Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে কি?
- শিমন বাস্কে


সংবিধান সংশোধন করে ৭২’এর সংবিধান পুন:স্থাপন করার ঘোষনায় বিগত কিছুদিন ধরে মনের ভেতর প্রচন্ড ব্যাথা। বর্তমান জোট সরকার থেকে সরে আসে এবং আদিবাসী স্বীকৃতি না দিয়ে যেন আমাদের মত মানুষদের তুলে আছাড় মারল। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন হওয়ার পর কমিটির বিভিন্ন সদস্য বিভিন্ন সময় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা বলেছেন। তাই তো আদিবাসী জনসাধারণ, নেতা-নেত্রীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল। সেই পর্যন্তই, আশায় গুড়ে বালি। বাংলাদেশের সবাইকে বাঙ্গালী আর দেশী হিসেবে বাংলাদেশী করা হলো। মহান সংসদে ১৪ দলের শরিক দল জাসদ ও ওয়ার্কাস পার্টি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সম্মতি দিল। যেন আদিবাসীদের উদিয়মান আশার আলো মাটি চাপা দিয়ে কংক্রিট ঢালাই দেওয়া হল। সংবিধান সংশোধনী সংসদে উপস্থাপন করার পূর্বেই বহুভাবে কি হতে যাচ্ছে তার আলামত বোঝা যাচ্ছিল। যেমন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের বিদেশী হাই কমিশন বিভিন্ন সময় তার ইঙ্গিত দিয়েছে। শেষে পত্রিকা মারফত জানা গেল আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে দেশে বিরাট অঘটন ঘটে যেতে পারে (গোয়েন্দা রিপোর্ট)। প্রতিটি উক্তি আদিবাসীদের চাবুকের মত আঘাত দিতে থাকল।
গত ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তিতে আদিবাসী সংখ্যালঘুদের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তা ’৭১-এর যন্ত্রণাকেও হার মানিয়েছে। বর্তমান সরকার সেই নির্যাতন সম্পর্কে ভালভাবে অবগত আছে। একটি তদন্ত কমিটি করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন প্রশ্ন হলো কেন সেদিন আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল? কারণ তখনকার জামাত-বিএনপি জোট সরকার বিশ্বাস করত সংখ্যালঘুরা চারদলীয় জোটকে ভোট দেয়নি। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় তাদের ভোট দেওয়ার অপরাধে সেদিন তাদের এমন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। কতোজন সম্ভ্রম হারিয়েছেন, জীবন হারিয়েছেন এবং দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তার কিছু খন্ডচিত্র লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের ‘শ্বেতপত্র’ এবং ‘আমাদের বাঁচতে দাও’-এ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আমাদের প্রত্যাশা বেশি ছিল। আমরা নিজেদের অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বেশি আশাবাদি হয়েছিলাম। না পাওয়ার ব্যাথা তাই আমাদের বেশি কষ্ট দিয়েছে। আপন লোক কষ্ট দিলে তো কষ্ট বেশি পাওয়ারই কথা।
বিগত সময় জামাত বিএনপিজোট ক্ষমতায় ছিল তাই ধরেই নিয়েছি অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেই আমাদের বাঁচতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তেমন কোন পরিবর্তন এসেছে কি? খবরের কাগজ খুজলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর সব খবর তো পত্রিকাতে আসে না। এই সব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্রিকায় লেখেন এই রকম লোকও হাতে গোনা কয়েকজন। আর উত্তরের আদিবাসীদের জন্য লেখেন সে রকম মাত্র একজন আছে। তাও আবার একটি পত্রিকায়। অন্যপত্রিকা নাকি লেখা ছাপাতে চায় না। তবুও যতটুকু পারা যায় একটি পত্রিকায় নিয়মিত অন্যায়,অবিচার,অধিকার এবং কল্যাণের কথা লেখেন।
আজ সকালে অনলাইনে (আমাদের সময় )একটি খবর দেখে আমার চোখ আটকে গেল। লেখকের বোনকে কে বা কাহারা হত্যা করে বিবস্ত্র অবস্থায় গাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখেছে। ফোন করলাম উনি কথা বলতে পারলেন না। যিনি সব আদিবাসী সংখ্যালঘুদের চিন্তা করেন,সব আদিবাসী সংখ্যালঘুদের কষ্টের জন্য কষ্ট পান তিনি আজ ভীষণ মনকষ্টে। ক্ষমতাসীন সরকারের সংবিধান সংশোধন এবং আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন জায়গায় অন্যায় অত্যাচারের কারণে এমনিতেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ চলছিল,এর মধ্যেই হঠাৎ করেই তার বোনটির এমন অবমাননাকর হত্যাকান্ডের ব্যাথায় লেখক এখন কি করবেন? আমরা জানি এই হত্যাকান্ডের পর যথারীতি একটি মামলা হবে,তদন্ত হবে কিন্তু কোন ন্যায় বিচার পাবে কি? আলফ্রেড সরেনকে প্রকাশ্য দিনের বেলায় হত্যা করার পর মামলা হয়েছিল,তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছিল কিন্তু কোন আসামীর সাজা হয়নি। এব্যাপারে লেখক মিথুশিলাক অনেক লেখা লিখেছেন। পুরো গ্রামটা উচ্ছেদ হয়েছে। এখন আমার প্রিয় লেখক মিথুশিলাক মুর্মুর বোনের বিচার কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। আমরা আশা করি যারা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের হোতা তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেওয়া হোক। আর যদি তা না হয় তাহলে আদিবাসীদের বিশ্বাস হারিয়ে যাবে। এই সরকার আদিবাসী সংখ্যালঘুদের পক্ষের সরকার তা প্রমাণ করতে হবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে। তবেই আমাদের রক্তক্ষরণ কিছুটা কমবে।
     
Untitled Document

পুঁতিফুল
Total Visitor: 709948
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :