Untitled Document
আষাঢ় সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
অপরুপ সৌন্দার্যের বেলা ভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত
- মো. নুরুজ্জামান মামুন


পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার একে বারে দক্ষিণে দিগন্ত বিসারী বঙ্গোপ সাগরের কূলে নিরিবিলি বিশ্বখ্যাত সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা । কুয়াকাটার উত্তরে রাখাইন অধ্যুষিত জনপদ , দক্ষিনে অনন্তহীন সমুদ্র , পূর্বে আর এক প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের বেলাভূমি গংঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল , পশ্চিমে কুয়াকাটা বনভূমি । এই সীমা পরিবেষ্টিত কুয়াকাটা চিত্তমনোহরী অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের অনুপম লীলা ভূমি । ১৮ কিলোমিটার সুবিস্তৃত কুয়াকাটা সৈকতের বুকে দাঁড়িয়ে ভোরের রক্তিম সূর্য উদায় ও দিনের শেষে অস্তগামী সূর্য দেখার মনোরম দৃশ্য পৃথিবীতে বিরল । শাল , সেগুন আর নারিকেল বিথীর প্রানবন্ত হাতছানি পর্যাটকদের হৃদয়কেড়ে নেয় মুহুর্তের মধ্যে। এছাড়াও কুয়াকাটায় রয়েছে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি , বৌদ্ব মন্দিরসহ ফাতরার বনের নিবিড় হাত ছানি। এসব নৈস্বর্গিক দৃশ্য অবলোকনে প্রতিবছর অগনিত পর্যাটক কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসে । সরকারি ও বেসরকারি উদ্দেগে নানা উন্নায়নের ছোয়ায় বদলে গেছে কুয়াকাটার রুপ । বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নায়ন ও উন্নত আবাসিক হোটেল মোটেল গড়ে উঠায় পর্যাটকদের পূর্বের ন্যায় এখন আর ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে না । ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্ভর তারিখে লতাচাপলি ইউনিয়নের লতাচাপলি মৌজার কুয়াকাটা , কেরানি পাড়া , পশ্চিম কুয়াকাটা , হাচন পাড়া ও নবিনপাড়া নিয়ে কুয়াকাটা পৌর এলাকা গঠন করা হয়েছে । পর্যাটকদের নিরাপত্তার জন্য নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও বিস এলাকায় রয়েছে সার্বক্ষনিক পুলিশ টহল ।

কুয়াকাটার নামকরণঃ স্থান বিশেষ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের প্রস্থ ৩ থেকে ৩.৫ কিলোমিটার । 'কুয়াকাটা ' নামকরনের ইতিহাস খুজঁলে পাওয়া যাবে সেই দূর অতীতে ( ১৭৮৪ সালে ) তৎকালীন র্বমী রাজা "বোদোফায়া " রাখাইনদের আবাস ভূমি 'আরকান ' ( বর্তমান মিয়ানমার , প্রাচিন ' রাখইন-প্রে ' ) দখল ও তাদের কে নির্মমভাবে নিধন করতে শুরু করলে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বহু রাখাইন মাতৃভূমি ত্যাগ করে ছড়িয়ে পড়ে ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে । এদের একাংশ নৌকা যোগে সোজা পশ্চিম দিকে তরঙ্গ বিক্ষুদ্ব উত্তাল বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে এসে অবতরন করে চট্টগ্রামে । সেখান থেকে একটি অংশ গলাচিপা উপজেলার রাঙ্গাবালী দ্বিপে আসে এবং আস্তে আস্তে তারা কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসতি স্থাপন করে । লোনা সমুদ্র তীরে বসতি স্থাপন করলেও তাদের ছিলনা সুপেয় পানির সংস্থান । ফলে সুপেয় জল পাওয়ার আশায় তারা প্রথমে এখানে দু'টি অগভীর কূপ খনন করে । আর একূপ খনন বা স্থানীয় ভাষায় ' কুয়া' 'কাটা' থেকে স্থানটির নাম হয় 'কুয়াকাটা ' । পরবর্তিতে ধীরে ধীরে এনামে দেশ বিদেশে প্রসিদ্বি লাভ করে কুয়াকাটা ।

যোগাযোগঃ রাজধানী ঢাকা থেকে বা দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কু্য়াকাটায় আগমনের রয়েছে একাধীক যোগাযোগ ব্যবস্থা । ঢাকা থেকে বিমানে বরিশাল অথবা সড়ক, লঞ্চ পথে ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে বরিশাল , বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে সড়ক পথে বরিশাল -কুয়াকাটা গেটলক বাস সার্ভিসে সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায় । আবার ঢাকা থেকে দ্বিতল লঞ্চ যোগে পটুয়াখালী সেখান থেকে বাস যোগে কুয়াকাটা যাওয়া যায় ।। পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে সড়ক পথে কুয়াকাটার দূরত্ব ৭২ কিলোমিটার । এছাড়াও ঢাকা সায়েদাবাদ , গাবতলী থেকে পরিবহনের গাড়িতে সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায় ।

আবাসনঃ কুয়াকাটায় রাত্রি যাপনের জন্য পর্যাটন কর্পোরেশনের হোটেল , জেলা পরিষদের বাংলোসহ ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক হোটেল -মোটেল । এখানে থাকার সাথে সাথে রয়েছে খাবারের সুব্যবস্থা ।

কুয়াকাটার দর্শ্যনীয় স্থান : কুয়াকাটায় শুধু সমুদ্র সৈকত আর বালিয়াড়ি নেই আছে আদিবাসী রাখাইনদের শত বছরের বৌদ্ধ মন্দির , কৃষ্টি , জীবন যাত্রা , মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুরের জেলেদের জীবন গাঁথা ও রুপালি ইলিশ শিকারের পশরা , গঙ্গামতির সমুদ্র ঘেরা বন ভূমি ও ফাতরার বনের নান্দনীক দৃশ্য যা দ্বিতীয় সুন্দর বন নামে পরিচিত ।

চরগঙ্গামতিঃ কুয়াকাটার মূল ভূখন্ডের পূর্বদিকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যাটক আকর্ষনের আর একটি লোভনীয় স্থান চর গঙ্গামতি। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্য উদায় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায় । এখানে একবার ভ্রমনে আসলে গঙ্গামতির লেকের স্বচ্ছ জলাধার , যার একতীরে ক্রমশ ঢালু হয়ে সাগরের বুকে নেমে যাওয়া ভাঁজপড়া বালিয়াড়ি আর অন্যতীরের সমতলভুমি পেরিয়ে বিস্তির্ন বনের মনোলোভা দৃশ্য সহযে ভোলা যায় না। এখানে কেওড়া , গেওয়া , ছৈলা , খৈয়া , ইত্যাদি হরেক রকমের গাছগাছালি ছাড়াও আছে বুনোশুয়োর , বন মোরগ , আর বানরের কিচির মিচির শব্দ । এছাড়াও এর কাছেই রয়েছে রাখাইনদের বৌলতলীপাড়া । এই পাড়ায় রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনা । যা আজও এখানকার স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শোনা যায় । মুন্সিগঞ্জের সাপুড়ে সরদার আবদুল আলী গারুলী রাতে স্বপ্নে দেখেন যে , বৌলতলী পাড়ার পশ্চিম পাশে ৩'শ ৬০ টি বাঁশের ঝাড়ের নিচে একটি সাপ রয়েছে । স্বপ্নে বলে দেয় ওই সাপ ধরার আগে দু'টি পাঠা (ছাগল) পুঁজো করে নিতে হবে । আব্দুল আলী গারুলী স্বপ্নের কথা না মেনে সাপ ধরতে যায় । সাপ স্পর্শ করার সাথে সাথে সাপটি ঐ বাঁশের ঝাড়ের সাথে পেচিয়ে রাখে তাকে। সাপটি যে গর্তে ছিল তা আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে । গঙ্গামতি যেতে হলে কলাপাড়া পৌরশহর থেকে কলাপাড়া- কুয়াকাটা বিকল্প সড়ক দিয়ে বালিয়াতলীর একটি মাত্র ফেরি পাড় হয়ে ২৬ কিলোমিটার দুরত্ব । বর্তমানে ঐ সড়কের উপর দু'ট ব্রিজ নির্মান কাজ শেষ পর্যায় রয়েছে । নির্মান কাজ শেষে হলে বাস, মাইক্রো, প্রাইভেট কার নিয়ে সরাসরি গঙ্গামতি সমুদ্র বেলাভূমিতে পৌছা যাবে । তাছাড়া কুয়াকাটা হতে পূর্বদিকের বেড়িবাধেঁর উপরদিয়ে গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায় ।

রাখাইন পল্লীঃ কলাপাড়া উপজেলার পর্যাটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সাথে পর্যাটকদের জন্য রয়েছে বারতি আকর্ষন আদিবাসী রাখাইনদের স্থাপত্য নিদর্শন । এসব স্থাপত্য নিদর্শন পর্যাটকদের হৃদয় কেড়ে নেয় । সৈকতের কোল ঘেসেই উপজাতি রাখাইন সমপ্রদায়ের কেরানীপাড়া। এখানে আছে শত বছরের পুরানো সীমা বৈদ্ধ মন্দির। কুয়াকাটা বেড়িবাধেঁর পাশে খানিকটা উচুঁ টিলার উপর এর অবস্থান। জুতা খুলে ঢুকতে হয় মন্দিরে । মন্দিরের ভিতরে স্থাপিত রয়েছে নবম ধাতুর তৈরি সাড়ে ৩৭ মন ওজনের ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ দেবের মূর্তি।

জানা গেছে , মন্দিরের নির্মান সৌন্দর্য চীনের স্থাপত্য অনুসরন করা হয়েছে। দেখে মনে হবে থাইল্যন্ড বা মিয়ানমারের কোন মন্দির । মন্দিরের ভিতরের ভাব গম্ভীর পরিবেশ । বেদির সামনে জ্বলছে আগরবাতি আর মোমবাতি । এর পাশে ত্রিপীঠক সহ অন্যান্য উপাসনার সামগ্রী বেদির উপর সাজানো রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন ফুঁট উচুঁ বেদির উপর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে । বৈদ্য ধর্মের আড়াই হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮৩ বছর পূর্বে এ নবম ধাতুর মূর্তিটি ওই স্থানে স্থাপন করা হয় । পৌনে ৭ ফুঁট উচ্চতার এ বৈদ্ধ মূর্তিটি স্থাপন করেন উপেংইয়া ভিক্ষু । মন্দিরের পাশেই চীনা স্থাপত্যের অনুকরনে নির্মান করা হয়েছে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার। সেখানে বসে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্ম সভা করে । মন্দিরের একটু পাশেই রয়েছে কুয়াকাটার সেই ঐতিহ্যবাহী কুয়া বা ইন্দিরা। এ কুয়া থেকেই আজকের কুয়াকাটার পরিচিতি । উপজাতি রাখাইন সমপ্রদায়ের লোকজন চারিদিক বাঁধানো পুরানো এ কুয়ার পানি ব্যবহার করে।

কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে আর একটি উপজাতি রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি মিস্ত্রিপাড়া। এ পাড়ায় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদ্ধ মূর্তি রয়েছে । এ মূর্তিটির উচ্চতা ৩৫ ফুট । এ মন্দিরের সামনেই সিমেন্ট দিয়ে দু'টি বাঘ তৈরি করা আছে । দেখে মনে হয় যেন জীবন্ত দুটি বাঘ মন্দিরকে পাহাড়া দিচ্ছে।

কুয়াকাটা যাওয়ার পথেই সবচেয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঘন বসতি আমখোলাপাড়া নজর পড়বে। এটিও একটি চমৎকার বৈদ্ধ বিহার। এখানেও ছোট বড় মিলিয়ে ১৬/১৭ টি বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। এ পাড়ায় শতাধিক রাখাইন পরিবার বসবাস করছে। উপজাতি রাখাইনদের জীবনযাত্রা দেখতে হলে এ পাড়াটিই হচ্ছে আর্দশ পাড়া । এ পাড়ায় রাখাইন নারীদের তাঁত বুনুন , পিঠা তৈরি সহ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি-কৃষ্টি সম্পর্কে জানা যায়।

রাখাইন সমপ্রদায় দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার আদিবাসী । আদিবাসী রাখাইন সমপ্রদায়ের লোকজনই এ জনপদে প্রথম বসতি স্থপন গড়ে তোলে । সমুদ্র উপকূলবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া ,কুয়াকাটা ,রাঙ্গাবালি ,পাশ্ববর্তী জেলা বরগুনার তালতলী এলাকায় প্রথম বসতি গড়েছিল । তার আগে এলাকাটি ছিল দুর্গম গভীর বনজঙ্গলে ঘেরা সুন্দর বনের পূর্ব অংশ । ওই জঙ্গলে ছিল বাঘ , ভাল্লুক সহ হিংস্র শ্বাপদকূলের অবাধ বিচরন। বন্য হিংস্র প্রাণীদের হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য তারা লেজা , সড়কি , ছেনা নিয়ে দিন রাত পাহাড়া দিত ।

সাধারনত এ এলাকার লোকজনের কছে এরা "মগ" নামে পরিচিত। মগরা পর্তুর্গীজ জলদ্যসু্দের সাথে কোন এক সময় উপকূলবর্তী এলাকা লুটপাট চালাত। রাখাইনরা আসলে মগ নয় । এ নামে তাদের কেউ সম্বোধন করলে তারা খুব অপমান বোধ করে।

রাখাইন পল্লী গুলোতে গেলে চোখে পড়ে তাদের দৈনন্দিন জীবনাচার ও তাঁতে কাপড় বোনার মনোরম দৃশ্যসহ নিজস্ব সংস্কৃতির নানা দিক যা সবার মন করে নেয় আর বয়োবৃদ্ধ রাখাইনদের যে কারো কাছে জিজ্ঞেস করতেই জানা যাবে কিভাবে তারা বনের ভিতর জীবজন্তুর সাথে লড়াই করে গড়ে তুলে ছিল মানব বসতি । কলাপাড়া বা কুয়াকাটায় ভ্রমনে এসে কলাপাড়া পৌরশহরের বৌদ্ববিহার , কুয়াকাটার কেরানিপাড়া , এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহত্ত লতাচাপলী ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়ার বৌদ্ব মন্দির, গোড়া আমখোলা পাড়ার রাখাইন কালাচারাল একাডেমিসহ উপজেলার যেকোন রাখাইন পাড়ায় না গেলে আপনার ভ্রমন অপূর্ণ আর অজানা থেকে যাবে কিভাবে স্বাপদ সঙ্কুল জনপদে তারা গড়ে তুলে ছিল মানব বসতি ।

ফাতারার বনঃ কুয়াকাটা সমুদ্রের বিস্তীর্ন বালিয়াড়ি ছেড়ে পশ্চিমদিকে গেলে চোখে পড়বে ঘোলাজলের ছোট্ট স্রোতস্বিনী একটি নদী ও বীচিমালাবিক্ষুব্দ সাগর মোহনার বুকে জেগে উঠা 'ফাতারার বন' নামক সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল । এর আয়তন কমবেশি ৯৯৭৫০৭ একর । ইতিমধ্যে এটি ' দ্বিতীয় সুন্দরবন ' হিসেবে পরিচিতি ও খ্যাতি পেয়েছে । বনের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া অসংখ্য লেকের দু'পাশে দাড়িঁয়ে আছে কেওয়া , গেওয়া , সুন্দরী , বাইন, কাকড় , গড়ান , গোলপাতাসহ নানা ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং হরিন , বানর , শুকর, কাঠ বিড়াল , বনো মোরগসহ অসংখ্য জীবজন্তু ও পাখপাখালির সমৃদ্বিতে ঘেরা অপরুপ সৌন্দের্যের বনভূমি । এছাড়াও প্রতিবছর শীত মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির উপস্থিতি বনের পর্যটকদের হৃদয় কেড়ে নেয়। বনের ভিতর দিয়ে হাটলে চোখে পড়বে এগাছ থেকে ওগাছে লাফিয়ে বেরাচ্ছে কাঠবিড়াল , বনোমোরগ, বানরের কিচির মিচির শব্দ । কুযাকাটা ভ্রমনে এসে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা এ বনের মনরম দৃশ্য উপভোগ করলে অনেকটা সুন্দরবন দেখার বাসনা পূর্ণ হবে । কুয়াকাটা থেকে ট্রলার যোগে ফাতরার বনে যেতে হবে । কুয়াকাটা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রলার বনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় । ইচ্ছে করলে রিজার্ব করেও যাওয়া যায় । সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট । ইকোপার্ক ও জাতিয় উদ্যানঃ সমুদ্র সৈকতের একেবারে কোল ঘেঁষে প্রায় ২০০একর জায়গায় ষাটের দশকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা নারিকেল কুঞ্জ , ঝাউবন , গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন , পশ্চিমদিকের ফাতরার বন ও মহিপুরের রেঞ্জের বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক ও জাতিয় উদ্যান । সমুদ্রের অব্যাহত ও অপ্রতিরোধ্য ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নারিকেল কুঞ্জ অনেক খানিই বিলিন হয়েছে । এর পূর্ব দিকে বনবিভাগ কতৃক ১৫ হেক্টর বালুভূমিতে তৈরি করা হয়েছে মনোলোভা ঝাউবন । মানব সৃষ্ট হলেও গোধূলী বেলায় সমুদ্র সৈকতে দাড়িঁয়ে ও বিশেষ করে পূর্ণ চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্না রাতে যখন বেলাভূমি থেকে নারিকেল বীথি ও ঝাউবাগানের দিকে দৃষ্টি নিপতিত হয় তখন নিতান্ত বেরসিক মানুষের কাছে ও তা এক অমলিন স্বর্গীয় আবেদন সৃষ্টি করে । আর দিনে ঝাউবনের ভিতর দিয়ে যখন সমুদ্রের নির্মল লোনা বাতাস বয়ে যায় তখন বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ এক নিরবিচ্ছিন্ন ঐক্যতান করে শ্রোতার কানে আনে অনির্বাচনীয় মাদকতা ।

ফেরার পথে যা দেখবেন : কুয়াকাটা হতে ২২ কিলোমিটার আসলেই কলাপাড়া উপজেলা শহর এখানে রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম অটো রাইস মিল , মহাসড়কের পাসেই রয়েছে দেশের অন্যতম আধুনিক আবহাওয়া পূর্ভাবাস কেন্দ্র এখানে কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে আপনি দেখে যেতে পারেন কিভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রাদন করা হয় । কুয়াকাটা ভ্রমনে এসে শুধু প্রকৃতির স্বাধ নিবেন রসনার স্বাধ নিবেন না তা কি করে হয় ! তাই কলাপাড়া বাসস্টান্ড হতে শহরে প্রবেশ করে দেশের ঐতিয্য বাহী জগবন্ধু মিস্টান্ন ভান্ডারের মিস্টি খেয়ে না গেলে কুয়াকাটা ভ্রমনের কান্তি দূর হবেনা । এ মিস্টি একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছে করে ।
     
Untitled Document

কড়াইশুঁটির বিস্ময়
Total Visitor: 708418
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :