Untitled Document
ভাদ্র সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
লাশকাটা ঘরে, মৃত্যুময় ঘোরে
- শুভ কিবরিয়া


মৃত্যুগুলো ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হানলো। চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ আর সাংবাদিক মিশুক মুনীরের মৃত্যু এক কালোঝড়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে গেল। কিন্তু এ অভিজ্ঞতাই কি শেষ কথা? এই মৃত্যুর পরপরই সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, অভিজাত খরুচে হাসপাতালে অবহেলায় প্রাণ গেল ড. মৃদুল কান্তি চক্রবর্তীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষকের মৃত্যুর কারণ ডিহাইড্রেশন। অসুস্থ মৃদুল কান্তিকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সারতেই লেগেছে বেশ ক’ঘন্টা। ততক্ষণে ড. মৃদুল কান্তি পানির অভাবে ডিহাইড্রেশনে মারা গেছেন বলে তার আত্মীয়রা অভিযোগ করেছেন।
তারেক মাসুদ আর মুশীক মিনুর যেদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন, সেদিনই পাবনায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। ওই পাঁচজনের প্রায় সবাই অখ্যাত বলে সেটি তেমন আলোড়ন ফেলেনি। তার ঠিক একদিন কি দুদিন আগেই উত্তরায় র‌্যাব গুলি করে মেরে ফেলল তিনজন যুবককে। র‌্যাবের সংবাদ কনফারেন্সের বক্তব্য ওরা সন্ত্রাসী। খুব সভ্য প্রশ্ন, সন্ত্রাসী হলেই কি গুলি করে মেরে ফেলা যায়?

২.
এসব মৃত্যু এখন খবরের পাতা ভরাচ্ছে। প্রতিদিন অজস্র অনাকাক্সিক্ষত, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। দেশের বড় আদালতে দুই দলের আইনজীবীদের বাহাসের পরিণতিতে পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এক আইনজীবী। এ যে নিত্যদিনের মৃত্যু, মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতি আর ক্ষমতার সাদা প্রেম, আর কতদিন এসব চলবে? জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আশ্রয়ে যেয়ে তাই বলতে ইচ্ছে করেÑ
‘জানিÑ তবু জানি
নারীর হৃদয়Ñ প্রেমÑ শিশুÑগৃহÑনয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়Ñ
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
লাশকাটা ঘরে’


৩.
মৃত্যুর খবর এখন দেশজুড়ে। কে মারা যাচ্ছে, তার সামাজিক ভিত্তি কি, সমাজে তার শক্তিমান অবস্থান কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে ওই মৃত্যুর খবর মিডিয়ায় থাকছে। দুর্বল, ক্ষমতাহীনদের মৃত্যুর খবর খুব দ্রুত অপসারিত হচ্ছে। খুবই আলগোছে হারিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের মীরসরাইতে চল্লিশজন স্কুল ছাত্র (যাদের অধিকাংশই গরিব নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হবার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই খবরও হারিয়ে গেল। সেই শোকগ্রস্থ পরিবারগুলোর অবস্থা কি? দোষী বাস চালকের শাস্তির ব্যবস্থা কি নেয়া হচ্ছে!Ñ এসব খবর এখন নেই মিডিয়ায়।
মিডিয়ায় জায়গা পায়নি, তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের সঙ্গে নিহত মাইক্রোবাসের ড্রাইভার, দুজন চলচ্চিত্রকর্মীর কথা। তারা কোন পরিবারের সন্তান, তাদের অবস্থা কি, মৃত্যুর পর কোথায় তাদের কবর দেয়া হলো তার কোনো খবর কিন্তু আসেনি মিডিয়াতে। এই তিনজন মানুষের আচানক মৃত্যু কি পরিবর্তন আনল তাদের পরিবারেÑ সেই মর্মন্তুদ, দুঃসময়ঘোরে ঘেরা খবর অজানাই রয়ে গেল আমাদের কাছে।

৪.
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রভাবশালী খ্যাতিমান ব্যক্তির মৃত্যুর পর এখন নড়েচড়ে বসেছে খোদ সরকারই। ৬৯০ কোটি টাকা ছাড় দেয়া হচ্ছে। টেন্ডার আগেই করে রেখেছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর। টাকা হাতে এলেই চলবে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার কাজ। কাজ যারা পাবেন তাদের পোয়া বারো। কেননা ঈদের আগেই কাজ শেষ করতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে সরকার আড়াই বছরে যে কাজ করেনি, করতে পারেনি, সাত দিনে তা করবে। সুতরাং কাজের মান নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। অনেক সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী এই ৬৯০ কোটি টাকা সরকারি দলের ও সরকারি দপ্তরের লোকজনের ‘ঈদ বোনাস’ হিসেবে কাজ করবে।
খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকর্মী তারেক মাসুদ, কীর্তিমান সাংবাদিক মিশুক মুনীরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ত যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ভাগ্য আরও সুপ্রসন্ন করল। উনার মুখের হাসি হয়ত বাড়তি ৬৯০ কোটি টাকায় আরও উজ্জ্বল হবে। আরও দীর্ঘায়ু হবে।
ঘরে ঘরে পড়–ক কান্নার রোল। আর হাসিতে -খুশিতে- টাকায়- কড়িতে গড়াগড়ি খাক আবুল হোসেন এবং তার বড় কর্তারা!!
     
Untitled Document
প্রদর্শনী

বাংলার জল-ছবি
তন্দ্রা মুখার্জী

video video
Copyright © Life Bangladesh
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com