৭

     
Untitled Document

ফিবোনাক্কির কেরামতি
Total Visitor: 708666
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :