Untitled Document
শ্রাবণ সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
 


আজ শ্রাবনের পূর্ণিমাতে...
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা  শোকাহত ।



তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'মুক্তির গান'



যে মৃত্যু আমাদেরকে অপরাধী করে না--খুনী করে



লিখেছেনঃ কুলদা রায়

একজন একাত্তরের মুক্তির গান নিয়ে ফিল্ম করেছিলেন। আরেকজন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাঁর বাবা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে একাত্তরে হত্যা করেছিল পাকবাহিনীর দোসররা। দুজনই গভীরভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তারা গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় রূপসা শালজানা গ্রামে একিম উদ্দিনের বাড়িতে কাগজের ফুল সিনেমার স্পট দেখতে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ, শিল্পীদম্পতি ঢালী আল মামুন ও দিলারা বেগম জলি এবং কয়েক সহকর্মী। ইত্তেফাক লিখেছে--সেখান থেকে তারা লোকেশন পরির্দশন ও কিছু কাজ শেষে এটিএন নিউজের সিইও মিশুক মুনীরসহ অন্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-০৩০২) ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর বিপরিত দিক থেকে আসা চুয়াডাঙ্গার পাথুরিয়াগামী সিডি ডিলাক্স পরিবহনের একটি কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪২৮৮) সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ক্যাথেরিন মাসুদ, শিল্পীদম্পতি ঢালী আল মামুন ও দিলারা বেগম জলি মৃত্যুর সঙ্গে এখন পাঞ্জা লড়ছেন। চালকসহ মাইক্রোবাস আরোহী ৯ জনের মধ্যে প্রোডাকশন বয় সাইদুর রহমান (২৫) অক্ষত রয়েছে। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকের আসনসহ ডান দিক দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জোকা বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ৩শ’ ফুট পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি বিপজ্জনক মোড় অতিক্রমকালে কোচচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান দিকে এসে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসকে আঘাত করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনীর পথে নাই হয়ে গেলেন। এ মৃত্যু পূরণ হয় না। আমাদেরকে আরও শূন্য করে দিয়ে যায়। কিছু অসৎ মানুষ পূর্ণ হয়।

যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, সামনের বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়েই তারা মারা পড়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি, তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি একটি বাসের পেছনে পেছনে যাচ্ছিল। বাসটিকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আরেকটি বাস আসলে সংঘর্ষ হয়। এভাবে ওভারটেক করা ঠিক হয়নি। রাস্তা বা সিগনালের কারণেও এ দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সোজাকথায় প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এ মৃত্যুর দায় মৃতদের উপরেই চাপিয়েছেন। এই লোকটি তার মেয়েটি রুবাইয়েতকে দিয়ে মেহেরজান ছিঃনেমা করে মুক্তিযুদ্ধকে চাপা দেওয়াচ্ছে। আর নিজে মুক্তবুদ্ধিকে বাস চাপা দিচ্ছে।

রাষ্ট্র এখন এখন আজবকাল অতিক্রম করছে। দেশে দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মানুষের খাবার কিনে খাওয়ার উপায় নাই। বানিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারকে তাদের বস্তাবন্দী করে ফেলেছে। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ না করে মন্ত্রী বলছেন, মানুষ কম খেলেই পারে। দোষটা অসৎ ব্যবসায়ীদের নয়। অর্থমন্ত্রী বলছেন বাজারে যাওয়া ছেড়ে দিন। দোষটা বাজারের না--দোষটা না খেতে পাওয়া অর্থহীন জনগণের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিজের পালিতপুত্রকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন--আর সন্দেহের বশে লোকজনকে পিটিয়ে খুন নিশ্চিত করাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি খুনীদের ছেড়ে দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলছেন, রাষ্ট্রধর্ম বজায় রেখেছি। এখন আল্লা আল্লা করেন। আর বিরোধিদলের নেত্রী তার দুর্নীতিগ্রস্থ পুত্রদের রক্ষায় হরতাল দিচ্ছেন। রাষ্ট্রটা খুনীদের তাল্লুকে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আর আমরা হচ্ছি গাছপাথর। আমরা নড়ে চড়ে উঠছি না।
এই মৃত্যু আমাদেরকে অপরাধী করে না। খুনী করছে।
     
Untitled Document

পুঁতিফুল
Total Visitor: 708603
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com
Copyright © Life Bangladesh Developed and Maintained By :