Untitled Document
আষাঢ় সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
কাজলদা’র জন্য এপিটাফ
- বিপ্লব বিপ্রদাস


বনি’র ঘোর কাটেনা, বিস্ময়ও না। “দাদা তুই কাজলদাকে চিনিস” ? আমি বলি “হুঁম্”। আমি ভিতরে ভিতরে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ি! আসলেই কী কাজলদাকে চিনি? বোধের গভীরে যেয়ে যে মানুষটি মিটি মিটি হাসে, তাকে কতটুকু চেনা যায় ! কাজলদার চোখগুলো মনে পড়ে। বড় বড় রহস্যময় আর সংবেদনশীল চোখ। খুলনা আর্ট কলেজে আমার অপরাপর বড় ভাইদের মতো সে নয়। সব সময় প্রসন্ন মন নিয়ে আমাদের সাথে মিশতো। কাজলদা পাশে দাঁড়ালে মনে হতো- নিকট কোন আত্মীয় কাছে আছে। ভালো লাগতো। সে আবেশটাকেই মনে পড়ে আমার। বনি আমার আরো কাছে এসে বলে “দাদা, তুই সত্যিকারের দাদা হয়ে গেলি!” আমার অস্তিত্বের ভিতর বনি খানিকটা কাজলদাকে পেয়ে যায়। বনিও আমার বোন হয়ে ওঠে মুহুর্তে। বলি “ তোদের নড়ালটা(নড়াইল) বড় ভালো রে !“ তারপর আমরা চিত্রা নদীতে ভাসতে থাকি মনে মনে। ও নদীর জল বড় বেশি ঘ্রাণযুক্ত,শান্ত, স্বচ্ছ- ঠিক কাজল দাদার মতো। আমার বোন খলখলিয়ে হেসে ওঠে। আমি বলি,“হাসছিস কেনো ?” “কিছুনা এমনিই” ওর হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। আমি বুঝে ফেলি কাজলদার স্মৃতির মধ্যে ডুবে গেছে ও। আমিও কী নই?

এস,এম, সুলতানের জন্মদিনে নড়াইলে যেয়ে কাজলদাকে খুঁিজ। কোথায় কাজলদা! কোথায় কাজলদা! জমিদার বাড়ির কালি মন্দিরের চাতালে কাজলদাকে পেয়ে যাই। আর্ট কলেজে যাচ্ছেনা কেন অনেকদিন,এটা জিজ্ঞেস করতে ভুলে যাই। কাজলদার হাতে কয়লা দিয়ে করা কয়েকটা ড্রইং। কী বলবো দাদাকে! অনেক কিছুইতো বলার আছে। অনেক অভিমান আছে আমার। কাজলদাকে কিছুই বলা হয়না। কাজলদা আমাকে দেখে একটু হাসলো, আমিও একটু। এইটুকুতেই সমস্ত কথারা পরিত্রান পেয়ে বোবা হয়ে যায়। বনিকে বলি “তুই কিভাবে চিনতিস দাদাকে?” ওর উত্তর “ দাদা আমাকে ছবি আঁকা শেখাতো”। বনির শিশু মনে কাজলদার ছাপ পড়েছিল সেই কবে! সেই ছাপ ওর একগন্ডা বাচ্চা-কাচ্চা হলেও সরবে না। কাজলদার কথা মনে হলেই ও পুনঃ পুনঃ শিশু হয়ে যাবে। কাজলদার কথা মনে হলেই আমি কৈশোর পেরোনো ছেলেটাই রয়ে যাবো আমি। কাজলদার আর বয়স বাড়বেনা। ওঁর কথা মনে হলে আমারও না। বনির সাথে ঘাস, প্রজাপতি, ভিক্টোরিয়া কলেজ, নিশিনাথ তলা প্রসঙ্গে কথা হয় ! জবাফুল, ডোঙ্গা, ডিম ও পাখির কথা হয় ! তারপর আমি বলি “ভালো থাকিস”। ও বলে “ভালো থাকিস”। কিন্তু আমরা দুজনেই জানি সমস্ত প্রসঙ্গের সমান্তরালে কাজলদা থাকে আমাদের মধ্যে। নড়াইল ও বাগেরহাট দুটো ভিন্ন ভুমিতে ভিন্ন আদলে জন্ম নেয়া আমরা দুই ভাই বোন নিরবেও কথা বলে যেতে থাকি কাজলদা বিষয়ে। একই রকম আবেগে আমরা ভাসি চিত্রায়। একই শিশু-দক্ষতায় আমরা দৌড়াতে পারি মাঠে ও ধানক্ষেতের আলপথে। কেননা কজলদা তো আছেই হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ! এক এক মানুষ আছে, শুধু সম্মোহন করে সুন্দরের ইশারায় ! কাজলদা বলতো, “সত্য, শিব, সুন্দর” ! সেইসব সুন্দর উৎপ্রেক্ষাগুলো নিয়ে বনিকে বলি “ বসতো এখানে, তোর কানে কানে একটা মন্ত্র বলি, সত্য-শিব-সুন্দর”!
     
Untitled Document

কড়াইশুঁটির বিস্ময়
Total Visitor: 708405
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :