Untitled Document
আষাঢ় সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
কড়াইশুঁটির বিস্ময়
আজ মনে মোর যে সুর বাজে কেউ তা শোনে নাই কি। দূর থেকে সর্ষের চোখ ধাঁধানো হলুদটাই কেবল চোখে পড়েছিল। শীতের সঙ্গে সর্ষের এই মাখামাখিটা বড় অদ্ভুত লাগে। গ্রীষ্মের চান্দিফাটা রোদ কিংবা বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে সর্ষেবনের এই রূপ কি ফুটত? শীতের সারাবেলা মিঠেকড়া সূর্যে সরিষাক্ষেতের মন উছলানো রূপ কিংবা ভোরের কুয়াশার চাদর সরিয়ে হলুদ বরণের ধীর উঁকি - অন্য কোনো ঋতুর সাধ্য কি সে সুন্দরকে ফোটায়। গত শীতে হেমায়েতপুর যেতে পথের ধারে এসব দেখেছি। তারপর রাস্তার ঢাল ধরে ক্ষেতে নেমে পড়েছিলাম। সর্ষেফুল সবাই মিলে যেমন সুন্দর, একাকীও তেমনই। কেবল তার মাত্রাটা আলাদা হয়ে যায়। হাঁটুসমান বা তার চেয়ে কিছু কম-বেশী উচ্চতার গাছগুলোর ডালে ডালে নাকফুলের মঞ্জরি ফুটেছে। সঙ্গে প্রাণ কেমন করা গন্ধ। মৌমাছির ভোঁ ভোঁ। এ গন্ধ ছোটবেলায় গরুকে খৈল খাওয়ানোর মধুস্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। সর্ষেবনে রোদ পোহাচ্ছি, চোখ গেল হলুদের প্লাবনে উঁকি দেওয়া লালচে বেগনি আর গাঢ় গোলাপীর মিশেলে ফোটা ফুলগুলোর দিকে। সূর্যের আলোর বিপরীতে সোনাসবুজ হয়ে ওঠা লতার ডগার দিকে গোলচে পাতার পটভূমিতে ফুটেছে ফুলগুলো। গভীর নীল আকাশ, হলুদ ক্ষেত, তারই পটভূমিতে মটরশুঁটির লতায় লতায় ফুল। মটরশুঁটি, কড়াইশুঁটি যার আরেক নাম, ফুলের সঙ্গে এই আমার প্রথম দেখা। ডাল জাতীয় আরো অনেক লতার ফুলই এরকম, অনেক গুল্মজাতীয় গাছের ফুলও তাই। কিন্তু রূপবতী মটরশুঁটি যেন এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তার লতিয়ে ওঠা কাণ্ড, কাণ্ডের মাথায় প্যাঁচালো আকর্ষী, ফুল, তার বৃতি আর তারও নীচে গোল হয়ে ফোটা Ñ ওটা পাতা নাকি বৃতিরই অংশ Ñ সব মিলিয়ে সে এক অনন্য সুন্দর। *ইটালিক অংশটি রবীন্দ্রনাথের একটি গান থেকে নেওয়া।
 

ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ



          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
 
 
Untitled Document

কড়াইশুঁটির বিস্ময়
Total Visitor: 708401
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :