Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
কয়লা খনি চাই না
ফুলবাড়ি


মিডিয়া প্রপাগান্ডা

কয়লার খনি চাই না

খনি সন্ধানের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ নানা বিদেশী কেম্পানি ও তাদের চামচা এদেশীয় এজেন্টদের কাছে আকর্ষণীয় ভূমি। এদেশে কয়লা অনুসন্ধানের সাফল্যে,নিশ্চয়ই বিদেশী কেম্পানিগুলো ও তাদের দেশীয় এজেন্টরা খুশি। কারণ বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ জুড়েই কয়লা জোন। ভাগে কত পাওয়া যাবে সেই হিসাবেই তারা ল্যাপটপে অংক কষছে। মোটাদাগে মুনাফাই তাদের লক্ষ্য- এটা বুঝতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীর দরকার হয় না।

কয়লা অঞ্চলের শিকার অত্যন্ত সাধারণ মানুষ, সেকালে এ মানুষদেরকে ডাকা হতো প্রজা বলে। কথা, সেই সাধারণ মানুগুলোর নিজ ভূমি-সংস্কৃতি-সম্পর্ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া নিয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ যাদের প্রধান অংশ সমতলের মৌলিক মালিক আদিবাসী সাঁওতাল সহ হিন্দু-মুসলমান। তাদের বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে নিয়ে পারস্পরিক সারল্য নির্ভর কৃষি ভিত্তিক এই সমাজ। দিনাজপুরের ফুলবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী আরো পাঁচটি উপজেলার মানুষকে তাদের নিজ ভূমি (তিন ফসলী জমি) থেকে উচ্ছেদ করে “উন্মুক্ত কয়লা খনি” করার চক্রান্ত চলছে। যা জাতীয় জনস্বার্থ বিরোধী। কয়লা উত্তোলনের ঠিকাদার এশিয়া এনার্জিকে শুধু শত্রুপক্ষ বানিয়ে যারা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা বলে এখনও কয়লা তুলতে চাইছেন তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্য আকাশ-পাতাল । এই কয়লার খনি থেকে আর্থিক সম্ভাবনা তাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।

“ওপেন পিট মাইনিং” এশিয়া এনার্জির পছন্দের পদ্ধতি। আর আন্দোলনের এক অংশ এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে, সম্পূর্ণ কয়লা তোলার বিরুদ্ধে নয়। তর্ক চলছে কয়লা তোলার প্রক্রিয়া নিয়ে। আবার তারাই ফুলবাড়িবাসীর সাথে গলা মিলিয়ে বলছে “কয়লা খনি চাই না।” এ এক প্রহসন! কয়লা উত্তোলনের শিকার হওয়া পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে এতই চিন্তা (!) যেন ফুলবাড়ি থেকে কয়লা তোলা হবেই।

কয়লা তোলা চলবে ৩০ বছর ধরে। আর যে পরিমাণ কয়লা মজুদ আছে তা চলবেও ৩০-৪০ বছর। আর ৩০ বছর পর পুরো অঞ্চল হবে মরুভূমি সহ বিষাক্ত জলাধার। পরিবর্তিত হবে নদীর গতিপথ। পরবর্তী সময়ের দেশের জ্বালানীর সংকটের কথা ভাবনায় নেই। “এইসব জাতীয় বিষয় নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তাদের পুত্র-কন্যা গণ এদেশে বড় হবেন না। তাদের খাদ্যাভ্যাসেও থাকবে না ভাত”- ফুলবাড়িবাসীর মুখের কথা এমনটাই।

সুজলা-সুফলা এই ভূমিকে কয়লার খনির নামে যেসব বিদেশী কেম্পানি বলাৎকার করতে চাচ্ছে সেখানে আমাদের তথাকথিত “সম্পদ” নামের এই কয়লা যখন দেশীয় কেম্পানি বা আমাদের সোনার ছেলেরা তাদের নিজস্ব টেকনোলজি ব্যবহারে তুলতে চাইছেন তখন কী আমরাই সেই জঘন্য কাজটি করছি না??

প্রপাগান্ডায়ঃ সাপলুডু . কম
Untitled Document
 
Total Visitor: 708605
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By : Life Yard